শিরোনামঃ-

» এবার ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী দামোদর দীপদান উৎসব

Published: ২৪. অক্টো. ২০২৬ | শনিবার

নিউজ ডেস্কঃ
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি নিবেদন ও তাঁর বাল্যলীলার স্মরণে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে সিলেটে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী দামোদর দীপদান উৎসব।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের (ইসকন) সিলেট মন্দিরে ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত এ উৎসব চলবে।

প্রতিদিন সন্ধ্যায় গৌর আরতির পর পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে প্রদীপ নিবেদনের আয়োজন করা হবে। উৎসবকে কেন্দ্র করে মন্দিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বৈষ্ণবীয় ঐতিহ্যে কার্তিক মাস দামোদর মাস হিসেবে পরিচিত।

এ মাসে ভক্তরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে ঘিয়ের প্রদীপ নিবেদন করেন, দামোদর অষ্টকম কীর্তন করেন এবং তাঁর অপ্রাকৃত লীলা স্মরণ করেন। বৈষ্ণবদের কাছে এ মাস ভক্তি, প্রার্থনা ও সাধনার বিশেষ সময় হিসেবে বিবেচিত।

অমল পুরাণ শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণিত পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলার সঙ্গে দামোদর নামের সম্পর্ক রয়েছে। একদিন বালক কৃষ্ণ দুধের পাত্র ভেঙে পালিয়ে গেলে মা যশোদা তাঁকে ধরতে ছোটেন।

পরে স্নেহের বন্ধনে তিনি কৃষ্ণকে কোমরে দড়ি দিয়ে বেঁধেছিলেন।

‘দাম’ অর্থ দড়ি এবং ‘উদর’ অর্থ পেট। কোমরে দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়েছিল বলে শ্রীকৃষ্ণের নাম হয় দামোদর। বৈষ্ণবীয় ব্যাখ্যায় এ লীলা ভগবানের প্রতি ভক্তের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বাৎসল্য প্রেমের মহিমা প্রকাশ করে।

ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি ও ইসকন  সিলেট মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ স্বামী মহারাজ বলেন, “দামোদর মাস ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি শুদ্ধ ভক্তি নিবেদনের এক বিশেষ সুযোগ।

এ মাসে প্রদীপ নিবেদন, হরিনাম সংকীর্তন এবং ভগবানের লীলা শ্রবণ ও স্মরণের মাধ্যমে ভক্তরা তাঁদের কৃষ্ণভাবনাকে আরও গভীর করতে পারেন।

ভক্তিপূর্ণ চিত্তে ভগবানের উদ্দেশে প্রদীপ নিবেদন করা শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তাঁর প্রতি ভালোবাসা ও আত্মনিবেদনের প্রকাশ।”

তিনি আরও বলেন, দামোদর মাসের মাহাত্ম্য মানুষের মধ্যে ভক্তি ও আধ্যাত্মিক চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এ মাসে ভগবানের নাম শ্রবণ, কীর্তন ও স্মরণের পাশাপাশি ভক্তদের সঙ্গ এবং পারমার্থিক জীবনচর্চায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

ইসকন সিলেট মন্দিরের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক সিদ্ধ মাধব দাস বলেন, “দামোদর দীপদান উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভক্তি জাগ্রত করা এবং বৈষ্ণবীয় সংস্কৃতির শিক্ষা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া।

আমরা চাই, ভক্তদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মও এ উৎসবের তাৎপর্য জানুক। সবাই মন্দিরে এসে প্রদীপ নিবেদন, কীর্তন ও প্রার্থনায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ভক্তিময় পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন।”

ইসকন সিলেট সূত্রে জানা গেছে, উৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য মন্দিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় গৌর আরতির পর প্রদীপ নিবেদন করা হবে।

এ সময় ভক্তরা দামোদর অষ্টকম কীর্তন,পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা শ্রবণ ও প্রার্থনায় অংশ নিতে পারবেন। আগ্রহী দর্শনার্থীদেরও এ আয়োজনে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

বৈদিক শাস্ত্র অনুযায়ী, ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে প্রদীপ নিবেদন করলে ভক্তের হৃদয়ে কৃষ্ণভক্তি জাগ্রত হয়।

দামোদর মাসে ঘরে বসেও পরমেশ্বর ভগবান  শ্রীকৃষ্ণের চিত্রপট   বা বিগ্রহের সামনে প্রদীপ নিবেদন, হরিনাম সংকীর্তন ও তাঁর লীলা স্মরণের মাধ্যমে এ ব্রত পালন করা যায়।

আগামী ২৪ নভেম্বর সমাপনী আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে মাসব্যাপী দামোদর দীপদান উৎসব।

» নবীগঞ্জে ‘সনাতন-দীননাথ কিশোর সংসদ’ এর কমিটি গঠন

Published: ২৪. অক্টো. ২০২৬ | শনিবার

নিউজ ডেস্কঃ
নবীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন ‘সনাতন-দীননাথ যুব ও সমাজকল্যাণ সংস্থা’-এর সহযোগী সংগঠন ‘সনাতন-দীননাথ কিশোর সংসদ’-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এই সভা সম্পন্ন হয়।
‘সনাতন-দীননাথ যুব ও সমাজকল্যাণ সংস্থা’-এর প্রধান উপদেষ্টা রত্নদীপ দাস রাজু’র সভায় সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক জনি দাশের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সভাপতি তীর্থ দাশ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রান্ত দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন দাশ, দপ্তর সম্পাদক গোপাল দাশ জিৎ, দীপ শেখর দাশ প্রমুখ।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে কিশোরদের মেধা, মনন ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
মাদক ও অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থেকে কীভাবে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠনে কিশোরেরা ভূমিকা রাখতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভার সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বেগবান করার লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে ‘সনাতন-দীননাথ কিশোর সংসদ’-এর (২০২৬-২০২৭) মেয়াদের জন্য নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়।
নবগঠিত কমিটিতে তীর্থ দাশকে সভাপতি, স্বপন দাশ-কে সাধারণ সম্পাদক ও গোপাল দাশ জিৎ কে সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে, তা আমরা নিষ্ঠার সাথে পালন করব।
কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশ ও সামাজিক কল্যাণে এই সংসদ আগামী দিনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।”

» ব্যবসায়ী বাবলার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের, নিন্দা

Published: ২৪. অক্টো. ২০২৬ | শনিবার

নিউজ ডেস্কঃ
সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত আম্বরখানা ‘সুরমা সুপার মার্কেটে দালালদের দৌরাত্ম্য’ শীর্ষক সংবাদ ও কয়েকটি সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এ সংক্রান্ত ভিডিওর অংশ বিশেষের সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, সুরমা সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ।

সমিতির সহ সভাপতি জসিম উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সুরমা সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই সংবাদে মার্কেটের ব্যবসায়ী ও সুরমা সুপার মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বাবলাকে ‘দালালদের আশ্রয়দাতা’ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

বাস্তবে তিনি একজন সৎ ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে নিজে দোকান ভাড়া নিয়ে সততার সঙ্গে ব্যবসা করছেন। কোন ধরনের অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে তিনি জড়িত নয়।

বিজ্ঞপ্তিতে তারা উল্লেখ করেন, বাবলার সুনামের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বিশেষ কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় প্রতিবেদনে তার নাম জড়ানো হতে পারে।

তারা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে যেসব  অনলাইন পত্রিকায় ওই প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে সেগুলো সহ প্রচারিত ভিডিও সম্পাদন করে সৎ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী বাবলার নাম বাদ দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

» বিশ্ব পোলিও দিবসে সিলেটে রোটারির র‌্যালি

Published: ২৪. অক্টো. ২০২৬ | শনিবার

নিউজ ডেস্কঃ

বিশ্ব পোলিও দিবস উপলক্ষে সিলেটে র‌্যালি করেছে রোটারি ক্লাব ডি-৬৫ সিলেট জোন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে নগরের শারদা হল প্রাঙ্গণ থেকে র‌্যালিটি বের করা হয়।

সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া র‌্যালিটি চৌহাট্টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘End Polio Now’ ও ‘One World, One Goal’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারি পিডিজি শহীদ আহমেদ চৌধুরী।

বক্তব্য রাখেন, রিপসা ২০২৬-২০২৭ স্পেশাল অ্যাডভাইজার রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান, সিনিয়র কো-অর্ডিনেটর (ফাইন্যান্স) রোটারিয়ান মো. কবির উদ্দিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট কান্ট্রি কো-অর্ডিনেটর রোটারিয়ান জাকির আহমেদ, কো-অর্ডিনেটর (এডমিন) অ্যাডভোকেট সালেহ আহমেদ চৌধুরী, পাস্ট প্রেসিডেন্ট আলী আশরাফ খালেদ।

প্রোগ্রাম চেয়ারপারসন রোটারিয়ান মো. আবুল কালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, প্রোগ্রাম সেক্রেটারি রোটারিয়ান পিপি অ্যাডভোকেট এমএ হাফিজ পিএইচএফ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর সেলীনা আক্তার চৌধুরী, রেজিস্ট্রেশন চেয়ার রোটারিয়ান এএসএমজি কিবরিয়া এবং ফুড চেয়ার ফারুক আহমেদ।

এ ছাড়া সিলেট জোনের প্রায় সব ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, অফিসিয়ালস ও রোটারিয়ানরা ছাড়াও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডি-৬৫ সিলেট জোনের প্রোগ্রাম চেয়ারপারসন মো. আবুল কালাম বলেন, “বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূলে রোটারির অবদান অনন্য। এই কার্যক্রমের সম্পূর্ণ বাজেট রোটারি থেকে দেওয়া হয়। র‌্যালির মাধ্যমে আমরা চাই সারা বিশ্ব জানুক—পোলিও নির্মূলে রোটারি এখনো অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।”

বিশ্বব্যাপী পোলিও নির্মূল রোটারি ইন্টারন্যাশনালের দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান কার্যক্রম।

১৯৭৯ সালে ফিলিপাইনে শিশুদের পোলিও টিকা দেওয়ার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে সংস্থাটি পোলিও নির্মূলের কার্যক্রম শুরু করে।

পরে ১৯৮৮ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) সঙ্গে রোটারি গ্লোবাল পোলিও ইরাডিকেশন ইনিশিয়েটিভের প্রতিষ্ঠাতা অংশীদার হয়।

এই বৈশ্বিক উদ্যোগ শুরুর পর বিশ্বে পোলিওর ঘটনা ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশের বেশি কমেছে।

বাংলাদেশে পোলিও নির্মূলে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ সহ বিভিন্ন সংস্থার সাথে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে।

১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ বৈশ্বিক পোলিও নির্মূল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে জাতীয় টিকাদান দিবস পালন শুরু করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশে ২১টি জাতীয় টিকাদান দিবস অনুষ্ঠিত হয়।

এসব কার্যক্রমে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রায় ১০০ কোটি ডোজ মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে সর্বশেষ পোলিওভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল ২০০৬ সালে। এরপর দেশে আর পোলিওভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়নি।

২০১৪ সালে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলকে পোলিওমুক্ত হিসেবে সনদ দেওয়া হয়।

তবে বিশ্ব থেকে রোগটি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়ায় পোলিওর বিরুদ্ধে টিকাদান ও নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্ব পোলিও দিবস প্রতিবছর ২৪ অক্টোবর পালিত হয়। পোলিও টিকার উদ্ভাবক জোনাস সালকের জন্মদিন স্মরণে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল এ দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়।

দিবসটির অন্যতম উদ্দেশ্য পোলিও নির্মূলে বিশ্বব্যাপী চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি এবং রোগটি পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন ধরে রাখা।

এ সময় সর্বোচ্চ রেজিস্ট্রেশন করা ক্লাবগুলোর মধ্যে রোটারি ক্লাব অব সিলেট মেট্রোপলিটন, রোটারি ক্লাব অব সিলেট ক্বীন ব্রিজ, রোটারি ক্লাব অব সিলেট আর্কেডিয়া, রোটারি ক্লাব অব সিলেট সেন্ট্রাল ও রোটারি ক্লাব অব বিয়ানীবাজারকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মানিত করা হয়।

» বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন সিলেট বিভাগের আলোচনা সভা

Published: ২৪. অক্টো. ২০২৬ | শনিবার

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতিসংঘের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ : আলহাজ্ব আতাউর রহমান

নিউজ ডেস্কঃ

বিএমবিএএফ সিলেট বিভাগের সভাপতি ও জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আতাউর রহমান বলেছেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার সুরক্ষায় বিগত আট দশকে জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বিশ শতকের দুটি বিধ্বংসী বিশ্বযুদ্ধের পরই মূলত বিশ্বশান্তির তাগিদ থেকে ১৯৪১ সালে সানফ্রান্সিসকো চুক্তির ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বাংলাদেশের সাথে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ১ কোটি শরণার্থীকে সহায়তা প্রদান, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভ, ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি প্রদান এবং মিয়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তিতে জাতিসংঘের ভূমিকা অপরিসীম।

এছাড়া ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ১.৪৫ লক্ষাধিক সেনাসদস্য ও নারী পুলিশের অবদানের কথা বিশ্বের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর জিন্দাবাজারস্থ বাংলাদেশ ওভারসীজ সার্ভিসেসের কনফারেন্স হলে ৮০তম জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন (বিএমবিএএফ) সিলেট বিভাগের উদ্যোগে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

বিএমবিএএফ সিলেট বিভাগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং জাতীয় সদর দপ্তর, ঢাকার সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলহাজ্ব মনসুর আহমদ লস্করের সভাপতিত্বে ও বিএমবিএএফ সিলেট বিভাগের সাধারণ সম্পাদক এবং জাতীয় সদর দপ্তর ঢাকার সিনিয়র সহকারী মহাসচিব মনোরঞ্জন তালুকদারের পরিচালনায় সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, বিএমবিএএফ সিলেট বিভাগের উপদেষ্টা ও ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ডিজিএম জসিম উদ্দিন খন্দকার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, বিএমবিএএফ সিলেট বিভাগের সহ-সভাপতি ও সিলেট প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, বিএমবিএএফ সিলেট বিভাগের সহ-সভাপতি হাজী মো. আনোয়ার হোসেন, সহ-সভাপতি মো. মোছলেহ উদ্দিন এবং বিএমবিএএফ সিলেট জেলা কমিটির সভাপতি আশরাফুর রহমান চৌধুরী, সহ-সভাপতি শ্যামল চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক মো. খালেদ মিয়া, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. বেলাল উদ্দিন, মহিলা সম্পাদিকা শিরিন আক্তার চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক মো. ইউসুফ সেলু, শিশু কিশোর সম্পাদক মোছাম্মৎ রুনা সুলতানা, নারী নেত্রী সাহেদা বেগম, জাওয়ারন্নেছা বেগম, আব্দুল ওয়াদুদ প্রমুখ।

» শাহজালাল মাজার পরিচালনায় জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ চান ‘একতাবদ্ধ সিলেটবাসী’, বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ

Published: ২৪. অক্টো. ২০২৬ | শনিবার

নিউজ ডেস্কঃ

হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার পরিচালনায় সার্বিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে মাজারের জায়গা, দান-অনুদান এবং ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণ জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ‘একতাবদ্ধ সিলেটবাসী’।

এ দাবি সহ ১৩ দফা প্রস্তাবনা পেশ এবং আগামী ৫ নভেম্বর প্রতিবাদ সভা ও ২৩ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ২টায় সিলেট নগরীর মধুবন সুপার মার্কেটস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে ‘একতাবদ্ধ সিলেটবাসী’র উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব প্রস্তাব ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ও একতাবদ্ধ সিলেটবাসীর মুখপাত্র মাওলানা রেজাউল করিম জালালী এর সভাপতিত্বে ও সিলেট ফাউন্ডেনশন বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান একতাবদ্ধ সিলেটবাসীর সদস্য মইনুল ইসলাম আশরাফীর পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন, সিলেট কল্যাণ সংস্থার সভাপতি একতাবদ্ধ সিলেটবাসীর সদস্য মো. এহছানুল হক তাহের, মানবাধিকার তথ্য পর্যবেক্ষণ সোসাইটির সভাপতি মুখতার আহমদ তালুকদার, তাহিরপুর সমিতির সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, মীর মো. নাজিম উদ্দিন, মুহতামিম ঐক্য পরিষদ সিলেটের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শিব্বির আহমদ, মাসুক আহমদ, জুলাই যোদ্ধা আব্দুশ শহীদ খান, সিলেটী পঞ্চায়িত কমিটির সদস্য শামসুল হক, সিলেট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল করিম শিকদার, মাজার সুরক্ষা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক টিপু চৌধুরী, মো. কামাল মিয়া, গণদাবি পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আমিন চৌধুরী, মো. সেলিম আহমদ, স্বপন মালাকার শিবা প্রমুখ।

মতবিনিময় সভায় উপস্থাপিত ১৩ দফা প্রস্তাব সমূহ;

১. মাজারের সম্পূর্ণ জমি ও ব্যবস্থাপনা জেলা প্রশাসনের আওতায় এনে দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্স গড়ে তোলা।

২. ভাগ-বাটোয়ারা বন্ধ করে দানের অর্থ প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা রাখা।

৩. যাবতীয় দান ও অনুদান রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ করা।

৪. সপ্তাহে একদিন প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনাসহ হিসাব সম্পন্ন করা।

৫. প্রতি ৩ মাস পর পর প্রকাশ্যে আয়-ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা।

৬. প্রতি বছর সিএ ফার্ম বা অডিটের মাধ্যমে পূর্ণ হিসাব যাচাই করে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা।

৭. মুসাফিরখানা পরিচালনা করা এবং মানতের পশু দিয়ে দুই বেলা শিরণী বিতরণের ব্যবস্থা করা।

৮. নগদ টাকা, স্বর্ণ, কোরআন শরীফ ও মানতের পশুসহ সব সামগ্রী রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ করা।

৯. সিঁড়ি, কবর, ঝর্ণা ও পুকুর পাড় সহ প্রতিটি দানক্ষেত্রকে প্রশাসনিক হিসাবের আওতায় আনা।

১০. শৌচাগার, গোসলখানা, জুতা রাখার স্থান ও বিশ্রামাগার প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করা।

১১. মাজার প্রাঙ্গণে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর নামে একটি গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্র করা।

১২. শাহজালাল (রহ.)-এর ব্যবহৃত স্মৃতিসামগ্রী প্রদর্শনের জন্য কক্ষ স্থাপন করা।

১৩. প্রশাসনিক লোকবল ও কর্মচারী নিয়োগ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালনা করা।

মাজারের সার্বিক অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে এবং উল্লেখিত দাবি আদায়ে আগামী ৫ নভেম্বর প্রতিবাদ সভা এবং ২৩ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।

পরবর্তী কর্মসূচীর নির্দিষ্ট সময় ও স্থান সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

» জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু হেনা চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

Published: ২৪. অক্টো. ২০২৬ | শনিবার

নিউজ ডেস্কঃ

সাম্রাজ্যবাদ-সামন্তবাদ আমলা দালাল মুৎসুদ্দি পুঁজি বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রসৈনিক, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সিলেট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষক আবু হেনা চৌধুরীর ২০তম মৃত্যুবার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল দরগা গেইটস্থ তাঁর সমাধিস্তলে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয় এবং সন্ধ্যা ৬টায় এনডিএফ সিলেট জেলা কার্যালয়ে জেলা সভাপতি এডভোকেট কুমার চন্দ্র রায়’র সভাপতিত্বে এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়ার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মো. আবুল ফজল, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির আহবায়ক শুভ আজাদ শান্ত, গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি সিলেট জেলার যুগ্ম আহবায়ক পারভীনা আক্তার, সাবেক ছাত্রনেতা রমাপদ দাস, পরিবারের পক্ষ্যে তাঁর ছোট ভাই জিয়াউর রহমান চৌধুরী সিপার, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জলিল মীরা, বন্দর বাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সাহাব উদ্দিন, মীরেরচক শ্রমজীবী সংঘের আহবায়ক আলী আহমদসহ প্রমুখ।

আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন এদেশের মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ সাম্রাজ্যবাদ, সামন্তবাদ ও মুৎসুদ্দি পুঁজির শৃঙ্খল থেকে মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করা।

বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারী শাসনমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আশু লক্ষ্য হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদ ও তাঁর এদেশীয় দালাল সমূলে উচ্ছেদ করে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে- শ্রমিক-কৃষকের মৈত্রীর ভিত্তিতে শ্রমিক-কৃষক-জনগণের রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠা করা। আর এ আদর্শেই আবু হেনা চৌধুরী আজীবন লালন করে গেছেন।

বাংলাদেশ একটি নয়াঔপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্র, যেখানে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির স্বার্থে বাজার ও প্রভাব বলয় নিয়ে দ্বন্ধ বিরাজমান।

সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো এদেশে তাদের বিশ্বস্থ দালাল তৈরি করে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়ন করে চলছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব পরিস্থিতিকে ক্রমেই সংঘাতমুখর করে তুলছে।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্ব বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশও বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতিতে জনগনের নাভিশ্বাস অবস্থা। লাগাতারভাবে গ্যাস-বিদ্যুৎ এর মূল্য বৃদ্ধি করে চলছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন তারেক জিয়ার সরকার।

অন্যদিকে প্রভু সাম্রাজ্যবাদকে খুশি করতে গিয়ে মানবিক করিডোরের প্রস্তাব, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল সহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ইজারা প্রদান, এনডিএ সহ বিভিন্ন সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিষয়গুলো জাতীয় স্বার্থ বিরোধী উল্লেখ করে সভা থেকে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়।

আজকের বাস্তবতায় প্রয়োজন আবু হেনা চৌধুরীর দেখানো পথ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সরকার ও সংবিধান প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলার মধ্য দিয়ে আবু হেনা চৌধুরীর অসমাপ্ত কাজ বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে বেগবান করা।

উল্লেখ্য যে, আবু হেনা চৌধুরী ২৪ অক্টোবর ২০০৬ সালে ভোর রাতে শ্বাসনালী ও খাদ্যনালী সংক্রমন জনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। ৬০ এর দশকে রাশিয়াতে ক্রুশ্চেভচক্র ক্ষমতা দখল করার প্রেক্ষিতে বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনে যে বির্তক দেখা দেয় তার ঢেউ বাংলাদেশেও এসে লাগে এবং আলবেনিয়ার নেতৃত্বে সে বির্তকের দুই ধারার আদর্শগত সংগ্রামের পরিণতিতে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন সংশোধনবাদী ও বিপ্লবী ধারায় বিভক্ত হয়। সেই আদর্শগত সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন আবু হেনা চৌধুরী।

এ সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের বিপ্লবী ধারার সিলেট জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন।

মার্কসবাদের কালজয়ী আদর্শকে তাঁর জীবনের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করেন। ষাটের দশকে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন, হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন সহ সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অসংখ্য আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন এবং কারাবরণ করেন।

ষাটের দশকের শেষ দিকে মসজিদ আল-আকসাতে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ছাত্র জনতার আন্দোলনসহ অসংখ্য ছাত্র, গণ-আন্দোলনে ভূমিকা রাখেন।

» দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে ‘স্ট্রাইক হাউজ ইনডোর ফুটবল মাঠ’-এর উদ্বোধন

Published: ২৩. অক্টো. ২০২৬ | শুক্রবার

দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধিঃ

যুব সমাজকে মোবাইল আসক্তি ও মাদকের কুফল থেকে দূরে সরিয়ে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার পারাইরচক এলাকায় যাত্রা শুরু করলো ‘স্ট্রাইক হাউজ ইনডোর ফুটবল মাঠ’।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) জুমার নামাজ শেষে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে মাঠটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

আব্দুল ওয়াজিদ ফাহিম ও আজিজ তানভীর উদ্যোগে এই ইনডোর মাঠটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, বর্তমান সময়ে উপযুক্ত খেলার মাঠ ও পরিবেশের অভাবে তরুণ প্রজন্ম ক্রমশ খেলাধুলা থেকে বিমুখ হয়ে পড়ছে।

যুব সমাজকে সঠিক পথে রাখতে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ-সবল জাতি গঠনে ক্রীড়াচর্চার কোন বিকল্প নেই।

পারাইরচকে এই ইনডোর ফুটবল মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এমন আয়োজন স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

অনুষ্ঠানে স্ট্রাইক হাউজ ইনডোর-এর পরিচালক আব্দুল ওয়াজিদ ফাহিম বলেন, “বর্তমানে খেলাধুলার মাঠের তীব্র সংকট রয়েছে।

ফলে আমাদের যুব সমাজ বিনোদনের সঠিক মাধ্যম না পেয়ে মোবাইল গেমিংয়ে আসক্ত হয়ে পড়ছে এবং অনেকে মাদকের মতো ভয়াবহ নেশায় জড়িয়ে পড়ছে।

এই পরিস্থিতি থেকে তরুণদের রক্ষা করতে প্রতিটি পাড়া ও এলাকায় এ ধরনের ইনডোর মাঠ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তরুণরা মাঠে ফিরলে তাঁরা খেলাধুলায় মনোযোগী হবে এবং একটি সুস্থ পরিবেশ গড়ে উঠবে।”

তিনি আরও বলেন, ইনডোর ফুটবল মাঠের পাশাপাশি আগামী ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে আমরা ব্যাডমিন্টন কোর্ট, ক্রিকেট পিচ এবং স্নোকার বোর্ডের সুবিধাও যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছি।

এছাড়া ক্রীড়ামোদী ও দর্শকদের সুবিধার জন্য এখানে ক্যাফে সুবিধা রাখা হয়েছে।

আমাদের মূল উদ্দেশ্য ব্যবসা বা অর্থ উপার্জন নয়; খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়াই আমাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।

ইনডোর মাঠের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষে একটি মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

মাহফিল শেষে অতিথিবৃন্দ ফিতা ও কেক কেটে মাঠের শুভ উদ্বোধন করেন এবং পরবর্তীতে আগতদের মাঝে শিরনী বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, মাহদী বখত, আজিজ তানভীর সহ এলাকার বিশিষ্ট মুরব্বিয়ানা, সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় যুব সমাজের প্রতিনিধিগণ।

» দেশ ও জাতির কাঙ্খিত প্রত্যাশা পূরণে জামায়াত কাজ করে যাচ্ছে : অ্যাডভোকেট জুবায়ের

Published: ২৩. অক্টো. ২০২৬ | শুক্রবার

সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর নির্বাচন সম্মেলন

নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, দেশ ও জাতির কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণে জামায়াতের সব পর্যায়ের জনশক্তিকে কাজ করে যেতে হবে।
জামায়াত আর্তমানবতার কল্যাণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি বাংলাদেশে ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং সব পর্যায়ে আমানতদারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে চায়।

তিনি শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সিলেট নগরীর এম সাইফুর রহমান অডিটরিয়ামে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত আমীর নির্বাচন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, জামায়াত একটি নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক সংগঠন। রুকনদের প্রত্যক্ষ ভোটে সিলেট মহানগরের নতুন আমীর নির্বাচিত হবেন।

সংগঠনের সব পর্যায়ে এভাবেই দায়িত্বশীল নির্বাচন করা হয়। দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামী আন্দোলনের শিক্ষা হলো, দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে জবাবদিহির ভয় ও দায়বদ্ধতা উপলব্ধি করা।
জামায়াতের শীর্ষ নেতারা হাসিমুখে শাহাদাত বেছে নিয়েছেন, জালিমদের সঙ্গে আপস করেননি। তাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে।

তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্ব পাওয়া কোনো পদমর্যাদার বিষয় নয়, বরং এটি একটি আমানত। এ দায়িত্ব পালনে ব্যক্তিগত স্বার্থ, আরাম-আয়েশ ও স্বার্থপরতার ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে।

প্রতিটি দায়িত্বশীলকে নিজের কাজের হিসাব দেওয়ার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
ত্যাগ ও নিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সংগঠনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে দায়িত্বশীলদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দৃঢ়তা নিয়ে কাজ করতে হবে।

সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ড. নূরুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন, দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের কেন্দ্রীয় পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল্লাহ মানসুর, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান এবং সিলেট অঞ্চল টিমের সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ মিফতাহুদ্দীন, সহকারী সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন প্রমুখ।

সম্মেলনে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের রুকনরা অংশ নেন।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে সংগঠনের প্রার্থীদের পক্ষে কার্যকর ভূমিকা রাখতে আগেভাগেই সুপরিকল্পিত কৌশল নির্ধারণ করতে হবে।

এলাকার মানুষের চাহিদা, সমস্যা ও প্রত্যাশা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম সাজাতে হবে।
প্রার্থীদের যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা ও জনসম্পৃক্ততা তুলে ধরার পাশাপাশি কর্মীদের মধ্যে সমন্বয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে।
জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, ঘরে ঘরে মতবিনিময় এবং স্থানীয় সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা উপস্থাপনের মাধ্যমে মানুষের আস্থা ও জনসমর্থন অর্জনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।

» সিলেটে শামসুর রহমান স্মৃতি প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

Published: ২৩. অক্টো. ২০২৬ | শুক্রবার

নিউজ ডেস্কঃ

সিলেটে শামসুর রহমান স্মৃতি প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের বিভিন্ন হল পরিদর্শন করেন, শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এম. শামসুল ইসলাম, সিলেট প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জায়েদা গুলশান সিদ্দিকা, সহকারী প্রধান শিক্ষক লায়লা নার্গিস ও সালেহ আহমদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, শামসুর রহমান ফাউন্ডেশনের সদস্য সচিব জিবলু রহমান, সাংবাদিক মঈন উদ্দিন মঞ্জু, সাংবাদিক ও চিকিৎসক মুনশী ইকবাল, এইচ এম শহীদুল ইসলাম, ইসলামী ব্যাংক সিলেট শাখার প্রধান মো. নুরুজ্জামান, সমাজসেবী আবদুল হক, ফেঞ্চুগঞ্জের হিরো চাইল্ড প্রি-ক্যাডেট একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. জুনেদুর রহমান এবং সানফ্লাওয়ার কিন্ডারগার্টেনের প্রধান শিক্ষক মো. শিহাব উদ্দিন।

পরিদর্শনকালে তাঁরা পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

» এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন প্রকৌশলী কামরুল আরিফ

Published: ২৩. অক্টো. ২০২৬ | শুক্রবার

নিউজ ডেস্কঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক কার্যক্রমকে দেশব্যাপী আরও বেগবান ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ১৯৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

দলটির দপ্তর সেল সম্পাদক সাদিয়া ফারজানা দিনার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই কমিটি প্রকাশ করা হয়।

নবগঠিত এই কমিটিতে আহ্বায়ক পদে মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেন বহাল রয়েছেন।

এছাড়া সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হিসেবে মো. সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দায়িত্ব পেয়েছেন।

দলের এই গুরুত্বপূর্ণ পুনর্গঠনে সিলেট জেলা এনসিপির সফল সদস্য সচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ-কে কেন্দ্রীয় ‘বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ)’ পদে পদায়ন করা হয়েছে।

রাজপথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রাম এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে প্রকৌশলী কামরুল আরিফের অসামান্য অবদান রয়েছে। সিলেট এনসিপির সদস্য সচিব হিসেবে তাঁর গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই আজ সিলেটের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা ও নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

পাশাপাশি নতুন এই কেন্দ্রীয় কমিটিতে সিলেট বিভাগ থেকে আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেছেন।

তাঁদের মধ্যে রয়েছেন, কেন্দ্রীয় ‘যুগ্ম আহ্বায়ক’ এহতেশাম হক ও প্রীতম দাশ, কেন্দ্রীয় ‘তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক’ রাশেল উল আলম, কেন্দ্রীয় ‘প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক’ ব্যারিস্টার নুরুল হুদা জুনেদ এবং ‘সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ)’ নাহিদ উদ্দিন তারেক, (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডায়াস্পোরা) জসিম উদ্দিন ।

ইনসাফ ও সাম্যের বাংলাদেশ গড়তে কামরুল আরিফ, এহতেশাম হক এবং এই নতুন নেতৃত্ব একটি বড় মাইলফলক হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

» পল্লবী সেন্টার নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন, নেই কোন আইনি জটিলতা

Published: ২২. অক্টো. ২০২৬ | বৃহস্পতিবার

নিউজ ডেস্কঃ

নগরীর সুবিদ বাজারের পল্লবী সেন্টার নিয়ে অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন, মরহুম এনামুল ইসলাম চৌধুরীর পুত্র ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী। এসময় তার মা বুলবুল নাহার চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর)সন্ধ্যায় সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি পল্লবী সেন্টারে নেই কোন আইনী জটিলতা। সেন্টার ভাড়া নিতে কোন সমস্যাও নেই। এখানে নিয়মিত অনুষ্ঠানাদি হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাবার অসিয়ত এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমার মা এটি ভোগ করছেন এবং তার দখলেও আছে।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সম্প্রতি আমার ভাই কানাডা প্রবাসী মো. এহসানুল ইসলাম চৌধুরী ও বোন আমেরিকা প্রবাসী তাজিন ইসলাম চৌধুরী কর্তৃক পৈতৃক সম্পত্তি দখল ও জালিয়াতির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলনে প্রদত্ত মিথ্যা তথ্য ও বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ আমি জানাচ্ছি।

তাঁরা গণমাধ্যমে ভূল তথ্য প্রচার করে মুলত জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন।

তিনি গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে এহসানুল ইসলাম ও তাজুল ইসলাম কর্তৃক উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন।

বুলবুল নাহার চৌধুরী ও মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী ​সংবাদ সম্মেলনে জানান, মরহুম এনামুল ইসলাম চৌধুরী গত ২৮/১১/২০১০ তারিখে একটি রেজিস্টার্ড দলিল (নং-৭১/২০১০) সম্পাদন করে যানউক্ত দলিল অনুযায়ী, তাঁর মৃত্যুর পর নালিশী সম্পত্তি ভোগদখলের পূর্ণ অধিকার তাঁর স্ত্রী বুলবুল নাহার চৌধুরী দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তিন ভাইবোনের মধ্যে বাঁটোয়ারার স্পষ্ট রূপরেখা নির্ধারিত থাকে২০২১ সালে এনামুল ইসলামের মৃত্যুর পর সন্তানরা এই দলিলের বিষয়ে অবগত ছিলেন না।

২০২২ সালে দেশে একটি বাঁটোয়ারা দলিল (নং-৩৬২৪/২০২২) সম্পাদন করা হলেও পরবর্তীতে ২০১০ সালের মূল দলিলের সার্টিফাইড কপি উত্তোলনের পর মা বুলবুল নাহার চৌধুরী ২০২২ সালের বাঁটোয়ারা দলিল বাতিলের জন্য ‘স্বত্ব মামলা নং-৮৭/২০২৫’ দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।

তিনি আরও বলেন,​উক্ত মামলার ওপর শুনানিশেষে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ একাধিক দেওয়ানি রিভিশনে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন ​সিভিল রিভিশন নং- ৩৫৬৮/২০২৫ (০১/০৯/২০২৫): নালিশী সম্পত্তিতে মায়ের পক্ষে দখলের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ।

​সিভিল রিভিশন নং- ৪৭৩৮/২০২৫ (১২/১১/২০২৫): বিতর্কিত বাঁটোয়ারা দলিল (নং-৩৬২৪/২০২২)-এর সকল কার্যকারিতা স্থগিত ঘোষণা।

​সিভিল রিভিশন নং- ৫৩০৯/২০২৫ (০৯/১২/২০২৫): মূল মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশী সম্পত্তি হস্তান্তরে জেলা রেজিস্টার, সাব-রেজিস্টার ও এসি ল্যান্ডসহ সংশ্লিষ্টদের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি।

​তিনি আরও জানান, হাইকোর্টের এসব আদেশ এবং বাবার মূল দলিল অমান্য করে এহসানুল ও তাজিন বেআইনিভাবে ৭ জন ব্যক্তির নামে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে আমমোক্তারনামা প্রদান করেছেন, যা আদালতের স্পষ্ট অবমাননা।

ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে পরিষ্কার করা হয় যে, শরীয়াহ আইন অনুযায়ী প্রতি মাসের ভাড়ার অংশ এহসানুল ইসলামকে নিয়মিত দেওয়া হতোএহসানুল ইসলাম নিজেই স্বত্ব মামলায় (০৭/০৫/২০২৬) রিসিভারশিপের আবেদনে তাঁর আই এফ আই সি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা জমা হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

​পরবর্তীতে এহসানুল ও তাজিন বহিরাগত ব্যক্তি আব্দুর কাইয়ুম ও হাবিবুর রহমান শিবলীর কাছে নোটারাইজড আমমোক্তারনামার মাধ্যমে সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্ব দিলে মা ক্ষুব্ধ হয়ে আয়ের অংশ দেওয়া বন্ধ করেন।

এর জের ধরে হাবিবুর রহমান শিবলীকে ব্যবহার করে পরিবারের সদস্য ও দীর্ঘ ৪৮ বছরের পুরোনো ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাতের একটি সিআর মামলা (নং-৯৪৭/২০২৬, কোতোয়ালি) দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে পিবিআই (PBI) এখন ও তদন্ত করছেন।

​কোভিডের সময়ে এহসানুল ও তাজিন বিদেশে অবস্থান করায় সবার সম্মতিতে ব্র্যাক ব্যাংক (সিলেট শাখা) এর ভাড়া মায়ের অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে তিন ভাইবোনের স্বাক্ষরযুক্ত একটি অথরাইজেশন লেটার জমা দেওয়া হয়।

​২০২১ সালে দেশে অবস্থানকালে বা পরবর্তী সময়ে এহসানুল ইসলাম কখনো এই অথরাইজেশন লেটার জাল বলে দাবি করেননি।

এমনকি ০৮/১২/২০২৫ তারিখে উকিল নোটিশ পাঠালেও জালিয়াতির কোনো উল্লেখ ছিল না।সম্প্রতি সম্পত্তি থেকে আয় বন্ধ হওয়ায় তিনি ভিত্তিহীনভাবে স্বাক্ষর জালিয়াতির দাবি তুলছেন।

ব্যাংকের সমস্ত টাকা শুরু থেকেই নিয়ম মেনে মায়ের অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে আসছে।​সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার তদন্তের সুবিধার্থে মোবাইল কল লগ ও সঠিক তথ্য যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যারিস্টার মুমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এহসানুল ইসলাম ও তাজিন ইসলাম আমার বাবার সম্পাদিত দলিল মানেন না। নালিশী সম্পত্তির উপর তাদের আপন মায়ের অধিকার মানেন না।

সর্বোপরি নালিশী সম্পত্তি নিয়া মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশনের আদেশেরও তোয়াক্কাও করেননা।

তাঁরা শুধু বাটোয়ারা দলিল মানেন।তিনি বলেন,আমি আমার বাবার অসিয়ত রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ আইনী লড়াই চালিয়ে যাব। পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায আইননানুগ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

তিনি এহসানুল ইসলাম ও তাজিন ইসলামকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আইনগতভাবে এখনোও তাঁরা উত্তরাধিকারী হননি।যখন হবেন তখন তাঁরা তাদের ন্যায্য সম্পত্তি পাবেন।

বুলবুল নাহার চৌধুরী বলেন, আমি জীবিত থাকতে পল্লবী সেন্টার দখল কিংবা বিক্রি করতে দেব না। আমার স্বামীর কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল এটা বিক্রি করা যাবে না।

তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, এটি বিক্রি বা দখল করতে চাইলে তাকে আগে লাশ হতে হবে।

তিনি আরো বলেন, পলবী সেন্টার আমার আমার স্বামীর সম্পদ। আমাদের সন্তান আমি জীবিত থাকতে আমি কাউকে এটার ক্ষতি করতে দিব না।

​সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানান এবং আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সত্য প্রতিষ্ঠার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Callender

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031