শিরোনামঃ-

» ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সিসিক অত্যন্ত সতর্ক : সিসিক প্রশাসক

Published: ২৮. অক্টো. ২০২৬ | বুধবার

সিলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিসিকের বিশেষ মশক নিধন অভিযান শুরু

নিউজ ডেস্কঃ

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসসহ মশক নিধনে বিশেষ অভিযান (ক্রাশ প্রোগ্রাম) শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

বুধবার (২৮ আগস্ট) সকালে নগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

কার্যক্রম উদ্বোধনের পর সিসিক প্রশাসক নিজে ফগার মেশিন হাতে নিয়ে মশক নিধন কার্যক্রমে অংশ নেন এবং কর্মীদের উৎসাহিত করেন।

এ সময় তিনি কর্মীদের আন্তরিকতার সাথে নগরীর প্রতিটি এলাকায় মশক নিধন ও লার্ভা ধ্বংসের নির্দেশ দেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং মশক নিধন কর্মীরা।

অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া সহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে সিসিক অত্যন্ত সতর্ক।

সম্প্রতি নগরীতে মশার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা এই বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছি।

যদিও সিলেটে এ পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া ডেঙ্গু রোগীরা বাইরে থেকে সংক্রমিত হয়ে এসেছেন, তবুও আমরা বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডেই পর্যায়ক্রমে এই অভিযান চালানো হবে। প্রথম ধাপে ১০টি ওয়ার্ডে কাজ শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রকৌশল বিভাগের যৌথ সমন্বয়ে এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সিসিকের কাছে পর্যাপ্ত ওষুধ সংরক্ষিত রয়েছে এবং আশা করা যাচ্ছে এক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।

মশক নিধনের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, বাসাবাড়ি বা আঙিনায় যাতে জমে থাকা পানি না থাকে, সে বিষয়ে মসজিদ, মার্কেট ও মহল্লায় লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হচ্ছে।

মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে তিনি নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

» সিসিককে আধুনিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে : সিসিক প্রশাসক

Published: ২৮. অক্টো. ২০২৬ | বুধবার

সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক

নিউজ ডেস্কঃ

সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত উৎকর্ষ সাধন ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সপ্তাহব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সিসিকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক বলেন, “স্বায়ত্তশাসিত একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচালীদের কাছে সাধারণ মানুষ অনেক কিছু প্রত্যাশা করে।

দাপ্তরিক গোপনীয়তা রক্ষা, সরকারি বিধিবিধান ও আইনকানুন সম্পর্কিত জ্ঞান থাকা প্রত্যেক কর্মকর্তার জন্য আবশ্যক।

কেবল চাকরি বা পরীক্ষা পাসের জন্য নয়, বরং নিজের পেশাগত দক্ষতার উৎকর্ষ সাধনে এ প্রশিক্ষণকে কাজে লাগাতে হবে।”

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাঠ প্রশাসনে কাজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিসিএস কর্মকর্তারা সিটি করপোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান করছেন।

এতে করে সিসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দাপ্তরিক কাজে আরও গতিশীল ও দক্ষ হয়ে উঠবেন। এই অর্জিত জ্ঞান দৈনন্দিন কর্মজীবনে প্রয়োগ করে সিসিককে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সাত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের প্রথম ধাপে দাপ্তরিক আচরণ, প্রটোকল, অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ও রাজস্ব আহরণ সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেশন পরিচালিত হবে।

সিলেট সিটি করপোরেশনের সচিব মো. আশিক নূরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-২) সুমন চন্দ্র দাশ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৫) নূসরাত লায়লা নীরা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা হানিফুর রহমান সহ সিসিকের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

» উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে সিসিক প্রশাসক

Published: ২৮. অক্টো. ২০২৬ | বুধবার

নিউজ ডেস্কঃ

১৯ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁরপাড়া এলাকায় উন্নয়নকাজ পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তিনি ওই এলাকা পরিদর্শনে যান।

মিতালী আবাসিক এলাকায় সড়ক ও ড্রেনের সংস্কার কাজ পরিদর্শনকালে সিসিক প্রশাসক গোয়ালীছড়া দখলমুক্তকরণ, জলাবদ্ধতা নিরসন সহ এই এলাকার ব্যাপক উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন।

এ সময় সিসিকের সহকারী প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র দাশ, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল হাসিব, খাঁরপাড়া মিতালী সমাজকল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. জামাল আহমদ, সহ সভাপতি মো. শফিকুর রহমান, সেনুর আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলী হায়দার, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহীদুজ্জামান সুমন, সিনিয়র সহ সভাপতি (যুব) নাছির আহমদ, সাধারণ সম্পাদক (যুব) আরিফ আহমদ রিপন, যুগ্ম সম্পাদক (যুব) ফয়সল খান পিপলু সহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

» সিলেট সোসাইটির পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক

Published: ২৮. অক্টো. ২০২৬ | বুধবার

সমাজ উন্নয়নে সামাজিক সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

নিউজ ডেস্কঃ

সমাজ সংস্কার, মানবিক কল্যাণ এবং সুনাগরিক গড়ে তুলতে সামাজিক সংগঠনগুলোর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলো এগিয়ে এলে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন সহজ হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস) মিলনায়তনে ‘সিলেট সোসাইটি’র ১৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত নজরুলসংগীত ও ইসলামী সংগীত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, “সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সমাজ উন্নয়নে দৃশ্যমান ও প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে আসছে। তরুণ প্রজন্মকে অপসংস্কৃতি ও অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে কবি নজরুল ইসলামের কালজয়ী সৃষ্টি ও ইসলামী মূল্যবোধ চর্চার এই আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী।”

সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সিসিকের অবস্থান ব্যক্ত করে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “নগরীর শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনকল্যাণমূলক যেকোন শুভ উদ্যোগে সিলেট সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা ও সমর্থন সবসময় অব্যাহত থাকবে। সমাজ পরিবর্তনের এই ধারাকে আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে নিতে হবে।”

সিলেট সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল করিম শিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যক্ষ কবি কালাম আজাদ, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস, সিলেট সোসাইটির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সিনিয়র সদস্য ডা. জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী, অ্যাডভোকেট আবু সালেহ চৌধুরী, রেজাউল করিম জালালী এবং মাওলানা নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, সিলেট সোসাইটির সাংগঠনিক সম্পাদক সেবুল রেজা।

আলোচনা সভা শেষে বিজয়ী প্রতিযোগীদের মাঝে ক্রেস্ট, সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

» ডিএক্স মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড পেলেন সিলেটের চাকরির খবর’-এর সম্পাদক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম নাহেদ

Published: ২৮. অক্টো. ২০২৬ | বুধবার

নিউজ ডেস্কঃ

ডিএক্স মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৩-২৬ সম্মাননা পেয়েছেন জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল ‘সিলেটের চাকরির খবর’-এর সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম নাহেদ।

সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশের আয়োজনে ‘শ্রোতা উৎসব ২০২৬ প্রেক্ষিত আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

‘তথ্য ও বেতারের মেলবন্ধনে, আমরা চলি একসাথে’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২৩ইং থেকে ২০২৬ইং কর্মবছরে সংগঠনের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের সংবাদ জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করে গণযোগাযোগে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ দুইজন গণমাধ্যমকর্মীকে ‘ডিএক্স মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৩-২৬’ প্রদান করা হয়।

পুরস্কারপ্রাপ্তদের একজন সৈয়দ সাইফুল ইসলাম নাহেদ। সংবাদমাধ্যমে সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা এবং জনসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ সম্মাননা অর্জনে সৈয়দ সাইফুল ইসলাম নাহেদকে সাউথ এশিয়া রেডিও ক্লাব (সার্ক) বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

» সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম সোহেলের দুটি গণমাধ্যমে নতুন দায়িত্ব

Published: ২৮. অক্টো. ২০২৬ | বুধবার

নিউজ ডেস্কঃ

জাতীয় দৈনিক ‘ভোরের আকাশ’-এ সাংবাদিক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শহিদুল ইসলাম সোহেল।

পাশাপাশি ইংরেজি জাতীয় দৈনিক The Country Today-এর সিলেট জেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।

নতুন এ দায়িত্ব পালনে সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম সোহেল সকল পাঠক, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী ও পরিচিতজনের দোয়া, ভালোবাসা এবং আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

একই সঙ্গে তাঁর পাশে থেকে সহযোগিতা করার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সত্য প্রকাশ এবং জনস্বার্থে সাংবাদিকতা চালিয়ে যেতে সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন।

» বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ছাত্র-জনতা ত্যাগ শিকারে প্রস্তুত রয়েছে : মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম

Published: ২৮. অক্টো. ২০২৬ | বুধবার

২৮ অক্টোবর স্মরণে সিলেট মহানগর জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ

নিউজ ডেস্কঃ
জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ২৮ অক্টোবর শুধু বাংলাদেশ নয়, সিলেটের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি ভয়াল দিন।
২০০৬ সালের এই দিনে সিলেটের ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে লগি-বৈঠার হামলায় গুরুতর আহত হন তৎকালীন মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি ড. নূরুল ইসলাম বাবুল।
হামলায় তাঁর মাথার খুলি ভেঙে যায়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়।
দীর্ঘ চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরলেও এখনো কথা বলতে গিয়ে মাঝে মাঝে তাঁর কথা জড়িয়ে যায়।
সেই বাবুল সিলেট নগরীর আগামী দিনের কাণ্ডারী। আসন্ন সিসিক নির্বাচনে বাবুলের রক্তে রঞ্জিত মাটির জনগণ তাঁকে মূল্যায়ন করবেন ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠার তাণ্ডবের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদ জাতির ঘাড়ে চেপে বসার সুযোগ পেয়েছিল।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। নূরুল ইসলাম বাবুল সহ অসংখ্য গাজীর রক্ত ও শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে সংগ্রাম শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে শহীদ ও গাজীদের মিছিল আরও দীর্ঘ হয়েছে।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে জাতির প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেই প্রত্যাশা ক্রমেই ধূলিসাৎ হচ্ছে।
তাঁরা জুলাই সনদ ও সংস্কারকে উপেক্ষা করে ফের একদলীয় শাসনব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
তাই বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় দেশপ্রেমিক ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর বন্দরবাজার কোর্টপয়েন্টে জামায়াত কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডি ও ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার তাণ্ডবের স্মরণ এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।

সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামীলীগের লগি-বৈঠার নৃশংস তাণ্ডবে গুরুতর আহত তৎকালিন সিলেট মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও আসন্ন সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ড. নূরুল ইসলাম বাবুল।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, বাংলাদেশ ল’ইয়ার্স কাউন্সিল সিলেট মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলিম উদ্দিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সিলেট মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট জামিল আহমদ রাজু, জামায়াত নেতা শামীম আহমদ ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু প্রমূখ।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, সেদিন সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক কোর্ট পয়েন্টে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের কর্মসূচি ছিল।

সকাল ৯টায় সভাস্থল পরিদর্শনে যান তৎকালীন মহানগর ছাত্রশিবির সভাপতি নূরুল ইসলাম বাবুলসহ কয়েকজন নেতাকর্মী।
এর আগে সকাল ৮টা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দক্ষিণ সুরমায় জড়ো হতে থাকেন।
লগি-বৈঠা সহ সশস্ত্র অবস্থায় তাঁরা আধুনিক রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।
পরে কীনব্রিজ পার হয়ে ব্রিজের নিচের সৌন্দর্যবর্ধন স্থাপনা ও সার্কিট হাউসে ভাঙচুর ও লুটপাটের পর কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে অপ্রস্তুত অবস্থায় থাকা নূরুল ইসলাম বাবুলসহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।
হামলায় বাবুলের মাথার খুলি ভেঙে যায়। পরে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়।
তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে ছাত্র-জনতা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। সে সময় মহানগর আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন এবং পরে বোরকা পরে পালিয়ে যান বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আর কাউকে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না।
বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ছাত্র-জনতাকে সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং যেকোন ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।

» ৮৬ কোটি টাকার সড়কে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ; এমপির বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির পাল্টা অভিযোগ!

Published: ২৮. অক্টো. ২০২৬ | বুধবার

বিশ্বম্ভরপুরে গার্ডওয়াল হেলে পড়া ও সড়ক নির্মাণে অনিয়ম নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী; তদন্ত দাবি এমপি নুরুল ইসলামের, ঠিকাদারকে সতর্ক করার কথা স্বীকার সওজের

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
সুনামগঞ্জ-কাছিরগাথি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের প্রায় ৮৭ কোটি টাকার উন্নয়নকাজ ঘিরে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কারিগরি অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
সেতুর সংযোগ সড়কের পাশে নির্মিত গার্ডওয়ালের একাংশ পাঁচ ফুট সরে যাওয়া ও বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

এ অবস্থায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুলের পথ আটকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এলাকাবাসী।

এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে ক্ষোভ এবং চাঁদা দাবির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘিরে এলাকায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

একদিকে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ, অন্যদিকে চাঁদা দাবির অভিযোগ-দুটিরই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে।

গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন, সংসদ onetv1news@gmail.com সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল।

পরে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদা দাবির অভিযোগের তদন্ত দাবি করেন।
একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
পথ আটকে ক্ষোভ, গার্ডওয়ালে ত্রুটি সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল জানান, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের রতারগাঁও হাইস্কুল মাঠে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁর গাড়ির গতিরোধ করেন।
তাঁরা সেতুর সংযোগ সড়কের পাশে নির্মিত গার্ডওয়ালের বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এমপির জানান, সরেজমিনে গার্ডওয়ালের একাংশ প্রায় পাঁচ ফুট সরে যাওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখতে পান তিনি।

পরে কাজের সাইটে থাকা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিদের ত্রুটিপূর্ণ অংশ দেখানো হয়।
আলোচনায় গার্ডওয়ালটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে আসে।

এলাকাবাসীকে শান্ত করে তিনি গত  বুধবার সকাল ১১টায় সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজের মান যাচাইয়ের আশ্বাস দেন। নির্ধারিত সময়ে নির্বাহী প্রকৌশলী ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হলেও ঠিকাদার উপস্থিত হননি বলে জানান সংসদ সদস্য।

‘চাঁদা দাবির অভিযোগের ঘটনার তদন্ত চাই’ এম‌পি নুরুল ইসলাম নুরুল বুধবার (২৮ অক্টোবর)’র প্রেস ব্রিফিংয়ে নুরুল ইসলাম নুরুল বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করা হয়েছে। আমি এই অভিযোগের তদন্ত দাবি করছেন। একই সঙ্গে সড়কের কাজে গাফিলতি থাকলে সেটিও তদন্ত করে প্রমাণ করা হোক।”

তিনি অভিযোগ করেন, এলাকাবাসীর ক্ষোভের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আবেদন দেওয়া হয়েছে।

তাঁর দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রকল্পের কাজে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে চাইছেন।

এমপি বলেন, “জনগণের চলাচলের সড়কের কাজের মান নিশ্চিত করতে গিয়ে আমাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলে তা সফল হবে না। স্ক্যান্ডাল রটিয়ে আমাকে দমিয়ে রাখা যাবে-এমন ধারণা ভুল।

সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার প্রত্যেকটি কাজ আমরা সঠিকভাবে আদায় করে নেব।”

তাঁর দাবি, কেউ চাঁদা চেয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সাবঠিকাদারকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হয়রানি করার উদ্দেশ্য থাকলে আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এ ধরনের অপবাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তবে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে সাবঠিকাদার শফিকুল ইসলামের বক্তব্য এবং অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

৮৬ কোটি টাকার প্রকল্পে বিল ৩৭ কোটি সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ সড়ক বিভাগের বিভিন্ন সড়ক, সেতু ও কালভার্ট জরুরি পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জ-কাছিরগাথি-বিশ্বম্ভরপুর সড়কের লালপুর-সালামপুর সেতুর ১ ও ২ নম্বর অংশ এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও গার্ডওয়াল নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটির বরাদ্দ ৮৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা।

রাজধানী ঢাকার ঠিকাদার মো. বদরুল ইকবাল এ কাজের দায়িত্ব পান। প্রকল্প বাস্তবায়নের শুরুর দিকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপের মুখে সাবঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি।

সুনামগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, প্রকল্পের প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এ পর্যন্ত বিল দেওয়া হয়েছে ৪৩ শতাংশ, যার পরিমাণ ৩৭ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, “এমপি মহোদয় গার্ডওয়াল হেলে পড়ার যে অভিযোগ করেছেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কাজ চলমান থাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। ঠিকাদারকে বারবার ভালোভাবে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে এবং নিম্নমানের কাজ না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তাঁরাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।”

২০ কোটি টাকা বিনিয়োগের দাবি, টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ প্রকল্পটির সাবঠিকাদারি নিয়ে আরেকটি বিরোধের তথ্য সামনে এসেছে।

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, তাহিরপুরের বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন দাবি করেছেন, প্রকল্পে তিনি প্রায় ২০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন।

কিন্তু ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন কৌশলে কাজের দায়িত্ব সিলেটের শফিকুল ইসলামকে দেওয়া হয় এবং তাঁর বিনিয়োগের টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।

বুধবার এই প্রতিবেদককে আজাদ হোসেন বলেন, সাবঠিকাদার নিয়োগের সময় শফিকুল ইসলাম সাক্ষী ছিলেন। তাঁর দাবি, তৎকালীন ঠিকাদার মো. বদরুল ইকবালও পরে দেশ ছেড়ে চলে যান।

আজাদ হোসেনের আরও অভিযোগ, প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে এবং উত্তোলিত বিলের টাকা সড়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন।

তবে অর্থ ভাগাভাগির এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা নথি বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীও কারও ব্যক্তিগত পাওনা বা বিনিয়োগের বিষয়ে তাঁদের কিছু জানা নেই বলে জানিয়েছেন।

‘ইট থেকে গার্ডওয়াল—সবই নিম্নমানের’ গত বুধবার সরেজমিনে সড়ক এলাকায় গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভের চিত্র পাওয়া যায়।

লালপুর গ্রামের বাসিন্দা বাদশা মিয়া বলেন, বর্তমানে সড়কে যে কাজ চলছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ইট থেকে শুরু করে গার্ডওয়াল—সবকিছুতেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ করেন তিনি।

বাদশা মিয়ার জানান, সড়ক নির্মাণে বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট করার কথা থাকলেও ফসলি জমি কেটে মাটি নেওয়া হচ্ছে। এভাবে কাজ চলতে থাকলে আগামী বর্ষার আগেই সড়ক ভেঙে নদী বা খালে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, “এই দুই নম্বর কাজের আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। অবিলম্বে কাজ বন্ধ করে সঠিক মান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে বিশ্বম্ভরপুরের বাসিন্দা আরিফ রব্বানী হিমেল অভিযোগ করেন, কাজের শুরু থেকেই কারিগরি নিয়ম মানা হচ্ছে না।

তাঁর দাবি, প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুযায়ী মাটির ‘আর্থ কম্প্যাকশন’ বা মাটি শক্ত করার কাজ এবং প্রয়োজনীয় পুরুত্ব নিশ্চিত করা হয়নি।

তাঁর ভাষায়, “নির্ধারিত মান অনুযায়ী কাজের পাঁচ শতাংশও করা হয়নি বলে আমাদের ধারণা। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগ সরেজমিনে পরীক্ষা করলেই প্রকৃত অবস্থা বোঝা যাবে।”
তিনি আরও বলেন, গার্ডওয়ালের গোড়া ও ঢালু অংশের মাটি কাটার কারণে দেয়াল হেলে পড়তে শুরু করেছে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
সড়কের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ‘মেকাডাম’-মাটি ও পাথরের মিশ্রণ-ব্যবহারের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি।

তদন্তেই বেরিয়ে আসুক প্রকৃত চিত্র,প্রায় ৮৭ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজের মান, গার্ডওয়ালের স্থায়িত্ব, মাটি ও পাথর ব্যবহারের পরিমাণ, কাজের পুরুত্ব এবং বিলের হিসাব নিয়ে একাধিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

একই সঙ্গে চাঁদা দাবির অভিযোগ এবং সাবঠিকাদারের বিনিয়োগের টাকা ফেরত না পাওয়ার দাবিও তদন্তের দাবি রাখে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তবে শুধু সতর্কীকরণ বা দাপ্তরিক আশ্বাসে এলাকাবাসীর ক্ষোভ প্রশমিত হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

এ অবস্থায় প্রকল্পের অনুমোদিত নকশা, কার্যাদেশ, পরিমাপবই, বিলের নথি ও নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা জরুরি।

একই সঙ্গে চাঁদা দাবির অভিযোগেরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে কি না, কারিগরি ত্রুটি কেন দেখা দিয়েছে এবং দায় কার-এসব প্রশ্নের জবাব তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হওয়া উচিত।

জনগণের দুর্ভোগ কমাতে যে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ, সেই সড়কই যদি নিম্নমানের কাজের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, তবে তার দায় এড়ানোর সুযোগ কারও নেই।

এলাকাবাসীর দাবি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের আড়ালে যেন প্রকল্পের প্রকৃত অনিয়ম চাপা না পড়ে; বরং স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে কাজের মান নিশ্চিত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।

» মার্কিন চুক্তি বাতিলের দাবিতে ৩০ অক্টোবর ঢাকায় কেন্দ্রীয় সমাবেশ সফলের লক্ষ্যে সিলেট মশাল মিছিল

Published: ২৮. অক্টো. ২০২৬ | বুধবার

নিউজ ডেস্কঃ

মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিল, নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা বাতিলসহ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকায় কেন্দ্রীয় সমাবেশ সফলের লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে মশাল মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টায় রেজিস্ট্রারি মাঠ থেকে মিছিল বের হয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শহীদ মিনারের সামনে বাংলাদেশ জাসদ সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি এডভোকেট জাকির আহমদ এর সভাপতিত্বে ও বাসদ সিলেট জেলা সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পাল এর সঞ্চালনায় সিলেট জেলা সিপিবি সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেন, বাসদ জেলা আহ্বায়ক আবু জাফর, সিপিবি সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজ আহমদ, বাসদ (মার্কসবাদী) জেলা সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাস, সাম্যবাদী আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক এডভোকেট মহীতোষ দেব মলয় প্রমূখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দেশবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল অনির্বাচিত অন্তবর্তীকালীন সরকার। সে চুক্তি বাস্তবায়ন করছে নির্বাচিত বিএনপি সরকার।

সংসদে বিরোধী দল জামায়াত ও এনসিপি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি ও সৌদি আরবের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা জোটের প্রতি নিরব সমর্থন দিচ্ছে।

এতে বুঝা যায় দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা চেয়েও বৃহৎ বিদেশি শক্তির আশীর্বাদ পাওয়া তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্য চুক্তি বাতিল সহ দেশের স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং ৩০ অক্টোবর ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের জাতীয় সমাবেশ সফল করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

» ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী

Published: ২৭. অক্টো. ২০২৬ | মঙ্গলবার

ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম গতিশীল হলে নগরবাসীর নিরাপত্তা বাড়বে : সিসিক প্রশাসক

নিউজ ডেস্কঃ
শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে একটি বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যাতে সহজে এবং প্রত্যাশিত মানে সেবা পেতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট নগরের তালতলায় সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণকাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সেবাপ্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে।

এ লক্ষ্যে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। সেই কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি ফায়ার সার্ভিসের সেবার মান উন্নয়ন ও প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে কাজ করছেন বলে জানান।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে সমানতালে চলতে হলে নাগরিক সুবিধা ও সেবার মানও আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উন্নত করতে হবে।

সিলেট এমন একটি শহর, যার বিপুলসংখ্যক মানুষ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত। ফলে এখানকার নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর তিন বছর পর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ করবে।

এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের নাগরিকসেবা ও অবকাঠামোগত সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। সিলেটের জনসংখ্যা ও বসতির ঘনত্ব যেভাবে বাড়ছে, সে তুলনায় আধুনিক নাগরিকসেবার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।

মন্ত্রী বলেন, সিলেট ও এ অঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ দেশের বাইরে বসবাস করেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক সুবিধা ও সেবার সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ পরিচয় রয়েছে।

এমন একটি শহরে নাগরিকসেবা কাঙ্ক্ষিত মানে না থাকলে তা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ কারণে আধুনিক ও নিরাপদ নগর গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।

প্রকল্পের কাজ ১৫ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই ব্যাহত করা যাবে না। কারণ এই প্রকল্পের সঙ্গে পুরো জনপদের নিরাপত্তা জড়িত।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করেন।

অনেক সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের প্রাণও দিতে হয়। তাদের শ্রম, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অগ্নিকাণ্ড সহ বিভিন্ন দুর্যোগে ঝুঁকি নিয়ে এই বাহিনীর সদস্যরা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কাজ করেন।

তিনি বলেন, ১৯৩৯-৪০ সালের দিকে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রমের সূচনা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সিভিল ডিফেন্স যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত হয়।

সিসিক প্রশাসক বলেন, বর্তমান সময়ে বাণিজ্যিক ভবন, কলকারখানা ও আবাসিক স্থাপনা সহ নগর জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের গুরুত্ব অপরিসীম।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অগ্রভাগে থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেকে প্রাণও দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সিলেটে ফায়ার সার্ভিসের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন এই স্টেশন চালু হলে নগরবাসীর জরুরি নিরাপত্তাসেবা আরও শক্তিশালী হবে।

নগর প্রশাসন হিসেবে সিলেটের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথি ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (প্রশিক্ষণ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লে. কর্নেল এম এ আজাদ আনোয়ার এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ।

অনুষ্ঠানে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

» সিলেটে অপরাধ দমনে কঠোর নির্দেশনা দিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

Published: ২৭. অক্টো. ২০২৬ | মঙ্গলবার

আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভা

নিউজ ডেস্কঃ
সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মাদক, জুয়া ও কিশোর গ্যাংসহ সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর।

তিনি বলেছেন, “সিলেট একটি শান্তিময় জনপদ। এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের মূল দায়িত্ব।”

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ও সিলেট বিভাগের সিভিল প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “জনগণ বিপুল বিশ্বাস ও আস্থা রেখে ভোট দিয়ে আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। জনগণের এই বিশ্বাসের মর্যাদা আমাদের অবশ্যই রাখতে হবে।

মানুষ যাতে ঘরে ও বাইরে নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন এবং ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”

অনলাইন জুয়া, মাদক এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণের তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “সব অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।

পাশাপাশি কিশোর ও তরুণরা যাতে মাদক বা অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে সামাজিক সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদার করতে হবে।”

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম।

» জিন্দাবাজারে পানি নিষ্কাশনের নালায় ময়লা-আবর্জনা ও পয়োবর্জ্য ফেলার অভিযোগ, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ব্যবসায়ীরা

Published: ২৭. অক্টো. ২০২৬ | মঙ্গলবার

নিউজ ডেস্কঃ
সিলেট নগরীর ব্যস্ততম জিন্দাবাজারের জল্লারপাড় রোডে পানি নিষ্কাশনের নালায় ময়লা-আবর্জনা ও পয়োবর্জ্য ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, পার্শ্ববর্তী এশিয়া মার্কেট, লন্ডন মেনশন ও মিতালি ম্যানশনের কিছু ব্যবসায়ীর কারণে এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে।

এতে মশা-মাছির উপদ্রব বৃদ্ধি, ডেঙ্গুর ঝুঁকি এবং আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়ভাবে উত্থাপিত অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মার্কেটগুলোর টয়লেটের বর্জ্য নালায় নিষ্কাশন এবং প্লাস্টিক, কাগজসহ বিভিন্ন বর্জ্য ফেলার ফলে এলাকায় আবর্জনা জমে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।

এতে পার্শ্ববর্তী এইচএমসি ইলেকট্রিক্যাল স্টোর সহ অন্যান্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে, উক্ত ময়লা নিক্ষেপ কারী মার্কেটের মালিক ও প্রতিনিধিরা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নিজেরা ময়লা ফেলে এইচএম কর্পোরেশনের মালিক অ্যাডভোকেট মিসবা উল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এবং সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এলাকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং ব্যবসায়ী নেতাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

সরেজমিনে তদন্ত করে বর্জ্য ফেলার প্রকৃত উৎস শনাক্ত, নালা পরিষ্কার, পয়োবর্জ্যের সঠিক নিষ্কাশন এবং ময়লা নিক্ষেপকারী দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী।

Callender

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031