শিরোনামঃ-

» ২৪ ফুট প্রশস্ত সড়কের পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে ১২ ফুট ফুটপাত; পরিদর্শন করলেন সিসিক প্রশাসক

Published: ০৭. নভে. ২০২৬ | শনিবার

১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে বালুচর-ইকোপার্ক সড়ক

নিউজ ডেস্কঃ

সিলেট নগরীর বালুচর শাহমাদানী ঈদগাহ থেকে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ইকোপার্ক পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করে টেকসই আরসিসি (RCC) ঢালাইয়ের মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে।

এছাড়া সড়কের উভয় পাশে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রাখতে ৬ ফুট করে মোট ১২ ফুট প্রশস্ত ড্রেন তৈরি করে তার ওপর স্ল্যাব বসিয়ে ফুটপাত নিশ্চিত করা হয়েছে।

সড়ক, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণে সব মিলিয়ে খরচ হচ্ছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা।

​শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সড়ক ও ড্রেনের শেষ পর্যায়ের ঢালাই কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

পরিদর্শনকালে তিনি কাজের সার্বিক অগ্রগতি ঘুরে দেখেন এবং নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান তদারকি করেন।

​পরিদর্শন শেষে সিসিক প্রশাসক বলেন, “বালুচর-ইকোপার্ক সড়কটি নগরীর যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ইকোপার্ক সহ আশপাশের নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।

জনসাধারণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতেই সড়কটি ২৪ ফুট প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

​তিনি আরও বলেন, সড়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে পানি নিষ্কাশনের বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।

বর্ষায় যেন কোনো জলাদ্ধতা তৈরি না হয়, সেজন্য সড়কের দুই পাশে মোট ১২ ফুট প্রশস্ত ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে।

এসব ড্রেনের ওপর বসানো স্ল্যাব একই সঙ্গে পথচারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ফুটপাত হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

​নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, সিলেট নগরীর সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে সিটি কর্পোরেশন ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও টেকসই সংস্কারকাজ পরিচালনা করছে।

পরিকল্পিত সড়ক, কার্যকর ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক এবং নিরাপদ পথচারীবান্ধব ফুটপাত তৈরি করাই সিসিকের মূল লক্ষ্য।

​পরিদর্শনকালে তিনি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের নির্মাণকাজের সর্বোচ্চ গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুততম সময়ে অবশিষ্ট কাজ সমাপ্ত করার কঠোর নির্দেশনা দেন।

​এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সিসিকের নির্বাহী প্রকৌশলী লিপু সিংহ, জনসংযোগ কর্মকর্তা (অ.দা.) নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ সহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

» সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সমাবেশে বাণিজ্যমন্ত্রী

Published: ০৭. নভে. ২০২৬ | শনিবার

জিয়াউর রহমানের আদর্শে ধ্বংসপ্রায় বাংলাদেশ পুনর্গঠন করতে হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী

১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ঐক্য ধরে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে : সিসিক প্রশাসক

নিউজ ডেস্কঃ

শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সততা, দেশপ্রেম ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত নেতৃত্বের যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা অনুসরণ করেই বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে হবে।

তাঁর নেতৃত্বে একটি ভগ্নপ্রায় দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছিল।

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাঁর সময়ে শিল্পকারখানায় নতুন বিনিয়োগ শুরু হয়।

দুর্ভিক্ষের অভিশাপ পেছনে ফেলে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায় দেশ।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার বিকেলে সিলেট নগরীতে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত র‍্যালিপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ ফিরে এসেছে।

৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দিন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশ আবারও অন্ধকারের দিকে ফিরে যেত। বাংলাদেশের মানুষ সেই অবস্থায় ফিরে যেতে চায়নি।

স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অভিন্ন প্রত্যাশা থেকেই সেদিন সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্যরা শহীদ জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ৭ নভেম্বরের পর শহীদ জিয়াউর রহমান তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বগুণ দিয়ে দেশকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে।

জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলেছিলেন। মুসলিম বিশ্বেও বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও নেতৃত্বের পথ অনুসরণ করে আজ তাঁর অনুসারীদের ওপর দেশ পুনর্গঠনের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।

সততা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত মানসিকতা, দেশপ্রেম ও দায়িত্বশীলতার যে মানদণ্ড তিনি স্থাপন করেছেন, তা ধারণ করতে হবে।

এই আদর্শ সামনে রেখেই বাংলাদেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নতি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা হতে পারে।

কখনো মিছিল, কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, আবার কখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।

দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে বিএনপি যেভাবে ঐক্য ধরে রেখে স্বৈরাচারের মোকাবিলা করেছে, আগামী দিনেও সেই ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

কোন অপশক্তিই যেন আমাদের অভীষ্ট লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে না পারে।

রেজিস্ট্রারি মাঠে আয়োজিত সমাবেশে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেছেন। এসব সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে যে ঐক্য ও রাজনৈতিক চেতনা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন উন্নয়ন ও অগ্রগতির রাজনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

দলের প্রতিটি পর্যায়ের নেতাকর্মীকে এই লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার ও দেশকে এগিয়ে নেওয়াই এখন সবার প্রত্যাশা।

সমাবেশ পরিচালনা করেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

আরও বক্তব্য দেন, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী ও সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।

সমাবেশ শেষে রেজিস্ট্রারি মাঠ থেকে একটি বিশাল র‍্যালি বের করা হয়।

র‍্যালিটি নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।

সমাবেশ ও র‍্যালিতে সিলেট জেলা যুবদলের সভাপতি মকসুদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম টিপু, মহানগর যুবদলের সভাপতি মির্জা সম্রাট হোসেন, সাধারণ সম্পাদক দেলওয়ার হোসেন দিনার, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল, সদস্যসচিব শাকিল মুর্শেদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী, সদস্যসচিব আফসর খান, জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমদ, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি সদীপ জ্যোতি এষ ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে আহসান রাব্বীসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

» দেশে যখনই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, জিয়া পরিবার ত্রাণকর্তা হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছে : সিসিক প্রশাসক

Published: ০৭. নভে. ২০২৬ | শনিবার

সিলেটে আলোচনা সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী; ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ভাগ্য পরিবর্তনের দিন

নিউজ ডেস্কঃ

শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে ভাগ্য পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ আশঙ্কা করেছিল, বাংলাদেশ আবারও ১৫ আগস্টের আগের অন্ধকার সময়ে ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু দেশের মানুষ আর পেছনে ফিরে যেতে চায়নি।

স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আকাঙ্ক্ষা থেকেই সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার দুপরে (৭ নভেম্বর) সিলেট জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের আগের বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল বিপর্যস্ত।

লাভজনক শিল্পকারখানাগুলোও জাতীয়করণের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়ে পড়ে।

রক্ষীবাহিনী সহ বিভিন্ন বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে জনমনে অসন্তোষ ছিল। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল।

১৫ আগস্টের পর ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান সেই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তী চার দিন দেশের মানুষের কাছে ছিল চরম অনিশ্চয়তার সময়।

মন্ত্রী বলেন, তখন যোগাযোগব্যবস্থা ছিল সীমিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন কিংবা সহজে তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ ছিল না।

তারপরও ক্যান্টনমেন্টের ভেতরের সিপাহি এবং বাইরের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এক জায়গায় মিলেছিল।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় মর্যাদা প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিল। এর মধ্য দিয়েই ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনা সংঘটিত হয়।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ৭ নভেম্বরের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে দেশের মানুষের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস ও জাতীয়তাবোধ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশকে অবমূল্যায়ন করা হতো।

প্রাকৃতিক সম্পদের সীমাবদ্ধতা, অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও বন্যাপ্রবণতার কারণে অনেকেই এ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনে শিল্পোন্নত জাপানকে পরাজিত করে বাংলাদেশের বিজয় ছিল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সক্ষমতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

ভারত ও পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশের সমর্থন বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগেও জিয়াউর রহমান নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

জেরুজালেম ও আল-কুদস ইস্যু এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধ বন্ধের উদ্যোগে তাঁর সম্পৃক্ততা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছিল।

মন্ত্রী আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের সততা, কর্মনিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত জীবনযাপন ও নেতৃত্বের মানদণ্ড আজও মানুষের কাছে সমাদৃত।

এ কারণেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকেও মানুষ একই ধরনের সততা ও দায়িত্বশীলতা প্রত্যাশা করে।

এই মানদণ্ড থেকে সামান্য বিচ্যুতিও মানুষ সহজভাবে গ্রহণ করে না। জিয়াউর রহমানের মতো সততা ও নীতিনিষ্ঠা বজায় রাখা কঠিন হলেও তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা দলের নেতাকর্মীদের জন্য অপরিহার্য।

আগামীর চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জিয়াউর রহমান যেমন একটি বিপর্যস্ত অবস্থা থেকে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তেমনি বর্তমান সরকারকেও দুর্বল অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে হবে।

ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি পর্যায়ে জনসেবার মান বাড়াতে হবে।

সরকারকে এমন একটি জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে, যেখানে মানুষ প্রকৃত সেবা পাবে।

তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

তাঁদের স্বপ্নের উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করা হয়েছিল।

সে সময় দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সশস্ত্র বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছিল। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে এই বিপ্লব জাতিকে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছিল।

তিনি বলেন, মুক্তি পাওয়ার পর জিয়াউর রহমান প্রথমেই সশস্ত্র বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। একই সঙ্গে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার কাজ শুরু করেন।

পরবর্তী সময়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন তুলে ধরেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, পরবর্তী সময়ে বেগম খালেদা জিয়া দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন।

আর দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দেশের গণতন্ত্র যখনই বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তখনই জিয়া পরিবার ত্রাণকর্তা হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।

গণতন্ত্র, জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।

সভায় অতিথি হিসিবে বক্তব্য দেন, জাতীয় সংসদ সদস্য এমএ মালিক, এমরান আহমদ ও তাহসিনা রুশদীর লুনা।

আরও বক্তব্য দেন, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, পুলিশের সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারওয়ার মুর্শেদ শামীম, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেইন ও সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

» ইসলামী শিক্ষা ছাড়া ভালো  জেনারেশন তৈরী সম্ভব নয় : হাফিজ জিল্লুর রহমান

Published: ০৭. নভে. ২০২৬ | শনিবার

তানযীম ইন্টারন্যাশনাল তাহফীয স্কুল সিলেটের অভিভাবক সমাবেশ

নিউজ ডেস্কঃ

তানযীম ইন্টারন্যাশনাল তাহফীয স্কুল সিলেটের চেয়ারম্যান হাফিজ জিল্লুর রহমান বলেছেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের গড়ে তুলতে শিক্ষকের পাশাপাশি অভিভাবকদের দায়িত্ব অত্যধিক।
প্রতিষ্ঠান ও পরিবারের তত্ত্বাবধানেই তারা নিজেদেরকে তৈরী করবে।
আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাথে ইসলামী শিক্ষার সমন্বয় ছাড়া নৈতিকতা সম্পন্ন একটি জেনারেশনকে এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।
তিনি অভিভাবকদের প্রত্যাশার আলোকে স্কুলকে উন্নতির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছাতে সবাইকে আশ্বস্ত করেন এবং সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে তানযীম ইন্টারন্যাশনাল তাহফীয স্কুল সিলেটের মদিনা মার্কেট ক্যাম্পাসের অভিভাবকদের নিয়ে পাশ্ববর্তী একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
স্কুলের রেকটর মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ারের সভাপতিত্বে এবং এসিস্ট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর সুমাইয়া হাসিন ও একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর তামান্না জান্নাতের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, তানযীম এডুকেশন ট্রাস্টের সেক্রেটারি সালেহ আহমদ ও আব্দুল বাসিত।
অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, শিক্ষাবিদ খলীলুল্লাহ মুহাম্মদ বায়েজীদ, সাংবাদিক নূর আহমদ, মঞ্জুর আহমদ, ইশরাত জাহান চৌধুরী, মুহিবুর রহমান মুহিন, তানজিদা সুলতানা বিনু, কামরুন নাহার, শামীমা হক, আয়শা আহমদ, লিপিয়া বেগম, লাভলী বেগম, সাদিয়া বেগম, হামিদা বেগম, ফিরোজা বেগম, মাহবুবুর রহমান, মাইদুল ইসলাম, আবু হাশেম, মাহমুদ রেজা, সাজ্জাদুর রহমান, আব্দুর রহমান আব্বাসী, লুৎফুর রহমান, ফজলুর রহমান ও ফারুক আহমদ প্রমুখ।
এছাড়াও স্কুলের অধিকাংশ অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, শিক্ষার মান, পাঠ্যক্রম, বিশেষ বৈশিষ্ট্য, অর্জন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন শিক্ষক রাকিব আলী।
শুরুতে কুরআন তিলাওয়াত করেন, শিক্ষক হাফিজ আব্দুশ শহীদ ও ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন শিক্ষক শিল্পী হেলাল আহমদ।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের উন্নতি অগ্রগতি, সমস্যা সম্ভাবনা ও আগামীর পথচলা সহজতর করার লক্ষ্যে অভিভাবক, শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষক ও অভিভাবকের যথাযথ তত্ত্বাবধান, গাইডলাইন ও উদ্দীপনা শিশুদের মনোজগতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে।
পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে আমাদেরকে আরও সচেতন থাকতে হবে।
পড়াশোনার পাশাপাশি চারিত্রিক সৌন্দর্যের ধারাবাহিক চর্চায় সন্তানদের অভ্যস্ত রাখতে হবে।

» ইমাম সমিতি সিলেট জেলার ইমাম সম্মেলন ও ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

Published: ০৭. নভে. ২০২৬ | শনিবার

বর্তমান সরকার ইমাম-মুয়াজ্জিনদের কল্যাণে কাজ করতে দৃঢ় প্রতীজ্ঞ : বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

নিউজ ডেস্কঃ

বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বর্তমান সরকার ইমাম ও মুয়াজ্জিদের কল্যাণে কাজ করতে দৃঢ় প্রতীজ্ঞ।

ইমামরা সমাজের নেতা। তাাঁরা মানুষকে সত্য-সুন্দরপথের দিকে পরিচালিত করেন।

কিন্তু তাদের স্বাভাবিক জীবনটা অনেকসময় অর্থনৈতিক কারণে ব্যাহত হয়। সরকার তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।

‘সামাজিক সম্প্রীতি, সুশাসন এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল ও ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেট জেলার প্রায় আড়াই শতাধিক ইমামকে নিয়ে শনিবার (৭ নভেম্বর) নগরীর নাইওরপুলের হোটেল ফরচুন গার্ডেনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সমিতির জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ এহসান উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জালাল উদ্দিন ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল প্রফেসর মাওলানা মাহমুদুল হাসান, সিলেট জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবীবুর রহমান, শাহজালাল ডি ওয়াই কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি আবুসালেহ মো. কুতুবুল আলম, হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও নাযিমে তালীমাত মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী, বিএনপি সিলেট মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও গ্রন্থকার মো. জসীম উদ্দিন খন্দকার।

প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম।

শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সমিতির জেলা সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন।

পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, ক্বারী আব্দুল বাছিত।

বিগত বছরের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা জালাল উদ্দিন এবং আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন, জেলা শাখার অর্থ সম্পাদক মাওলানা আকমল হোসাইন।

অনুষ্ঠানের শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি সিলেট মহানগরীর সহ-সভাপতি মাওলানা আশরাফ আলী মিয়াজানী।

সম্মেলনে পরবর্তী তিন বছরের জন্য বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, সিলেট জেলা শাখার সভাপতি, সেক্রেটারি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক-সহ পুরো কমিটি নির্বাচন করা হয়।

এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, এডভোকেট জালাল উদ্দিন ও দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার সিলেট ব্যুরো চিফ সাংবাদিক আব্দুল কাদের তাপাদার।

বক্তব্য রাখেন মারভেলাস হজ্ব কাফেলার এমডি নজরুল ইসলাম।

আগামী তিন বছরের জন্য সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন, যথাক্রমে মাওলানা মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন, মাওলানা জালাল উদ্দিন ভূঁইয়া এবং মাওলানা আবুল বাশার।

এসময় পুনর্র্নিবাচিত সভাপতি নব গঠিত কমিটির সাথে সবাইকে পরিচয় করিয়ে দেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিক বলেন, অর্থনৈতিক সুশাসন এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনয়ন কেবল প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সম্ভব নয়, এর জন্য সামাজিক সম্প্রীতি ও নৈতিক জাগরণ জরুরি।

তিনি আরও বলেন, ইমামগণ সমাজের সম্মানিত পথপ্রদর্শক হিসেবে সততা, ন্যায়পরায়ণতা এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের বার্তা প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারেন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রতিটি মসজিদের মিম্বর হলো নৈতিকতা ও সুশাসন শিক্ষা দেওয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ বিপ্লবক্ষেত্র।

তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় ইমামদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হক কথা বলা এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করা আলেম সমাজের ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বেশ কয়েকটি দাবি-দাওয়া পেশ করেন।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশৃঙ্খল নগরী গড়তে ধর্মীয় নেতাদের নৈতিক প্রভাব অত্যন্ত ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, নাগরিক অধিকার রক্ষায় এবং সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি দূর করতে সিটি কর্পোরেশন ওলামায়ে কেরামের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

ইমামদের এই মিলনমেলা সিলেট নগরীতে সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জনাব রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, সিলেটের পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের পাশাপাশি মননশীল সমাজ গঠনে নৈতিক শিক্ষার প্রচার অপরিহার্য।

তিনি বলেন, উন্নয়নের সঠিক সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হলে সুশাসন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

এই মহৎ উদ্যোগে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ইমাম সমাজের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করে তিনি একটি আধুনিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ সিলেট গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল প্রফেসর মাওলানা মাহমুদুল হাসান বলেন, যুগোপযোগী ও নৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করতে মাদ্রাসাশিক্ষা এবং মসজিদের মিম্বরের ভূমিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি বলেন, বর্তমান সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতার মূলে ফিরিয়ে আনতে হবে, যেখানে ইমাম ও শিক্ষকদের যৌথ প্রচেষ্টা অত্যন্ত জরুরি।

সিলেট জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রশাসন এবং ধর্মীয় নেতৃত্বের পারস্পরিক সহযোগিতায় সমাজ থেকে অপরাধ ও দুর্নীতি নির্মূল করা অনেক সহজ হয়।

তিনি উল্লেখ করেন যে, ইমামগণ সমাজের একেবারে তৃণমূলের মানুষের সাথে নিবিড়ভাবে মিশে থাকেন, তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁদের কথা সাধারণ মানুষের মনে গভীর রেখাপাত করে।

তিনি শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইমাম সমাজকে সব ধরনের প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেডের চেয়ারম্যান মাওলানা হাবীবুর রহমান আলেম সমাজ ও ইমামগণের স্বাস্থ্যসেবা ও কল্যাণমূলক কাজে অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, মানবসেবা ও ইসলামি অনুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

ইমামদের এই ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল সমাজে সুশাসন ও ন্যায়ের পক্ষে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

শাহজালাল ডি ওয়াই কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুফতি আবুসালেহ মো. কুতুবুল আলম বলেন, কোরআন ও সুন্নাহর শাশ্বত জ্ঞানই মানুষের ভেতর সুশাসন ও ইনসাফের বীজ বপন করে।

তিনি বর্তমান যুগে নৈতিক অবক্ষয় রোধে মসজিদের ইমামদের আরও বেশি সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণ সমাজকে বিপথগামিতা থেকে রক্ষা করতে ইমাম ও শিক্ষকমণ্ডলীকে যৌথভাবে দিকনির্দেশনা দিতে হবে।

হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ মাদ্রাসার মুহাদ্দিস ও নাযিমে তালীমাত মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদী বলেন, আলেম সমাজ সবসময় হক ও ন্যায়ের পথে থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে এসেছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র ও সমাজে সুশাসন কায়েমের জন্য দুর্নীতিমুক্ত মনের অধিকারী নেতৃত্ব প্রয়োজন, যা একমাত্র ধর্মীয় অনুশাসন অনুসরণের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব।

বিএনপি সিলেট মহানগর সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, গণতন্ত্র, মানুষের মৌলিক অধিকার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ অপরিহার্য।

রাষ্ট্রীয় প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং নৈতিক শক্তির বিকল্প নেই, যেখানে ইমামগণ জাতির বিবেক হিসেবে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেন।

বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও গ্রন্থকার মো. জসীম উদ্দিন খন্দকার বলেন, ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সমাজের সংকটময় মুহূর্তে ধর্মীয় নেতারাই জাতিকে সঠিক বুদ্ধিবৃত্তিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

গবেষণালব্ধ জ্ঞান এবং ইসলামের মৌলিক সাম্য ও ইনসাফের বাণী প্রচারের মাধ্যমে একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

ইমামদের এই সম্মেলন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে থাকবে।

স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি, সিলেট জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা মোহাম্মদ এহসান উদ্দিন সমিতির জন্য খাস জমি বরাদ্দ করে একটি ইমাম কমপ্লেক্স নির্মাণ, সমিতিকে ৫টি অ্যাম্বুলেন্স প্রদান, ইমাম-মুয়াজ্জিন-খাদিমদের চাকরি জাতীয়করণ সহ বিভিন্ন ধরনের দাবি-দাওয়া পেশ করেন।

» শহীদ জিয়ার সততা ও দেশপ্রেমের উচ্চতম মানদণ্ডকে সামনে রেখেই আমাদের পথ চলতে হবে : খন্দকার মুক্তাদির

Published: ০৭. নভে. ২০২৬ | শনিবার

সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির বিশাল শোভাযাত্রা

নিউজ ডেস্কঃ
বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ৭ই নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি দিক-পরিবর্তনকারী দিন।

সেদিন সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও সাধারণ মানুষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছিল।

জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ও অবিস্মরণীয় নেতৃত্বের গুণেই বাংলাদেশ ভঙ্গুর অবস্থা থেকে পুনর্গঠিত হয়েছিল।

বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছিল এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল।

তাঁর জীবনকালেই দেশ দুর্ভিক্ষের অভিশাপ পেছনে ফেলে এগিয়ে যেতে পেরেছিল।

তাঁর সময়েই শিল্প-কারখানায় নতুন করে বিনিয়োগ শুরু হয় এবং মুসলিম বিশ্বসহ বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়।

বানিজ্য মন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ জিয়ার সততা, দেশপ্রেম ও স্বজনপ্রীতিহীনতার সেই উচ্চতম মানদণ্ডকে সামনে রেখেই আমাদের পথ চলতে হবে, যাতে আমরা দেশকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে নিয়ে যেতে পারি।

আমাদের এই অগ্রযাত্রাকে এবং দেশ বাঁচানোর আন্দোলনকে নস্যাৎ করতে নানামুখী চক্রান্ত, নাশকতার চেষ্টা কিংবা সকালে-বিকালে বিভ্রান্তিকর অপতৎপরতা দেখা যেতে পারে।

কিন্তু বিগত ১৭ বছর পর্বতপ্রমাণ স্বৈরাচারকে আমরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ থেকে মোকাবেলা করেছি, সেই একই ঐক্য বজায় রাখলে ইনশাআল্লাহ কোন শক্তিই আমাদের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।

গতকাল ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পূর্বে নগরীর ঐতিহাসিক রেজিস্টারি মাঠে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ঐতিহাসিক রেজিস্টারি মাঠ থেকে বিশাল এই শোভাযাত্রাটি বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

শোভাযাত্রায় সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহন করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন।

সমাবেশটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালেক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এবং সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

সমাবেশ ও শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন, সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. নাজমুল ইসলাম, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি এড. আশিক উদ্দিন আশুক, মহানগরের সহ-সভাপতি সৈয়দ মঈন উদ্দিন সোহেল, জেলার সহ-সভাপতি হাজী শাহাব উদ্দিন আহমদ, মহানগরের সহ-সভাপতি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পুু, জেলার সহ-সভাপতি শাহজামাল নুরুল হুদা, মহানগরের সহ-সভাপতি আমির হোসেন, জেলার সহ-সভাপতি ইকবাল বাহার চৌধুরী, মহানগরের সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান সাদিক, জেলার সহ-সভাপতি শহিদ আহমদ, মহানগরের সহ-সভাপতি ডাঃ আশরাফ আলী, জেলার সহ-সভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মহানগরের সহ-সভাপতি আফজাল উদ্দিন, জেলার সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন লস্কর, মহানগরের সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসাদ আজিম হক আদনান, জেলার সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, মহানগরের সহ-সভাপতি আব্দুল হাকিম, জেলার সহ-সভাপতি ইকবাল আহমদ, মহানগরের সহ-সভাপতি রহিম মল্লিক, জেলার সহ-সভাপতি সামিয়া বেগম চৌধুরী, জেলার উপদেষ্টা কামরুল হাসান শাহিন, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকী, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুর্শেদ আহমদ মুকুল, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামীম মজুমদার, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মির্জা বেলায়েত হাসান লিটন, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাজরুল ইসলাম তাজুল, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নেওয়াজ বক্ত চৌধুরী তারেক, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মানিক, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শুয়াইব আহমদ শোয়েব, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কোহিনূর আহমদ, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহিদ সুহেল, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. আবু তাহের, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার রশিদ চৌধুরী, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. সাঈদ আহমদ, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউল বারী খুর্শেদ, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফাতেমা জামান রোজি, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ খান জামাল, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাদির খান, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল মোর্শেদ, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম, জেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিক, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক মুশিকুর রহমান মুহি, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক দেওয়ান জাকির, জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আল আসলাম মুমিন এবং মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক খসরুজ্জামান খসরু প্রমুখ।

» সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাসদ ও যুবজোট সিলেটের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Published: ০৭. নভে. ২০২৬ | শনিবার

নিউজ ডেস্কঃ

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জাসদ ও বাংলাদেশ যুবজোট, সিলেটের যৌথ উদ্যোগে শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) বিকাল ৩টায় নগরীর জিন্দাবাজারস্থ নজরুল একাডেমিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাকির আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশিষ্ট কবি, প্রাবন্ধিক, নব্বইয়ের গণআন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের অন্যতম নেতা এবং বাংলাদেশ জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. সরদার ফারুক।

সভা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাসদ সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক নাজাত কবির এবং বাংলাদেশ যুবজোট সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির কান্তি দাস।

সভায় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম শামীম, বাংলাদেশ যুবজোট সিলেট জেলা শাখার সভাপতি এইচ. এম. জাকারিয়া, সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমদ, বাসদ সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু জাফর, বাসদ সিলেট জেলা শাখার সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পাল, সাম্যবাদী আন্দোলন সিলেট জেলা সমন্বয়ক মহিতোষ দেব মলয়, সাম্যবাদী আন্দোলন সিলেট জেলা সদস্য অ্যাডভোকেট রনেন সরকার রনি, বাসদ মৌলভীবাজারের সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাস এবং বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সিলেট জেলা সদস্য ডা. হরিধন দাস।

বক্তারা ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, দেশের গণতন্ত্র, সাম্য, সামাজিক ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

বৈষম্য, শোষণ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।

একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, ইতিহাসের সঠিক মূল্যায়ন এবং অতীতের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের মানুষের অধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সকল প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় বাংলাদেশ জাসদ, বাংলাদেশ যুবজোট, সাম্রাজ্যবাদ ও যোদ্ধবিরোধী জোট সহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

» সিলেট মেরিন একাডেমিতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত

Published: ০৭. নভে. ২০২৬ | শনিবার

নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি সিলেটে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬’ পালিত হয়েছে।

এ দিবস উপলক্ষ্যে সদর উপজেলার বাদাঘাট এলাকায় মেরিন একাডেমিতে শনিবার (৭ নভেম্বর) দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এর মধ্যে ছিল এদিন সকাল আটটায় একাডেমির মেইন মাস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

পরে কর্মসূচির অংশ হিসেবে শীবেরবাজার এলাকায় জামেয়া ওয়াহিদিয়া এতিমখানায় শিশুদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হয়।

এছাড়াও একাডেমির ক্যাডেট ব্লকে বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

পরবর্তীতে জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে একাডেমির জামে মসজিদে বাদ যোহর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ মেরিন একাডেমি সিলেটের কমান্ড্যান্ট মেরিন ইঞ্জিনিয়ার মো. হুমায়ুন কবির একাডেমির ক্যাডেটদের দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলার শিক্ষা নিয়ে আগামীতে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার জন্য একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি বলেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা ক্যাডেটদের সততা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে দেশসেবায় উদ্বুদ্ধ করে।

দিবসের আয়োজিত কর্মসূচিতে মেরিন একাডেমি, সিলেটের সকল কর্মকর্তা, শিক্ষক, কর্মচারী এবং ক্যাডেটবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

» জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে সরকারি মদন মোহন কলেজে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

Published: ০৭. নভে. ২০২৬ | শনিবার

নিউজ ডেস্কঃ

“বৈষম্য অবসানের লক্ষ্যেই ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার অনবদ্য বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।

আর তারই ধারাবাহিকতায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্র তার প্রকৃত মুক্তির স্বাদ লাভ করে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে সরকারি মদন মোহন কলেজ আয়োজিত ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

দিবসটি উপলক্ষে সরকারি মদন মোহন কলেজে আলোচনা সভা ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোছা: তাহমিনা আক্তার।

শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আলী হাসান পারভেজের সভাপতিত্বে ও উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক উজ্জ্বল দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম।

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহমদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক রজত কান্তি ভট্টাচার্য, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক হোসনে আরা কামালী এবং রসায়নবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. আব্দুল হামিদ প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন, মান্যবর প্রধান অতিথি এবং কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর মোছা. তাহমিনা আক্তার।

» অসুস্থ প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীকে দেখতে হাসপাতালে জামায়াত নেতৃবৃন্দ

Published: ০৭. নভে. ২০২৬ | শনিবার

নিউজ ডেস্কঃ
হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপিকে দেখতে গেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ।
এসময় তারা মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মন্ত্রীকে দেখতে যান জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল।
প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে চিকিৎসাসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকেও খোঁজ নেন।
প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, মহানগর নায়েবে আমীর ও আসন্ন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ড. নূরুল ইসলাম বাবুল সহ মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এসময় জামায়াত নেতৃবৃন্দ মন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন এবং তিনি যেন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরতে পারেন, সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে শুক্রবার সকালে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ভোলাগঞ্জ স্থলবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মন্ত্রীকে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তাঁর চিকিৎসা চলছে।

» সিলেটে সিটি মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, অংশ নিল পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী

Published: ০৭. নভে. ২০২৬ | শনিবার

নিউজ ডেস্কঃ

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং মেধাবীদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সিটি মেধাবৃত্তি পরীক্ষা-২০২৬’।

প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় সিটি আদর্শ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এ বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নগরীর করেরপাড়াস্থ সিটি মডেল স্কুলের ক্যাম্পাস-১-এ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সিলেট নগরীর ৮ নম্বর ওয়ার্ড সহ বিভিন্ন এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন, পাঠানটুলা দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল উদ্দিন, বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফা, বীরেশচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অর্জুন চন্দ্র দাস, সহকারী শিক্ষক শিমুল চক্রবর্তী এবং সিটি মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুনীল রঞ্জন দাস।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সিটি আদর্শ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক রাজন, সহ সভাপতি আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী এবং বৃত্তি আয়োজন কমিটির প্রধান সিদ্ধার্থ দাশ সহ সিটি মডেল স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ফাউন্ডেশনের সদস্যবৃন্দ।

পরিদর্শনকালে অতিথিরা পরীক্ষা কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং পরীক্ষার সার্বিক পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় তাঁরা শিক্ষার্থীদের মেধা, মননশীলতা ও সৃজনশীলতা বিকাশে এ ধরনের শিক্ষামূলক আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তাঁদের মতে, মেধাবৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলার পাশাপাশি পড়াশোনায় আরও মনোযোগী ও আত্মবিশ্বাসী হতে অনুপ্রাণিত করে।

পরীক্ষার সার্বিক নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করে সিটি মডেল স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা।

তাঁদের সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রের পরিবেশ ছিল সুন্দর ও সুশৃঙ্খল।

উল্লেখ্য, সিটি আদর্শ ফাউন্ডেশন প্রতিবছর শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় আয়োজিত সিটি মেধাবৃত্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশ, শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি ও উৎসাহ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

» মহান রুশ বিপ্লবের শিক্ষায় উজ্জ্বিবীত হয়ে শোষণহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করতে হবে

Published: ০৭. নভে. ২০২৬ | শনিবার

সিলেটে মহান রুশ বিপ্লব বার্ষিকীতে লাল পতাকা র‌্যালি সমাবেশ

নিউজ ডেস্কঃ

জাতীয় ন্যূনতম মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা ঘোষণা, গণতান্ত্রিক শ্রমআইন প্রণয়ন ও অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সর্বস্তরে রেশনিং চালুর দাবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ।

৭ নভেম্বর’২৬ শনিবার ১০৯তম মহান রুশ অক্টোবর বিপ্লব বার্ষিকীতে লাল পতাকা মিছিল করেছে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা।

বিকেল ৪টায় সুরমা পয়েন্টে সমাবেশ করে লাল পতাকা র‌্যালি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ছাদেক মিয়ার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুজন মিয়া, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সিলেট জেলা কমিটির দপ্তর সম্পাদক রমজান আলী পটু, শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি খোকন আহমদ, জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা কমিটির আহবায়ক শুভ আজাদ (শান্ত), বাংলাদেশ স’মিল শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সাহাব উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক ইমান আলী, শাহপরান থানা কমিটির সভাপতি জয়নাল মিয়া, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি বিল্লাহ, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি ৩নং খাদিমনগর ইউনিয়নের আহবায়ক মো. আবদাল মিয়া, মীরেরচক শ্রমজীবী সংঘের অন্যতম নেতা দুলাল মিয়াসহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বর মহান অক্টোবর বিপ্লব বার্ষিকীর এই দিনে পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ রাশিয়াতে শ্রমিক শ্রেণি প্রচলিত আর্থসামাজিক ব্যবস্থাকে ভেঙ্গেচুরে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত করে একনায়কত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থা।

এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে প্রচলিত পুঁজিবাদী-সাম্রাজ্যবাদী শোষণমূলক ব্যবস্থার বিপরীতে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হয়; অবসান ঘটে মানুষ কর্তৃক মানুষের উপর শোষনের।

৭ নভেম্বর পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বহারা শ্রেণীর প্রকৃত মুক্তির প্রশ্নে শ্রমিক শ্রেণীর রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের কালজয়ী বিপ্লবী তাৎপর্যপূর্ণ দিবস।

এই বিপ্লবী দিবসে শ্রমিক শ্রেণীর রাশিয়ার কমিউনিস্ট (বলশেভিক) পার্টির নেতৃত্বে, শ্রমিক-কৃষকের মৈত্রীর ভিত্তিতে শোষণমূলক বিশ্বব্যবস্থার বিপরীতে সর্বহারা শ্রেণীর তথা শ্রমিক-কৃষক মেহনতি মানুষের স্বার্থে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই-সংগ্রাম দুনিয়া কাঁপানো বিজয় অর্জনের মধ্যদিয়ে শোষণহীন সমাজের কাল্পনিক চিন্তার বিপরীতে বাস্তব ভিত্তিক রূপ প্রতিষ্ঠিত হয়।

সোভিয়েত ইউনিয়নের বলশেভিক পার্টির গঠন প্রক্রিয়া থেকে সকল রূপের সংশোধনবাদ-সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে পার্টি গড়ে উঠেছিল।

আজকে ও এদেশের সংশোধনবাদীদের তৎপরতার মূল লক্ষ্য হচ্ছে শ্রমিক শ্রেণির নেতৃত্বে, শ্রমিক শ্রেণির একনায়কতন্ত্র ও মহান কমরেড স্তালিনের অবদান অস্বীকার করে বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ পথে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলে সাম্রাজ্যবাদ ও তাঁর দালালদের সাথে শ্রেণি সমন্বয় করে সুবিধা ভোগ করা।

এদেশের শ্রমিক শ্রেণীর লড়াই-সংগ্রামে সাম্রাজ্যবাদ ও তাঁর এদেশীয় বুর্জোয়া শ্রেণীর হাতের পুতুল শ্রমিক সংগঠন ও নেতৃত্বের বিপরীতে শ্রমিকের স্বার্থে বিপ্লবী বিকল্প ধারার ট্রেড ইউনিয়ন সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ শ্রমিক শ্রেনী শ্রেণীগত ও পদ্ধতিগত লড়াই-সংগ্রামে আপসহীন, ধারাবাহিক ও নিরবিচ্ছিন্ন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেয়া, মিয়ানমারের সাথে করিডর প্রদানের তৎপরতা, চট্টগ্রামে মহড়ার নামে মার্কিন সৈন্য উপস্থিতি, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর নামে দেশের কৃষিকে মার্কিন একচেটিয়া লগ্নিপুঁজির হাতে তুলে দেয়া, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (গোপন চুক্তি) এর মাধ্যমে জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী চুক্তি সম্পন্ন করেছে।

গার্মেন্টন্স শ্রমিকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বলেন, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য শ্রমিকদের যে বেতন প্রয়োজন তা প্রদান করা হয়না।

শ্রমিকরা যখন তাদের ন্যায়সংগত দাবি ও অধিকার আদায়ের প্রশ্নে রাজপথে সোচ্ছার হয় তখন রাষ্ট্রের পেটুয়া বাহিনী ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা স্বৈরাচারী পন্থায় শ্রমিক নির্যাতন করে হত্যা করে।

এমনকি বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে শ্রমিকদের নির্যাতন করা হচ্ছে।

এসকল ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে গার্মেন্টন্স শ্রমিকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা মূল মজুরি ঘোণনার দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, সাম্রাজ্যবাদীরা তাদের স্বার্থ হাসিলে নয়াউপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী দেশগুলোতে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তাদের বাজার ও প্রভাব বলয়ের নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

শ্রমিক শ্রেণীর নেতৃত্বে পুজিঁবাদী সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোতে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব এবং বাংলাদেশের মত নয়া ঔপনিবেশিক-আধাসামন্তবাদী দেশগুলোতে জাতীয় গণতান্ত্রিক বিপ্লব জয়যুক্ত করে বিশ্ববিপ্লব তথা সমাজতন্ত্র-কমিউনিজম প্রতিষ্ঠার সু-মহান লক্ষ্যে আজ পৃথিবীর সকল শোষিত মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ।

বিশ্বের শ্রমিক শ্রেনী ও নিপীড়িত জনগণকে রুশ বিপ্লবের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে সাম্রাজ্যবাদীদের অন্যায় যুদ্ধের বিরুদ্ধে ন্যায় যুদ্ধ গড়ে তুলতে হবে।

Callender

November 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30