- তালামীযে ইসলামিয়া বৃহত্তর নাজির বাজার আঞ্চলিক শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন
- শাহজালাল মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করলেন সিসিক মেয়র পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম ফেনু
- সিলেটে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ (বাবৌযুপ) এর বার্ষিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬ সম্পন্ন
- রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিক্রির চক্রান্ত বন্ধ করুন : বাসদ
- কোর্টপয়েন্টে সিলেট মহানগর জামায়াতের গণমিছিল শনিবার
- সরকারি জায়গা উদ্ধার না করে কবরস্থানের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধ
- জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না : সিলেট মহানগর জামায়াত
- গাছ ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার প্রতীক : মিফতাহ্ সিদ্দিকী
- সিলেট নজরুল একাডেমীর নবকমিটিকে এমপি এমরান চৌধুরীর অভিনন্দন
- জাতীয় অতিথি ও প্রশাসনের অংশগ্রহণে রথযাত্রা পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
» তালামীযে ইসলামিয়া বৃহত্তর নাজির বাজার আঞ্চলিক শাখার কাউন্সিল সম্পন্ন
Published: ৩১. জুলা. ২০২৬ | শুক্রবার
সভাপতি আল আমিন, সম্পাদক আব্দুল বারিক রাব্বি
নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া দক্ষিণ সুরমা থানাধীন বৃহত্তর নাজির বাজার আঞ্চলিক শাখার ২০২৬-২৭ সেশনের কাউন্সিল ও অভিষেক সম্পন্ন হয়েছে। এসময় আঞ্চলিক শাখার ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বাদ জুমুআ নাজির বাজার আঞ্চলিক শাখার কার্যালয়ে কাউন্সিল ও নবনির্বাচিত দায়িত্বশীলদের অভিষেক সম্পন্ন হয়।
কাউন্সিলে সর্বসম্মতিক্রমে আল আমিনকে সভাপতি, আব্দুল বারিক রাব্বিকে সাধারণ সম্পাদক ও সায়মন আহমদকে সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও নবনির্বাচিত দায়িত্বশীলদের শপথবাক্য পাঠ করান, দক্ষিণ সুরমা থানা শাখার সভাপতি আব্দুল মুছাব্বির রইয়ব, সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ সুরমা থানা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান তালুকদার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ সুরমা থানা শাখার সহ-সভাপতি মারজান হুসেন ফাহিম, রুহেল আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান তালুকদার, মো. সুমন মিয়া, জাকির হোসেন, সহ-প্রচার সম্পাদক নাজমুল ইসলাম ছায়েম, অফিস সম্পাদক নুরুল আমিন।
নতুন কমিটির অন্যান্যা দায়িত্বশীলরা হলেন, সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম, শেখ মোস্তাকিম আহমদ, সহ-সাধারণ সম্পাদক কিবরিয়া আলম মাহি, আহবাব হোসেন, সাকিল আহমদ মাছুম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আলাদ্দিন আল হাদি, মাহিন আহমদ, প্রচার সম্পাদক অলিউর রহমান হামযা, সহ প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান মারুফ, পারভেজ হাসান, অর্থ সম্পাদক হোসাইন আহমদ, অফিস সম্পাদক নজির আহমদ, সহ অফিস সম্পাদক সাজন আহমদ, আব্দুল আহাদ প্রশিক্ষণ সম্পাদক ইয়াসিন আহমদ, সহ প্রশিক্ষণ সম্পাদক ইমন আহমদ, আতিকুর রহমান, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আমিন মাহদি, সহ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সাইফুর হক ওহি, রেদওয়ান আহমদ, তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সহ তথ্য ও প্রযুক্তি সম্পাদক , জাবেদ আহমদ, শুভ আহমদ, সদস্য তামিম ইকবাল, আবু বকর ছায়েম, নাঈম আহমদ, মামুন, রাহিম প্রমুখ।
» শাহজালাল মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করলেন সিসিক মেয়র পদপ্রার্থী রফিকুল ইসলাম ফেনু
Published: ৩১. জুলা. ২০২৬ | শুক্রবার
নিউজ ডেস্কঃ
আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রফিকুল ইসলাম ফেনু তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন।
শুক্রবার বাদ জুম্মা সিলেট নগরীর ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে তিনি এ প্রচারণা শুরু করেন।
জিয়ারত শেষে মাজার প্রাঙ্গণে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে আলাপকালে রফিকুল ইসলাম ফেনু বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে নির্বাচনে আসি নাই; সিলেটের একজন সাধারণ সন্তান হিসেবে নগরবাসীর নাগরিক অধিকার ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।
দল-মত নির্বিশেষে এই পূণ্যভূমি সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য, যানজটমুক্ত ও সুপরিকল্পিত আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে ও সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও নগরবাসী সুযোগ দিলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে সিলেটের সর্বাঙ্গীন উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করব।”
রফিকুল ইসলাম ফেনু সিলেট নগরীর পশ্চিম কাজল শাহ এলাকার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের কৃতি সন্তান। পেশায় সফল ব্যবসায়ী হলেও কোন ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে তাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। কোনো দলীয় বলয়ের ভেতরে না থেকে একজন সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নাগরিক প্রার্থী হিসেবেই তিনি নগরবাসীর কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করছেন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সংগঠনের সাথে সরাসরি যুক্ত হয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন রফিকুল ইসলাম ফেনু।
সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের যেকোন দুর্যোগ-দুর্বিপাকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সিলেটের আঞ্চলিক উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি ও নাগরিক অধিকার আদায়ের বিভিন্ন আন্দোলনেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
মাজার জিয়ারতকালে উপস্থিত ছিলেন, কাওসার উদ্দিন পাপ্পুু, মৌলানা রইছ উদ্দিন, ইউসুফ সেলু, কামাল খান, সুহেল আহমদ সহ পশ্চিম কাজল শাহ এলাকার বিশিষ্ট মুরুব্বিয়ান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় তরুণসমাজ এবং রফিকুল ইসলাম ফেনুর বিপুলসংখ্যক সমর্থক ও অনুরাগী উপস্থিত ছিলেন।
জিয়ারত শেষে তিনি মাজার সংলগ্ন এলাকা ও আশপাশের সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের সাথে কুশল বিনিময় করেন।
» সিলেটে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ (বাবৌযুপ) এর বার্ষিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬ সম্পন্ন
Published: ৩১. জুলা. ২০২৬ | শুক্রবার
বৃক্ষ শুধু আমাদের পরিবেশেরই ভারসাম্য রক্ষা করে না বরং মানবজাতির জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য : মিফতাহ সিদ্দিকী
নিউজ ডেস্কঃ
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেছেন, শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের এই সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
বৃক্ষ শুধু আমাদের পরিবেশেরই ভারসাম্য রক্ষা করে না, বরং মানবজাতির জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য। ধর্মীয় উৎসবের আবহে এমন জনকল্যাণমূলক কাজ সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পরিবেশ সচেতনতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
আমাদের প্রতিটি নাগরিকের উচিত পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসা এবং নিজ নিজ জায়গা থেকে গাছ লাগানো ও তার যত্ন নেওয়া। বাংলাদেশে সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ যুগে যুগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করে আসছে। এই সম্প্রীতির বন্ধনকে চিরকাল অটুট রেখে আমাদের একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সিলেট মহানগরীর প্রানকেন্দ্রে “সিলেট রক্তের অনুসন্ধানে আমরা” সংগঠন এর সার্বিক সহযোগিতায়, “স্বপ্নের বিদ্যানিকেতন” স্কুল ও সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বৌদ্ধদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা ২০২৬ উপলক্ষে বিশ্ব বৌদ্ধ সৌভ্রাতৃত্ব সংঘ-যুব (ডবলিউএফবি-ওয়াই) ও বিশ্ব বৌদ্ধ সংহতি (ডবলিউএবি) সংঘ এর আঞ্চলিক কেন্দ্র বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ-জাতীয় কমিটি ও সিলেট অঞ্চল কমিটির যৌথ উদ্যোগে বার্ষিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন, বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদ সিলেট অঞ্চল এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি উৎফল বড়ুয়া সাথে ছিলেন, সিনিয়র সহ সভাপতি তপতি বড়ুয়া, সদস্য শেলু বড়ুয়া, সীমান্ত বড়ুয়া জয়, সেতু বড়ুয়া মুক্তা।
আরো বক্তব্য রাখেন, মহানগর হাসপাতালের পরিচালক মাসুদ আহমেদ, সাংবাদিক আমীর হোসেন সোহাগ, আরো উপস্থিত ছিলেন সিলেট রক্তের অনুসন্ধানে আমরা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা তারেক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মুবিনুল ইসলাম সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান আহমদ শাহান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আকরাম খান বাপ্পি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিব আহমেদ সহ-প্রচার সম্পাদক আরমান খান রাব্বি, সুপার উইমেন্স টিমের সহ-সভাপতি আকলিমা বেগম,সুপার উইমেন্স টিমের প্রচার সম্পাদক তানজিনা আক্তার প্রমুখ।
এছাড়াও এতে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ স্বপ্নের বিদ্যা নিকেতন স্কুলের কোমল মতি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তাগণ বলেন, শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমার ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি প্রকৃতি সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বাংলাদেশ বৌদ্ধ যুব পরিষদের এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন প্রশংসার দাবি রাখে।
তাঁরা আরো বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, বন উজাড় ও পরিবেশ দূষণের বর্তমান সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি পরিণত গাছ শুধু অক্সিজেনই সরবরাহ করে না, বরং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটির ক্ষয়রোধ এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আয়োজকরা বলেন, “আজকে করছি বৃক্ষ রোপণ, নিত্য করবো তাদের যতন”-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুধু গাছ লাগানো নয়, বরং প্রতিটি চারা নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি শেষে প্রধান অতিথি স্বপ্নের বিদ্যা নিকেতন স্কুল পরিদর্শন করেন।
» রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান বিক্রির চক্রান্ত বন্ধ করুন : বাসদ
Published: ৩১. জুলা. ২০২৬ | শুক্রবার
নিউজ ডেস্কঃ
রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪টি শিল্প কারখানা ঢালাওভাবে দেশি-বিদেশি লুটেরাদের কাছে বিক্রির সরকারি চক্রান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকাল ৫টায় ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে সিলেট জেলা বাসদ আহ্বায়ক আবু জাফর এর সভাপতিত্বে ও জেলা সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পাল এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, নাজিকুল ইসলাম রানা, এম এ ওয়াদুদ,জহর সিংহ, প্রিতম দাশ, শহীদ আহমদ,মেঘদাদ, জাহেদ আহমদ, মাহফুজ আহমদ প্রমুখ।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কর্তৃক ঢালাওভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানাসমূহ দেশি-বিদেশি বেসরকারি কোম্পানির বিনিয়োগের জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ৫টি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৪৪টি শিল্প প্রতিষ্ঠান উন্মুক্ত করার তথা বিক্রির গণবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে সরকার।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক শিল্প কল কারখানা ঢালাওভাবে নিলামে তোলার উদ্যোগ দেখে মনে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বানরের পিঠা ভাগ করা হচ্ছে।
দশ হাজার একরেরও বেশি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত ৪৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প কারখানা ‘বিদ্যমান শিল্পসম্পদে পুনঃবিনিয়োগ’, ‘পুনর্গঠন ও পুনঃউন্নয়ন’, ‘ইজারাভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি ইজারাভিত্তিক ব্যবস্থা’, ‘যৌথ উদ্যোগ’, ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ ইত্যাদি নামে দেশি-বিদেশি বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ মূলত রাষ্ট্রীয় সম্পদ তথা জনগণের সম্পদের ওপর কর্পোরেট পুঁজির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক সুপরিকল্পিত উদ্যোগ।
নেতৃনৃন্দ বলেন, সরকার এই উদ্যোগকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কর্মসূচি হিসেবে মিথ্যা প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর পরামর্শে অনুসৃত নয়া উদারীকরণ ও বেসরকারিকরণ নীতিরই ধারাবাহিকতা মাত্র।
বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ এবং দেশি-বিদেশি বৃহৎ কর্পোরেট পুঁজির চাহিদা অনুযায়ী রাষ্ট্রকে উৎপাদন ও শিল্প পরিচালনা থেকে সরিয়ে দিয়ে কেবল বেসরকারি পুঁজির পৃষ্টপোষকতার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার যে নীতি বিগত সরকারগুলোর আমল থেকে অনুসরণ করা হচ্ছে, এই উদ্যোগ তারই ধারাবাহিকতা। লোকসানি, অদক্ষ, উৎপাদনশীলতার ঘাটতি ও অকার্যকর।
বাস্তবতা হলো, পরিকল্পিতভাবে অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও মাথাভারী প্রশাসন জিইয়ে রাখা, সময়মতো অর্থ ছাড় না করে, প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ না করে ও যন্ত্রের আধুনিকায়ন না করে, উৎপাদন সামগ্রীর বহুমূখিকরণ না করে, শ্রমিক প্রতিনিধসহ অংশিজনদের সমন্বয়ে দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করে, ট্রেড ইউনিয়ন সমূহ সরকারী শ্রমিক সংগঠন কর্তৃক দখল করে এবং সরকার নীতিগত অবহেলার মাধ্যমে বহু রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পকে পরিকল্পিতভাবে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়ে লোকসানী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হয়েছে।
এরপর সেই সংকটে সৃষ্ট লোকসানকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে জনগণের সম্পদ অতীতের মতোই পানির দামে বেসরকারি মালিকানায় তুলে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এটি কোন অর্থনৈতিক সংস্কার নয়; বরং ধাপে ধাপে রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদের বেসরকারিকরণ তথা হরিলুটের নীতি।
» কোর্টপয়েন্টে সিলেট মহানগর জামায়াতের গণমিছিল শনিবার
Published: ৩১. জুলা. ২০২৬ | শুক্রবার
নিউজ ডেস্কঃ
» সরকারি জায়গা উদ্ধার না করে কবরস্থানের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধ
Published: ৩১. জুলা. ২০২৬ | শুক্রবার
» জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না : সিলেট মহানগর জামায়াত
Published: ৩১. জুলা. ২০২৬ | শুক্রবার
জামায়াত কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসুচীর অংশ হিসেবে চব্বিশের জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় সিলেট মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পুর্তি উপলক্ষে সিলেট মহানগর জামায়াত ঘোষিত মাসব্যাপী কর্মসুচীর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলে মহানগর আওতাধীন বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও জনশক্তি অংশগ্রহণ করেন।
মাহফিলে জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিজ মাওলানা মিফতাহুদ্দীন।
মাহফিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলেন, চব্বিশের জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তাদের আত্মত্যাগ জাতির জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের পরিবারের ত্যাগও জাতির কাছে স্মরণীয়। শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তারা আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
মাহফিলে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, মহানগর সহকারী সেক্রেটারী জাহেদুর রহমান চৌধুরী, মহানগর জামায়াত নেতা মাওলানা আব্দুল মুকিত, মাওলানা এটিএম শামসুদ্দিন ও সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা নাজির উদ্দিন প্রমূখ।
» গাছ ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতার প্রতীক : মিফতাহ্ সিদ্দিকী
Published: ৩১. জুলা. ২০২৬ | শুক্রবার
নিউজ ডেস্কঃ
» সিলেট নজরুল একাডেমীর নবকমিটিকে এমপি এমরান চৌধুরীর অভিনন্দন
Published: ৩১. জুলা. ২০২৬ | শুক্রবার
নিউজ ডেস্কঃ
দীর্ঘ দেড়যুগ পর ‘সিলেট নজরুল একাডেমী’র নতুন কমিটি গঠন হওয়ায় নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
সংবাপত্রে প্রদত্ত এক এক অভিনন্দন বার্তায় তিনি বলেন, “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন, সাম্য, মানবতা ও দ্রোহের কবি। নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টি ও আদর্শ তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে নজরুল একাডেমী সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।
আমি বিশ্বাস করি, এই নতুন নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে নজরুল একাডেমী তার অতীতের গৌরবময় ইতিহাস ফিরে পাবে এবং সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে সরকারি মদনমোহন কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফরিদ আহমদ-কে সভাপতি এবং বিশিষ্ট ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আহমদ জুলকারনাইন-কে সাধারণ সম্পাদক করে আগামী ৩ বছরের জন্য ৬১ সদস্যবিশিষ্ট এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
» জাতীয় অতিথি ও প্রশাসনের অংশগ্রহণে রথযাত্রা পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত
Published: ৩১. জুলা. ২০২৬ | শুক্রবার
নিউজ ডেস্কঃ
জাতীয় পর্যায়ের অতিথি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের রথযাত্রা মহোৎসব এক মহামিলনমেলায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন, ইসকন বাংলাদেশের রিসলভের চেয়ারম্যান যুগধর্ম দাস অধিকারী।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে ইসকন সিলেটের নতুন অভ্যর্থনা কক্ষে অনুষ্ঠিত রথযাত্রা পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
যুগধর্ম দাস অধিকারী বলেন, “এবারের রথযাত্রায় জাতীয় পর্যায়ের অতিথি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ রথযাত্রাকে এক মহামিলনমেলায় পরিণত করেছে।
এ ধরনের অংশগ্রহণ সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও সুদৃঢ় করবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইসকন সিলেটের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ।
তিনি বলেন, “রথযাত্রার সাফল্য সকল ভক্ত, সেবক, শুভানুধ্যায়ী ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। ভগবানের সন্তুষ্টির জন্য নিঃস্বার্থ সেবাই ভক্তির প্রকৃত পরিচয়। এই সেবার মনোভাব ও ঐক্য ভবিষ্যতেও বজায় রাখতে হবে।”
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, সিলেট বিভাগীয় কমিটির স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বিভাগীয় সম্পাদক রসিক অদ্বৈত দাস অধিকারী।
এ সময় বক্তব্য দেন, ইসকন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক ভাগবত করুনা দাস ব্রহ্মচারী, ইসকন সিলেট বিভাগীয় কমিটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমাজসেবা বিভাগের সম্পাদক বুদ্ধি গৌর দাস অধিকারী,ইসকন সিলেটের বিভাগের বিভাগীয় কমিটির বিবাহ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সম্পাদক বলদেব কৃপা দাস অধিকারী, ইসকন সিলেটের বিভাগের বিভাগীয় কমিটির ভুমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের বিভাগীয় সম্পাদক শ্রীধর সুধাম দাস অধিকারী, ইসকন সিলেট মন্দিরের গৃহস্থ কাউন্সিলের সভাপতি সুমঙ্গল গৌর দাস অধিকারী, ইসকন সিলেট বিভাগীয় কমিটির অর্থ ব্যবস্থাপনা বিভাগের বিভাগীয় সম্পাদক অচিন্ত্য নিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারী,
ইসকন সিলেট বিভাগীয় কমিটির অফিস ব্যবস্থাপক সচ্চিদানন্দ শ্যাম সুন্দর দাস, ইসকন সিলেটের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক সিদ্ধ মাধব দাস অধিকারীসহ ইসকন সিলেটের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। বক্তারা রথযাত্রা মহোৎসব সফল করতে সহযোগিতা করা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবক এবং সকল ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে রথযাত্রা মহোৎসবের বিভিন্ন স্মৃতিচারণ, সেবকদের সম্মাননা এবং আগামী বছর আরও বৃহত্তর পরিসরে রথযাত্রা আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
» আবৃত্তি সংগীতে বর্ষা বরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত
Published: ৩১. জুলা. ২০২৬ | শুক্রবার
ছাতক প্রতিনিধিঃ
“আয় বৃষ্টি ঝেঁপে- ধান দেবো মেপে” আষাঢ় -শ্রাবণ’কে ঘিরে বর্ষা বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আবৃত্তি সংগঠন মুক্তাক্ষর ছাতক শাখা। ব্যবস্থাপনায় ছিল সপ্তক সংগীত বিদ্যালয় ছাতক।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বি.কম মন্ডলীভোগ ছাতকে দুপুর ১২টায় শ্রুতি সরকারের সঞ্চালনে বিমল করের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হয়ে উপস্থিত ছিলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার সমবায় অফিসার বিজিত রঞ্জন কর।
বিশেষ অতিথি হয়ে উপস্থিত ছিলেন, প্রাক্তন কাউন্সিলর রত্না রানী কর, চন্দ্রনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক দিপক রঞ্জন দাশ, রাজিব দাশ, উত্তর সুরমা আজমদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক তাপস তালুকদার, ছাতক উপজেলার সঞ্চিতা রানী পুরকায়স্থ ও জাবা ইংলিশ এন্ড কম্পিউটার লার্নিং সেন্টারের ইংরেজি শিক্ষক রিত্তিক।
আলোচনার পর মুক্তাক্ষরের শিক্ষার্থীরা বর্ষার ছড়া কবিতা দলগত আবৃত্তির আবৃত্তি পরিবেশন করে। এর পরই শ্রুতি সরকার-এর পরিচালনায় দলগত ও একক সংগীত পরিবেশন করে সপ্তক সংগীত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সংগীতে তবলায় সংগতের শেষে অনুষ্টানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন সপ্তক সংগীত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অমরেশ সরকার সঞ্জু।
» সরকারি জায়গা উদ্ধার না করে কবরস্থানের ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন
Published: ৩১. জুলা. ২০২৬ | শুক্রবার
দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধিঃ
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার ইউনিয়নের খোজখালু-শাহসিকন্দর মৌজায় রেকর্ডভুক্ত সরকারি গোপাট রাস্তা দখলমুক্ত না করে মুসলিম জনসাধারণের কবরস্থান এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রবাসীদের জমির উপর দিয়ে রাস্তা নির্মানের প্রতিবাদে শুক্রবার (৩১ জুলাই) শাহসিকন্দর এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রবাসীরা এ দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। প্রবাসীদের সম্পদ রক্ষা করা আমাদের নৈতিক অধিকার। কিন্তু ভূমি খেকোদের কাছ থেকে সরকারি রেকর্ডভুক্ত জায়গা উদ্ধার না করে প্রবাসীদের ব্যাক্তিমালিকানাধীন জায়গা এবং মুসলিম জনসাধারণের কবরস্থানের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণ মোটেও কাম্য নয়।
বক্তারা আরো বলেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সময় খোজখালু গ্রামের বাসিন্দা মবশ্বির আহমদ তৎকালীন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সহযোগিতায় ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি এবং মুসলিম জনসাধারণের কবরস্থানের ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেন।
এ লক্ষ্যে তিনি প্রথমে সরকারি রেকর্ডভুক্ত গোপাট বা রাস্তার একটি অংশ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দখল করেন এবং পরবর্তীতে কবরস্থান ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ৮২ লাখ টাকার সড়ক প্রকল্পের অনুমোদন করিয়ে সরকারি দখলকৃত জায়গা ভোগের সুবিধার্থে ব্যাক্তিমালিকানাধীন জমি ও কবরস্থানের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মান করাতে চাচ্ছেন।
বিষয়টি নিয়ে গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন, ভূমি অফিস, পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে একাধিক লিখিত আবেদন করা হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে তারা দাবি করছেন।
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার খোজখালু-শাহসিকন্দর মৌজার ১৪ শতক কবরস্থান এবং ২৬ শতক সরকারি গোপাট বা রাস্তা রেকর্ডভুক্ত রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এই গোপাটটি বহু বছর ধরে গ্রামের সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
কিন্তু পরবর্তীতে খোজখালু গ্রামের বাসিন্দা মবশ্বির আহমদ ও তার সহযোগীরা ওই সরকারি গোপাটের একটি বড় অংশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দখল নেন। এর ফলে দীর্ঘদিনের চলাচলের সরকারি পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি রেকর্ডে থাকা এই রাস্তা দখলমুক্ত করে পুনরায় জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পরিবর্তে বিকল্প হিসেবে পাশের কবরস্থান ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে নতুন সড়ক নির্মাণের প্রচেষ্টা চলছে।
শাহসিকন্দর গ্রামের বাসিন্দারা মানববন্ধনে অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে সরকারি রাস্তা দখল করে সেটি অকার্যকর করার পর নতুন সড়কের নকশা এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যাতে রাস্তা কবরস্থান অতিক্রম করে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে যায়।
এতে শুধু কবরস্থান নয় বরং কয়েকটি পরিবারের বসতভিটার সীমানা, পুকুরপাড়, কৃষিজমি এবং যুক্তরাজ্যপ্রবাসী একাধিক জমির মালিকের সম্পত্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর পক্ষে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, বিষয়টি প্রথম থেকেই স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোন সমাধান না হওয়ায় ২০২৪ সালের ১১ জুন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়।
আবেদন পাওয়ার পর উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সরেজমিনে গিয়ে ভূমি জরিপ পরিচালনা করেন।
জরিপকালে উভয় পক্ষের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী রাস্তা, কবরস্থান এবং পার্শ্ববর্তী জমির অবস্থান চিহ্নিত করা হয়।
সরকারি সার্ভেয়াররা রেকর্ডভুক্ত রাস্তার অবস্থান স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবৈধভাবে নির্মিত দেয়াল অপসারণের পরামর্শও দেন। কিন্তু এরপরও সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত হয়নি এবং বিরোধেরও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর একই বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও আরেকটি আবেদন করা হয়। প্রশাসনিক পর্যায়ে একাধিকবার আবেদন, জরিপ ও আলোচনার পরও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় তারা ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গোলাপগঞ্জ ক্যাম্পের অধিনায়কের কাছেও লিখিত আবেদন করেন।
কিন্তু খোজখালু গ্রামের ভূমি খেকো মবশ্বির আহমদ সরকারি দখলকৃত ভূমি ফিরিয়ে না দিয়ে তড়িঘড়ি করে যাতে কবরস্থান ও ব্যাক্তিমালিকানাধীন জমির উপর দিয়ে রাস্তা নিতে পারেন সেজন্য নতুন ফন্দি আাঁটেন।
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে “সরকারি গেজেটভুক্ত রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা উচ্ছেদ করে সড়ক নির্মাণ চালুকরণ” শীর্ষক একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগপত্রে প্রাণকৃষ্ণ দে কিন্ডারগার্টেন, হযরত আয়শা সিদ্দিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শাহ সিকান্দার তালিমুল কোরআন মাদ্রাসা, বিবিদইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং আবু দৌলত ক্যাডেট মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করেন।
তবে অভিযোগপত্রে ব্যবহৃত শিক্ষার্থীদের স্বাক্ষর ও সমর্থনের সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে প্রাণকৃষ্ণ দে কিন্ডারগার্টেন ও হযরত আয়শা সিদ্দিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃক দেওয়া প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করা হয়, ওই অভিযোগের সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
পরবর্তীতে এ বিরোধটি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। সিলেটের জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের হলে আদালত প্রবাসী জমির মালিক ও আরিফুল হক চৌধুরীর পরিবারের পক্ষে রায় দেন। পরে বিরোধী পক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করলে হাইকোর্টেও আবেদনকারীরা অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ (ইনজাংশন) লাভ করেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে গেলে সেখানে মামলাটি বর্তমানে স্থিতাবস্থা অবস্থায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসময় মানববন্ধনে শাহ সিকান্দার গ্রামের শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

