শিরোনামঃ-

» উদয় সমাজ কল্যাণ সংস্থা সিলেটের ২০তম বার্ষিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিল ৪ ডিসেম্বর

Published: ০৩. নভে. ২০২৬ | মঙ্গলবার

নিউজ ডেস্কঃ
সিলেটের স্বনামধন্য সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠন ‘উদয় সমাজ কল্যাণ সংস্থা সিলেট’-এর উদ্যোগে আগামী ৪ ডিসেম্বর ২০২৬ (২৪ জামাদিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি) শুক্রবার সংস্থার ২০তম বার্ষিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

খাসদবীর ৫নং ওয়ার্ডের ১ম গলিতে অনুষ্ঠিতব্য এই মাহফিলে দুপুর ২টা থেকে শুরু হয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে তাফসির পেশ করা হবে।

মাহফিলে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, খাসদবীর মদনী জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মুফতি নাসির উদ্দিন সাহেব।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত উলামায়ে কেরাম হিসেবে দেশবরেণ্য ও প্রখ্যাত বক্তাগণ তাফসির পেশ করবেন,  মুফতি গাজী মাসুদুর রহমান খাঁন (প্রিন্সিপাল, নয়াগাঙ্গেরপার আঞ্জব কোম্পানি দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা, কোম্পানীগঞ্জ, সিলেট), মাওলানা হাফিজুর রহমান সাহেব, বাহুবলী (বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর), মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সাহেব (প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, উম্মুল কুরা মাদ্রাসা, সাগরদিঘীরপাড়, সিলেট), হাফিজ মাওলানা আফতাব উদ্দিন মাসুমী সাহেব (ইমাম ও খতিব, হাজী আঙ্গুর মিয়া জামে মসজিদ, চৌকিদেখি, সিলেট), হাফিজ মাওলানা জুনায়েদ আহমদ আনসারী সাহেব (সহকারী খতিব ও ইমাম, শাহী ঈদগাহ ও বন্দর বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ)

হাফিজ মাওলানা দিলোয়ার সফিক সাহেব (সিনিয়র শিক্ষক, শিবগঞ্জ হাবিমিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, সিলেট) মাওলানা ক্বারী মোশাহিদ শিকদার সাহেব, সিলেট, মাওলানা নিয়ামত উল্লাহ খাসদবীরী সাহেব (সিনিয়র মুদাররিস দারুসসালাম মাদ্রাসা)।

এছাড়াও মাহফিলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও বরেণ্য উলামায়ে কেরামগণ মূল্যবান বয়ান পেশ করবেন।

পবিত্র এই তাফসিরুল কোরআন মাহফিলে ধর্মপ্রাণ সকল মুসলিম ভাইদের উপস্থিতি ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন, উদয় সমাজ কল্যাণ সংস্থা সিলেট সভাপতি সজিবুর রহমান রুবেল।

» প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে সেবা প্রদান শুরু সিউকের

Published: ০৩. নভে. ২০২৬ | মঙ্গলবার

মাত্র ১৫ কার্যদিবসে ভূমি ছাড়পত্র ও নকশার অনুমোদন

ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে নিবন্ধনের আওতায় ৩১৫ জন

ভবন নির্মাণে বাড়ছে মালিক, স্থপতি ও প্রকৌশলীদের দায়বদ্ধতা

নিউজ ডেস্কঃ
সিলেটকে একটি পরিকল্পিত, বাসযোগ্য ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)।

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার পর প্রথমবারের মতো মাত্র ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, ভবনের নকশা অনুমোদনপত্র ও পেশাজীবী-প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সনদ বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে সংস্থাটি।

এর মধ্য দিয়ে সিলেটে ভবন নির্মাণ, ভূমির ব্যবহার ও নগর পরিকল্পনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পথে দৃশ্যমান অগ্রযাত্রা শুরু হলো।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১১টায় নগরের নাইওরপুলে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভবন মালিক, স্থপতি, প্রকৌশলী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে অনুমোদনপত্র ও নিবন্ধন সনদ তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব সনদ বিতরণ করেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

অনুষ্ঠানে তিনজন ভবন মালিকের হাতে ভবনের নকশা অনুমোদনপত্র, নয়জনকে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, পাঁচজন স্থপতিকে নিবন্ধন সনদ, ছয়জন প্রকৌশলীকে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়।

পাশাপাশি ছয়টি রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান এবং পাঁচটি কারিগরি উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের সনদ প্রদান করা হয়।

সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র, ভবনের নকশা অনুমোদন এবং স্থপতি ও প্রকৌশলীদের নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত দুই মাসে ৩১৫ জন পেশাজীবী, সংস্থা, স্থপতি ও প্রকৌশলীর সনদ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভবন মালিকদের হাতে অনুমোদিত নকশাও তুলে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, গত দুই মাসে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা সিউকের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

নির্বাহী পরিচালক সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং সব অংশীজনের সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নগর পরিকল্পনায় শুধু অনুমোদন দেওয়াই যথেষ্ট নয়, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ হচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন সিউক চেয়ারম্যান।

এ কারণে অনুমোদিত নকশার বিপরীতে নির্মাণকাজ হচ্ছে কি না, তা পরিদর্শনের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।

ভবন মালিকদের পাশাপাশি নির্মাণকাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও সচেতন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

শুরুতেই আইন প্রয়োগের পথে না গিয়ে প্রথমে মানুষকে নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণে উদ্বুদ্ধ করতে চায় সিউক।

নির্দিষ্ট সময় পর প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রয়োগ করা হবে। ভবন মালিক, শহর ও দেশের স্বার্থেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সিলেটকে পরিকল্পিত নগরায়ণের আওতায় এনে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মো. সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন, আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সিউকের সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

যদিও দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল আরও দুই মাস আগে, এদিন থেকেই মূলত সেবাগ্রহীতাদের কাছে অনুমোদন ও নিবন্ধন সনদ হস্তান্তরের কার্যক্রম দৃশ্যমানভাবে শুরু হলো।

তিনি জানান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬ এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি)-২০২০ অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যেই ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র অনুমোদন করা হয়েছে।

তবে সীমিত জনবল নিয়ে কার্যক্রম শুরু করায় ভবিষ্যতে আবেদনসংখ্যা বাড়লে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব আবেদন নিষ্পত্তি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে নির্বাহী পরিচালক বলেন, বর্তমানে যেসব আবেদন জমা পড়ছে, সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তবে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যাচ্ছে সিউক। এ ছাড়া সংস্থাটির পরিদর্শন কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।

সিউকের নতুন কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ভবন নির্মাণ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

নিবন্ধনসংক্রান্ত শর্তাবলি পর্যালোচনায় দেখা যায়, শুধু ভবন মালিক নন, ভবনের নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি ও নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশলীদেরও নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার আওতায় আনা হচ্ছে।

নিবন্ধনের শর্তে নির্মাণকাজের সুপারভিশন বা তদারকির বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে।

নির্মাণ শুরুর আগে ভবন মালিক ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

নকশা তৈরি করে দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ থাকছে না; নির্মাণকাজে পেশাজীবীদের সম্পৃক্ততা ও তদারকিও নিশ্চিত করতে চায় কর্তৃপক্ষ।

অন্যদিকে, রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করার বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে সিউক।

নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সংস্থাটি।

সিউক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র ও ভবনের নকশা অনুমোদনের আবেদন পাওয়ার পর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা-১৯৯৬ এবং বিএনবিসি-২০২০ অনুসারে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিউক।

সংস্থাটিতে কর্মরত অথরাইজড অফিসার, সহকারী স্থপতি, উপসহকারী প্রকৌশলী, ইমারত পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব পরিদর্শনে অংশ নিচ্ছেন।

এর মাধ্যমে প্রস্তাবিত ভবন নির্মাণের আগে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো যাচাইয়ের পাশাপাশি নির্মাণ-পরবর্তী নিয়ম মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সিউক চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানিয়েছেন, ভবন নির্মাণ কমিটির (বিসি কমিটি) মাধ্যমে নকশা অনুমোদনের পরও তদারকি কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।

শুধু তাই নয়, নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ভবন ব্যবহারের আগে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট বা ব্যবহার সনদ প্রদানও নিশ্চিত করা হবে।

এর মাধ্যমে ভূমির ব্যবহার থেকে শুরু করে নকশা অনুমোদন, নির্মাণকাজের তদারকি এবং ভবন ব্যবহারের অনুমতি পুরো প্রক্রিয়াকে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসতে চায় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ- এমনটি জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে স্বল্প সময়ের মধ্যে কাঙ্খিত ছাড়পত্র ও নিবন্ধন সনদ হাতে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।

তাঁদের ভাষ্য, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তারা প্রয়োজনীয় সেবা পেয়েছেন।

এ জন্য সংস্থাটির প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আইন কার্যকর হওয়ার ফলে ভবন নির্মাণসংক্রান্ত অনুমোদন প্রদানের ক্ষেত্রে নতুন আইনগত বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে অন্য কোনো সংস্থা থেকে ভবন নির্মাণের অনুমোদনসংক্রান্ত কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে তা আইন অনুযায়ী অকার্যকর ও অননুমোদিত হিসেবে গণ্য হবে।

এ অবস্থায় সিলেটে ভবন নির্মাণে সিউকের অনুমোদন ও নির্ধারিত বিধিবিধান অনুসরণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

» পূবালী ব্যাংক পিএলসি বন্দরবাজার শাখার উদ্যোগে পৌর বিপণী কেন্দ্রকে ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত

Published: ০৩. নভে. ২০২৬ | মঙ্গলবার

নিউজ ডেস্কঃ

ডিজিটাল লেনদেন উৎসাহিত করতে এবং ক্যাশলেস সমাজ গড়ার প্রত্যয়ে সিলেটে পৌর বিপণী কেন্দ্রকে ক্যাশলেস ঘোষণা করার উদ্যোগ নিয়েছে পূবালী ব্যাংক পিএলসি।

এক দেশ এক কিউআর, লেনদেনে বাংলা কিউআর” স্লোগানকে সামনে রেখে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টায় নগরীর বন্দরবাজারস্থ পৌর বিপণী কেন্দ্র মার্কেটের সামনে পূবালী ব্যাংক পিএলসি, বন্দরবাজার শাখা সিলেটের আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই বিশেষ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

পূবালী ব্যাংক পিএলসি বন্দরবাজার শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ম্যানেজার (এসপিও) সুবীর কুমার দাসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, পৌর বিপনী কেন্দ্র দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সিকান্দর আলী।

বিশেষ অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পৌর বিপনী কেন্দ্র দোকান মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আহমেদুর রহমান মিনু, আলমগীর আলী সাহেদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কয়েছ আহমদ, তাছলিম আহমদ শুভ, পূবালী ব্যাংক পিএলসি সিলেট পূর্বাঞ্চলের এডিসি বিভাগের অফিসার সৈয়দ আহমদ মোহসি উদ্দিন, বন্দরবাজার শাখার জুনিয়র অফিসার দেবাশীষ রায়, ডেপুটি জুনিয়র অফিসার রাজীব ধর, জিয়াউর রহমান, আশীষ রায় প্রমূখ।

কার্যক্রমে ক্যাশলেস লেনদেন প্রসারের লক্ষ্যে বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়।

যার মধ্যে ফ্রি ব্যাংক হিসাব খোলার সুবিধা, তাৎক্ষণিক ফ্রি ডেবিট কার্ড প্রদান, পূবালী ব্যাংকিং অ্যাপ রেজিস্ট্রেশন সুবিধা, পূবালী ব্যাংক হিসাবের সাথে বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন সুবিধা, ব্যবসায়ীদের জন্য পজ ও বাংলা কিউআর আবেদনের সুবিধাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং সেবা।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা সহজেই আধুনিক, নিরাপদ এবং ক্যাশলেস লেনদেন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হয়ে উঠবেন বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

» কালীপূজায় ক্ষতিকর পটকা বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি সিলেট ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের

Published: ০৩. নভে. ২০২৬ | মঙ্গলবার

নিউজ ডেস্কঃ

আসন্ন শ্যামাপূজা ও কালীপূজায় সর্বসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনদুর্ভোগ এড়াতে বিপজ্জনক বিস্ফোরক ও ক্ষতিকর পটকা বর্জন এবং বেচাকেনা সম্পূর্ণ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, সিলেটের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

একইসঙ্গে এসব ক্ষতিকর সামগ্রী বিক্রি না করার জন্য সাধারণ ব্যবসায়ীদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে ‘বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলা শাখা’ এবং ‘সিলেট জেলা ব্যবসায়ী ঐক্যকল্যাণ পরিষদ’-এর নেতৃবৃন্দ এই আহ্বান জানান।

এদিকে, ক্ষতিকর পটকা ও বিস্ফোরক দ্রব্যাদি বন্ধের লক্ষে সম্প্রতি ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ও স্মারকিলিপি প্রদান করেন ‘বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট সিলেট মহানগর শাখা’র নেতৃবৃন্দ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী ৮ নভেম্বর (রবিবার) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব কালীপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

এ উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর সিলেটের কিছু চিহ্নিত এলাকায় প্রকাশ্যে নানা ধরনের ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক পটকা বিক্রি করা হয়।

এতে তীব্র শব্দদূষণের পাশাপাশি জনজীবনে বিরক্তি এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত পটকা বা আতশবাজির ব্যবহার সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এবং যেকোন সময় বড় ধরণের অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে।

তাই অনতিবিলম্বে অবৈধ পটকা বিক্রির পয়েন্টগুলো চিহ্নিত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিলেট জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

বিবৃতিদাতা নেতৃবৃন্দরা হলেন, সিলেট জেলাব্যবাসয়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ও বাংলাদেশ দোকানমালিক সমিতি সিলেট জেলার মহাসচিব আব্দুর রহমান রিপন, সিলেট জেলা ব্যবাসয়ী ঐক্য কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি সিলেট জেলার সহ-সভাপতি মো. আব্দুস ছোবহান, সাংগঠনিক সম্পাদক নিয়াজ মো. আজিজুল করিম, শ্রম সচিব শুয়েভ আহমদ অভি, সহ সাংগঠিনক সম্পাদকমীর মোহাম্মদ জাকারিয়া।

পরিশেষে সিলেটের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে সর্বস্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার এবং বিপজ্জনক পটকা বর্জনে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ।

» মুহিবুর রহমান একাডেমি’র আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

Published: ০৩. নভে. ২০২৬ | মঙ্গলবার

পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যোগ্য করে তুলতে হবে

নিউজ ডেস্কঃ
মুহিবুর রহমান একাডেমির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ মুহিবুর রহমান বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না বরং বিভিন্ন সৃজনশীল ও শিক্ষামূলক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের প্রতিভা বিকাশ এবং ভবিষ্যতের জন্য যোগ্য করে তুলতে হবে।

মুহিবুর রহমান একাডেমির শিক্ষার্থীরা আর্ট এন্ড ক্রাফট প্রদর্শনীর মাধ্যমে গ্রামবাংলার জীবনচিত্র ও প্রাচীর ঐতিহ্য তুলে ধরেছে।

তাঁদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, শিক্ষার্থীরা যেমন নিজেদের গ্রামের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে লালন করে, তেমনি তাদের প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুহিবুর রহমান একাডেমিকেও লালন করে।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) নগরীর মুহিবুর রহমান একাডেমি আয়োজিত আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট প্রদর্শনী ২০২৬’র উদ্বোধন ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল চর্চার ওপর গুরুত্ব ও তাদের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখবে মুহবিুর রহমান একাডেমি।

মুহিবুর রহমান একাডেমির কো-অর্ডিনেটর আব্দুস শহীদ চৌধুরী জিয়া’র পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, একাডেমির রেক্টর সালমা খানম চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. ইমদাদ উদ্দিন, সিলেট কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল ওয়াদুদ, সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজের অধ্যক্ষ জুয়েল মিয়া।

প্রদর্শনীতে একাডেমির বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের চিত্রকর্ম, হাতে তৈরি কারুশিল্প ও সৃজনশীল নানা শিল্পকর্ম স্থান পায়।

শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তি, উদ্ভাবনী চিন্তা, শৈল্পিক দক্ষতা ও সৃজনশীলতার চমৎকার বহিঃপ্রকাশ ঘটে প্রতিটি শিল্পকর্মে।

প্রদর্শনীতে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

আর্ট এন্ড ক্রাফট প্রদর্শনীতে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে তাঁদের মধ্যে নির্বাচিত ২০ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষার্থী-দলের সদস্যদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরষ্কারপ্রাপ্তরা হলেন, অষ্টম শ্রেণির বাংলা ভার্সনের জয়িতা আলম, রাবিয়া বিনতে হাসান ও নাফিসা চৌধুরী; চতুর্থ শ্রেণির বাংলা ভার্সনের মেহরুন জান্নাত ও আদিবা জান্নাত; দশম শ্রেণির শামস, ইশাম, আরিয়ান ও ইসান; কেজি-২-এর মিরহা হুসাইন মিরা; তৃতীয় শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের রত্ন প্রসাদ দাস এবং বাংলা ভার্সনের মাহেরা ইসলাম ও আদিত্য রায়; প্রথম শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের মো. জিসান আহমেদ; চতুর্থ শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের আনা ইসলাম ও করিমা হোসাইন; ষষ্ঠ শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের রাবদিয়া রহমান রাহা এবং বাংলা ভার্সনের আদিল জাহান আবিদ; পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ভার্সনের মাশিয়াত সারা এবং ইংরেজি ভার্সনের আলা আল দীন আফফান শান ও নুসাইবা হোসাইন; সপ্তম শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের এলিনা নুজহাত এবং অষ্টম শ্রেণির ইংরেজি ভার্সনের তাসনিম।

উল্লেখ্য, মুহিবুর রহমান একাডেমি প্রচলিত পাঠ্যক্রমভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নৈতিক, সাংস্কৃতিক, সৃজনশীল ও মানবিক গুণাবলির বিকাশে বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট প্রদর্শনী তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

» ২৫ নভেম্বর সিলেটে আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন

Published: ০৩. নভে. ২০২৬ | মঙ্গলবার

প্রায় দুই দশক পর সিলেট আসছেন শায়খুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানী

নিউজ ডেস্কঃ

মুসলিম বিশ্বের প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব, বিশ্ববরেণ্য আলেম, জগদ্বিখ্যাত ফকিহ ও শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী মনীষী শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী দা. বা. দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আগামী ২৫ নভেম্বর পুণ্যভূমি সিলেটে আগমন করছেন।

তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটসহ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান, উলামায়ে কেরাম ও দ্বীনি অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

সিলেটের প্রথম স্বতন্ত্র উচ্চতর গবেষণামূলক দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়াতুল খাইর আল ইসলামিয়া সিলেটের উদ্যোগে এ সফরের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালক মুফতি আবদুল মুনতাকিম দীর্ঘদিন ধরে শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মদ তকী উসমানীকে সিলেট ও বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছিলেন।

এ উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন সময়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করেও তাঁকে সিলেটে আগমনের অনুরোধ জানান। গত বছরও তাঁর সফরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু অনিবার্য কারণে সে সফর স্থগিত হয়ে যায়।

অবশেষে এ বছর মুফতি তাকী উসমানীর সম্মতি ও আগ্রহে চলতি নভেম্বর মাসে তাঁর সিলেট সফরের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে।

দ্বীনি মাদ্রাসাগুলোর বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় রেখে নভেম্বর মাসকে সফরের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

সফরকালে বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি ও ইসলামী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন, শায়খুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানী।

এ উপলক্ষে আগামী ২৫ নভেম্বর বুধবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামেয়াতুল খাইর আল ইসলামিয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে এক আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন।

এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম-খতিব, ইসলামী চিন্তাবিদ ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ব্যাপক সমাগম প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মুফতি আব্দুল মুনতাকিম বলেন, “শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী সমকালীন মুসলিম বিশ্বের এক অনন্যসাধারণ ইসলামী ব্যক্তিত্ব।

আরব-আজমে বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ ইসলামী স্কলার হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

ইলম, ফিকহ, গবেষণা, লেখনী, ইসলাহী মেহনত ও উম্মাহর পথনির্দেশনায় তাঁর অবদান বিশ্বব্যাপী স্মরণীয়।

এমন একজন মহান মনীষীর সান্নিধ্য লাভ এবং তাঁর কাছ থেকে ইলমি ও আমলি দিকনির্দেশনা গ্রহণের সুযোগ আমাদের জন্য এক বিরাট নেয়ামত।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তাঁর সিলেট আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও সৌভাগ্যের বিষয়।

বয়স ও শারীরিক বাস্তবতার কারণে ভবিষ্যতে তাঁর এ ধরনের সফরের সুযোগ কতটা পাওয়া যাবে, তা বলা কঠিন।

তাই এই সফরকে আমরা অত্যন্ত মূল্যবান ও ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চাই।

উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, মসজিদের ইমাম-খতিব, আধুনিক শিক্ষিত সমাজ এবং সর্বস্তরের মুসলমান যেন এ সুযোগের যথাযথ মূল্যায়ন করেন।

তাঁর সান্নিধ্য থেকে উপকৃত হন, তাঁর ইলমি আলোচনা ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন এবং যথাযোগ্য সম্মান ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁকে বরণ করে নেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

মুফতি আব্দুল মুনতাকিম সিলেট বিভাগের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরামের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি শুধু একটি সাধারণ সম্মেলন নয়; বরং সমকালীন মুসলিম বিশ্বের একজন শীর্ষস্থানীয় আলেম ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ফকিহের সান্নিধ্য লাভের এক বিরল সুযোগ।

তাই দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।

সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ সম্মেলনকে সিলেটের ইতিহাসে স্মরণকালের বৃহত্তম ও স্মরণীয় ইসলামী সমাবেশে পরিণত করতে হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিলেটের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম-খতিব, ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মুসলমান সম্মেলনে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মদ তকী উসমানীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন।

উল্লেখ্য, আগামী ২৫ নভেম্বর বুধবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এ আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিকেল ৩টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ সম্মেলনের শুরুতে পাকিস্তান মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব আল্লামা হানিফ জালন্ধরীও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করবেন।

এছাড়াও দেশ বিদেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী চিন্তাবিদ গন এ মহা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ সম্মেলন সিলেটের দ্বীনি অঙ্গনে এক স্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা করবে।

» এলপিজি ও অটোগ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সিলেট মহানগর জামায়াতের নিন্দা ও প্রতিবাদ

Published: ০৩. নভে. ২০২৬ | মঙ্গলবার

নিউজ ডেস্কঃ
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ এবং অটোগ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

একই সঙ্গে এলপিজি ও অটোগ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সিলেট মহানগর জামায়াতের প্রচার বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল ও সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলী বলেন, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম প্রতি লিটারে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯১ টাকা ৯৫ পয়সা করা হয়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ যখন দিশেহারা, তখন জ্বালানি খাতের এ মূল্যবৃদ্ধি জনজীবনে নতুন করে দুর্ভোগ সৃষ্টি করবে।

বিশেষ করে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ায় সাধারণ পরিবারের ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, অটোগ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পরিবহন খাতেও পড়বে। যানবাহনের পরিচালন ব্যয় বেড়ে গেলে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।

পাশাপাশি গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এতে যাত্রীসাধারণের যাতায়াত ব্যয় ও নিত্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে।

তাঁরা আরও বলেন, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে, মাত্র ১২টি কোম্পানির হাতে পুরো এলপিজি খাত জিম্মি হয়ে আছে।

সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিবর্তে সরকার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লুটপাটের সুযোগ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

এর দায়ভার শেষ পর্যন্ত সাধারণ জনগণকেই বহন করতে হচ্ছে।

অবিলম্বে এলপিজি ও অটোগ্যাসের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং বাজারে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

» মৃত্যুবার্ষিকীতে সাইক্লোনের আলোচনা সভা

Published: ০৩. নভে. ২০২৬ | মঙ্গলবার

দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ একজন মানবতাবাদী ছিলেন : আবদুল কাদের তাপাদার

নিউজ ডেস্কঃ
দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ একজন মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি তার লেখায়-চিন্তায় ছিলেন অভিন্ন।

জমিদার পরিবারে জন্ম হলেও তিনি প্রজাদের অধিকার আদায়ের জন্যে তাদের পক্ষাবলম্বন করেছেন।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

সাইক্লোন কেন্দ্রীয় সংসদের ৩৪৯তম সাহিত্য আসরে জাতীয় অধ্যাপক দার্শনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মূখ্য আলোচকের বক্তব্যে সিলেট প্রেসক্লাবের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আবদুল কাদের তাপাদার এ কথা বলেন।

সংসদের কেমুসাস সাহিত্য আসর কক্ষে সাইক্লোনের সভাপতি ভ্রমণকাহিনি লেখক মোয়াজ আফসারের সভাপতিত্বে গত সোমবার (২ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত সভায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সাইক্লোনের সাধারণ সম্পাদক ইশরাক জাহান জেলি।

সাইক্লোনের সাবেক সভাপতি সেলিম আউয়ালের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন, এডিশনাল পিপি এডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি, কবি শামসীর হারুনুর রশীদ, কবি সরওয়ার ফারুকী।

সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন, কবি কামাল আহমদ।

অনুষ্ঠানের শেষ পযায়ে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন, আন্তর্জাতিকভাবে কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফিজ আজহারুল ইসলাম উসামা।

পরে হাফিজ উসামাকে সাইক্লোনের পক্ষ থেকে দেওয়ান মাহমুদ রাজার সৌজন্যে সম্মানী প্রদান করা হয়।

» পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে : রুহুল কবির রিজভী

Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার

উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ গড়তে কাজ করছে সরকার : আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী

নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও মানুষের জমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সোমবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটি কঠিন সংকটের মধ্যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের কলকারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনেও এর প্রভাব পড়ে।

রিজভী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে নানা ধরনের উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

পরাজিত শক্তি দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

দেশের ভেতরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

রিজভী বলেন, বিএনপি ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। সেই লড়াইয়ের চেতনা থেকেই সরকার গণতান্ত্রিক সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের নীতিতে সরকার দেশ পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের বিকাশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ পথে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, শ্রমিকদের নানা ধরনের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর পেছনে পতিত শক্তি ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও বক্তব্যও সামনে এসেছে।

এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে-এটি এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট।

রিজভী বলেন, দেশের রাজনৈতিক বিষয়গুলো সংসদে বা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব।

কিন্তু সে পথে না গিয়ে লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’-এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি সরকারের বয়স মাত্র আট মাস।

এরই মধ্যে সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছে।

দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এসব বিষয়কে উপেক্ষা করে অপপ্রচারের মাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। যারা ‘বিপ্লবের’ কথা বলছেন, তাদের অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

বিএনপি প্রকাশ্যে গণতন্ত্র ও একটি নীতি-আদর্শের জন্য ১৭ বছর আন্দোলন করেছে। এই আন্দোলনে অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, রক্ত ঝরেছে।

রিজভী বলেন, পরাজিত শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে নানা ধরনের কর্মকাণ্ড ও উসকানি দিচ্ছে। তাঁদের প্ররোচনায় কেউ কোন ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তা তাদের জন্যও মঙ্গলজনক হবে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলে চোরাপথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের কোন সুযোগ নেই।

বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত গণতন্ত্রকামী। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।

রিজভী বলেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমেই বিএনপি ও তার জোট ক্ষমতায় এসেছে। কেউ চোরাপথে বা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে তা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে।

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য এমএ মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী সহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

» প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর সিলেট বিভাগ গণদাবী ফোরামের স্মারকলিপি

Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার

নিউজ ডেস্কঃ
বাংলাদেশের আধ্যাত্মিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী সিলেট নগরীসহ গোটা সিলেট বিভাগের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন, বৈষম্য নিরসন এবং দীর্ঘদিনের লালিত অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেছে, সিলেট বিভাগ গণদাবী ফোরাম।

সোমবার (২ নভেম্বর) বিকালে নগরীর দরগা গেইটস্থ একটি অভিজাত হোটেলে সিলেট বিভাগ গণদাবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভীর কাছে  এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।

এসময় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপি, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ্ সিদ্দিকী, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম সহ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, মহান ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সহ দেশের সার্বিক অর্থনীতি, প্রবাসী আয় ও জাতীয় উন্নয়নে সিলেট বিভাগ সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।

তা সত্ত্বেও সিলেট বিভাগ ক্রমাগত উন্নয়ন বৈষম্য ও অবহেলার শিকার হয়ে আসছে।

এ অঞ্চলের প্রবাসী, পর্যটক ও সাধারণ জনগণের সুবিধা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির স্বার্থে স্মারকলিপিতে ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়।

দাবি সমূহ হলো বাংলাদেশের অন্যতম পরবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত সিলেট বিভাগের অধিবাসী, প্রবাসী ও পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরকে প্রথম শ্রেণীর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে রূপান্তর এবং সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর হইতে সকল আন্তর্জাতিক রুটে দেশী বিদেশী সকল যাত্রীবাহী ও কর্গো বিমানের সরাসরি ফ্লাইট চালু করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।

পুন্যভূমি সিলেট বিভাগের রেলওয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রবাসী ও পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, সকল প্রকার ব্যবসা বাণিজ্য ও শিল্পের উন্নয়নকল্পে সিলেট-ঢাকা ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথের সিলেট হইতে আখাউড়া পর্যন্ত বিদ্যমান রেলপথ থকে ব্রডগ্রেজ ডাবল লাইনে রুপান্তর করে উক্ত রেলপথের বিদ্যমান সকল ষ্টেশন উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কার্য্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করা।

সিলেট বিভাগের অধিবাসী প্রবাসী ও পর্যটকদের যাতায়তের সুবিধার্থে অভিলম্বে পুন্যভূমি সিলেট হইতে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতের জন্য একটি বিরতীহীন আধুনিক ট্রেইন ও পুন্যভূমি সিলেট থেকে বন্দর নগরী চট্টগ্রাম হয়ে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাতায়তের জন্য একটি বিরতীহীন আধুনিক ট্রেইন চালু করা এবং চলমান সকল আন্তনগর ট্রেইনে বগি ও যাত্রী সেবার মান বৃদ্ধির যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।

তামাবিল স্থলবন্দর হইতে পর্যটন নগরী সিলেট হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ছয় লেন বিশিষ্ট জাতীয় মহাসড়কে রূপান্তর ও সম্প্রসারনের যাবতীয় উন্নয়ন কার্য্য অতি দ্রুত সম্পূর্ণ করে যান-বাহন চলাচলের উপর্যুক্ত করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।

পুন্যভূমি সিলেট বিভাগের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রবাসী ও পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধা বৃদ্ধি, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, সকল প্রকার শিল্প ও ব্যবসা বাণিজ্যের উন্নয়নকল্পে মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার সাবাজপুর হইতে-জুড়ী-কুলাউড়া-রবিরবাজার-শমসেরনগর-কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল-শায়েস্তাগঞ্জ সড়ককে চার লেন বিশিষ্ট জাতীয় মহাসড়কে উন্নিত করে অবিলম্বে উহার উন্নয়ন কাজ সম্পূর্ণ করে যান-বাহন চলাচলের উúযুক্ত করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার শমশের নগর বিমান বন্দর হইতে জাতীয় ও আন্তজার্তীক রুটে ফ্ল্যাইট চালু করা এবং সেখানে ‘‘বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি পুর্ণাঙ্গ ঘাটি’’ স্থাপন এবং একটি আধুনিক ‘‘এ্যারোনেটিক্যাল সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়’’ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।

পাহাড় নদী হাওড় ও জলাভূমি পরিবেষ্টিত সিলেট বিভাগ ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে সিলেট কৃতিসন্তান বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর সাবেক প্রধান রিয়াল এডমিরেল মাহবুব আলী খান সাহেবের নামে সিলেট জেলার সুরমা অথবা কুশিয়ারা নদীর নিকটবর্তী সুবিধা জনক স্থানে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ঘাটি স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।

অবহেলিত সিলেট বিভাগের শিক্ষার উন্নয়নে পুণ্যভূমি সিলেটে একটি ‘‘প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়’’ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।

পরবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত প্রাকৃতিক সম্পদ ও চা শিল্পে সমৃদ্ধ অবহেলিত মৌলভীবাজার শিক্ষার উন্নয়ন ও চিকিৎসা সেবা বৃদ্ধির স্বার্থে হিতার্থে মৌলভীবাজার জেলা সদরে একটি আধুনিক ‘‘বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’’ ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

জালালাবাদ সেনা নিবাস সিলেটে একটি ‘‘আর্মস ফোর্সেস মেডিকেল কলেজ’’ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।

অবহেলিত সিলেট বিভাগের শিক্ষার উন্নয়নে পুণ্যভূমি সিলেটে একটি ‘‘গার্লস ক্যাডেট কলেজ’’ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রদান করা।

সিলেট বিভাগের অধিবাসী প্রবাসী ও পর্যটকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুলাউড়া-বড়লেখা-সাবাজপুর রেলপথে পুনরায় ট্রেন চালু করার ঘোষনা প্রদান করা।

হাওর ও জলাভুমি úরিবেষ্টিত ঐতিহ্যবাহী সুনামগঞ্জ জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কল্পে সিলেট-সুনামগঞ্জ-নেত্রকোণা-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ সড়ক কে চার লেন বিশিষ্ট মহাসড়কে রূপান্তর উন্নয়ন ও সম্প্রসারনের ঘোষনা প্রদান করা।

সিলেট বিভাগের বিচার প্রার্থী ভুক্তভোগী জনগণের দুঃখ ও দুর্দশা লাঘবের জন্য পূণ্যভুমি সিলেটে অবিলম্বে ‘‘হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ’’ পুনঃস্থাúন ও প্রতিষ্ঠার ঘোষণা প্রদান করা।

বাংলাদেশের শিল্পের বিকাশ ও জালানী সংকট নিরসন কল্পে সিলেট বিভাগে আবিস্কৃত সকল গ্যাস ও তৈল ক্ষেত্র/কোপ হইতে গ্যাস ও তৈল আহরন উত্তোলন ও বিতরনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা এবং গ্যাস সংযোগ প্রদান কার্য্যক্রমের উপর হইতে সকল বিধি নিষেধ প্রত্যাহার করে সিলেট বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা সদর সহ সর্বত্র আবাসিক ও বাণিজিক গ্যাস সংযোগ প্রদানের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।

 ওলিকুল শিরমণি হযরত শাহজালাল (রহঃ) ও হযরত শাহপরাণ (রহঃ) সহ অসংখ্য পীর আউলিয়া ও গুণীজনের স্মৃতি বিজড়িত পর্যটন নগরী পুণ্যভুমি সিলেট মহানগরীকে বাংলাদেশের ‘‘আধ্যাত্বিক ও অর্থনৈতিক রাজধানী’’ ঘোষনা করে গ্যাজেট প্রকাশের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।

প্রাকৃতিক সম্পদের অফুরন্ত ভান্ডার ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভুমি পুণ্যভূমি সিলেট বিভাগকে বাংলাদেশের ‘‘পর্যটন অঞ্চল’’ ঘোষনা করে গ্যাজেট প্রকাশের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ উন্নয়ন ও দেশে বিদেশে পর্যটন শিল্পে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল সরবরাহ ও গড়ে তোলার লক্ষ্যে পর্যটনের আকর্ষনীয় স্থান ও প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটে বিভাগে আন্তর্জাতিক মান সম্পূর্ণ একটি ‘‘পর্যটন বিশ্ববিদ্যালয়’’ স্থাপন ও প্রতিষ্ঠার ঘোষনা প্রদান করা।

প্রবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত সিলেট বিভাগের শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়ন এবং প্রবাসী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুবিধার্থে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জে চারটি পৃথক ‘‘ইপি জেড, চারটি শিল্পপার্ক ও চারটি ট্যুরিজম পার্ক’’ স্থাúন ও প্রতিষ্ঠার ঘোষনা প্রদান করা।

সিলেট বিভাগের সকল গ্যাস ও তৈল ক্ষেত্র হইতে উত্তোলনকৃত অপরিশোধিত তৈল সংরক্ষন ও পরিশোধনের সুবিধার্থে সিলেটে একটি ‘‘আধুনিক তৈল সংরক্ষন ও শোধানাগার’’ এবং একটি আধুনিক ‘‘গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ’’ কারখানা স্থাúন ও প্রতিষ্ঠার ঘোষনা প্রদান করা।

সিলেট বিভাগের কৃষি, মৎস্য, পানি সম্পদ, জলúথের উন্নয়ন ও অকাল বন্যা প্রতিরোধকল্পে সুরমা নদী, কুশিয়ার নদী, মনু নদী, খোয়াই নদী, জুড়ী নদী, কালনী নদী, চেঙ্গের খাল নদী, পিয়াইন নদী সহ সিলেট বিভাগের ছোট বড় সকল নদী রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় খনন ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পানির নাব্যতা বৃদ্ধি করে যাত্রীবাহী ও মালবাহী সকল প্রকার জলযান চলাচল ও যাতায়াতের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন অঞ্চল সিলেট বিভাগের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কল্পে সিলেট বিভাগের সকল জেলা সদর হইতে থানা ও উপজেলা সদরের সংযোগ সড়ক, সকল পর্যটন ষ্পর্ট ও কেন্দ্রের সংযোগ সড়ক সহ সকল রাস্তার মেরামত সংস্কার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের ঘোষণা প্রদান।

সিলেটি নাগরী অক্ষরকে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষালিúি ও নাগরী ভাষাকে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষা হিসাবে ঘোসনা করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্থরে পাঠ্যপুস্তকের অন্তর্ভূক্তির যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষার জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত “পরিবেশ পুলিশ বাহিনী”, বন বিভাগ সুরক্ষার জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত “বন পুলিশ বাহিনী বা বনরক্ষী বাহিনী” এবং সকল প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত “ডিজাষ্টার প্রতিরক্ষা বাহিনী” গঠনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা।

বাংলাদেশের সকল সরকারী আধাসরকারী স্বায়ত্তশাসিত অফিস ও সংস্থার কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ননগ্যাজেটেড কর্মকর্তা, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগ কালে স্থানীয় অধিবাসী বা নিজ নিজ জেলার অধিবাসীগণকে নিয়োগর বাধ্যবাধ্যকতা আরোপের বিধি বিধান প্রনয়ন ও বাস্থবায়নের ঘোষনা প্রদান করা।

স্মারকলিপিতে গণদাবী ফোরামের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার অবহেলিত পূণ্যভূমি সিলেটের প্রতি ইনসাফ কায়েম করে এসব যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

» কেবল পাশের হার বৃদ্ধি নয়, মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য : এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী

Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

সিলেট-৬ আসনের সাংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেছেন, কেবল পাশের হার বৃদ্ধি নয়, মেধাবী শিক্ষার্থী তৈরি করাই সরকারের লক্ষ্য।

পাশ করলাম, ভালো গ্রেড পেলাম, চাকরির ইন্টারভিউতে গিয়ে কিছুই পারলাম না, এটাতো কাম্য নয়।

এই শিক্ষা সরকার চায় না। এ সরকারের আমলে সব পরীক্ষার পেপার ভালো করে দেখা হয়েছে। ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে তুলতে মেধাবী শিক্ষার্থী, প্রকৃত সুনাগরিক তৈরি করতে হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) গোলাপগঞ্জের পৌর এলাকায অবস্থিত জামেয়া ইসলামীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি ও জুনিয়র বৃত্তিপ্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী আরও বলেন- এবারের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে শিক্ষা খাতে। সরকার শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য ১ লক্ষ ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

মিড ডে মিল-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরবর্তী থেকে শিক্ষার্থীরা স্কুল ব্যাগ, জুতা, ইউনিফর্ম পাবে। মেয়েদের জন্য সরকার গ্রেজুয়েশন পরযন্ত ফ্রি পড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের শুধু বিদেশ গেলে চলবে না, ভালো করে লেখাপড়া করে দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এছাড়া শিক্ষার্থীরা মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অভিশাপ। অভিভাবকদের এ ব্যপারে সতর্ক হতে হবে।

সরকার পরিচালনার কথা উল্লেখ করে সাংসদ বলেন- সংসদে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়। কিন্তু রাস্ট্রের প্রশ্নে আমরা সবাই এক।

কারণ- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অন্যতম স্লোগান- সবার আগে বাংলাদেশ। তাই সবাই মিলে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল জিন্নুর আহমদ চৌধুরী।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহফুজ আহমদ চৌধুরীর পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মহিউসসুন্নাহ চৌধুরী নার্জিস, গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তস (ওসি) ছবেদ আলী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি নোমান উদ্দিন মুরাদ।

আরও বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল জিন্নুর আহমদ চৌধুরী, পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও বাদেপাশা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিন রায়হান ও গোলাপগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জালাল উদ্দিন আহমদ, মো. আব্দুল কাদির ও মো. ইখতিয়ার উদ্দিন।

» জন্মদিনে স্মরণ পা‌লিত হয়‌নি বাউলসম্রাট দুর্বিন শাহ; মরমি গানের জগতে এক অনন্য সাধক

Published: ০২. নভে. ২০২৬ | সোমবার

ছাতক প্রতিনিধিঃ
সুর, সাধনা ও মানবতাবাদী দর্শনে সমৃদ্ধ তাঁর জীবন ও সংগীত ভুবন তার জন্মদিন ও স্মরণ-সভা পা‌লিত হয়‌নি।

বাংলা লোকসংগীত ও মরমি সাহিত্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নাম বাউল কবি দুর্বিন শাহ।

সুফিবাদ, মরমি দর্শন, মানবপ্রেম ও আধ্যাত্মিক সাধনার অপূর্ব সমন্বয়ে তিনি সমৃদ্ধ করেছেন বাংলার লোকসংগীতের ভান্ডার।

তাঁর রচিত অসংখ্য গান আজও মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে দোলা দেয়।

সুর, শব্দ ও দর্শনের মধ্য দিয়ে তিনি মানুষের আত্মিক জগৎ, প্রেম, বিরহ, জীবনবোধ এবং স্রষ্টার সন্ধানকে তুলে ধরেছেন অনন্য শিল্পশৈলীতে।

আজ  সোমবার (২ নভেম্বর) এই মরমি সাধকের জন্মদিন।

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অভাব দুঃখজনক হলেও সত্য, এখনো পর্যন্ত ফকির দুর্ব্বিন শাহ রাষ্ট্রীয় কোন বড় স্বীকৃতি পাননি।

অথচ তাঁর গান আজও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অমূল্য সম্পদ হিসেবে বেঁচে আছে। তাঁর সৃষ্টিকর্ম শুধু বাংলার নয়, বিশ্বমানবতার ঐতিহ্যের অংশ।

জন্ম ও শৈশব ১৯২১ সালের ২ নভেম্বর সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার নোয়ারাই গ্রামের তারামনি টিলায় জন্মগ্রহণ করেন ফকির দুর্ব্বিন শাহ।

তাঁর প্রকৃত নাম দুর্ব্বিন শাহ, তবে পরবর্তীতে “দুর্ব্বিন শাহ” নামেই তিনি পরিচিত হন।

পিতা সফাত আলী শাহ ছিলেন এক সুফি সাধক এবং মাতা হাসিনা বানু ছিলেন ধার্মিক পীরানী। আধ্যাত্মিক পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে ছোটবেলা থেকেই তাঁর শিল্পীসত্তার বিকাশ ঘটে।

পড়াশোনার দিক থেকে তিনি অগ্রসর হতে পারেননি—শুধু পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিলেন সুরমা নদী পার হয়ে বাগবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

তবে স্বল্পশিক্ষিত হলেও সঙ্গীতের জগতে তাঁর জ্ঞানের ভাণ্ডার ছিল বিশাল। শৈশবেই গান লেখা ও সুর করার অভ্যাস গড়ে ওঠে।

কৈশোরে গ্রামের আখড়া ও আসরে গান পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি জনমনে পরিচিতি লাভ করেন।

আধ্যাত্মিক সাধনা ও সংগীতচর্চার পারিবারিক পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা। পরবর্তী সময়ে তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে সেই তারামনি টিলা পরিচিতি লাভ করে ‘দুর্বিন টিলা’ নামে।

শৈশবেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। মাত্র সাত বছর বয়সে পিতাকে হারান দুর্বিন শাহ।

তবে পারিবারিক আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, সাধুসঙ্গ এবং নিজস্ব চিন্তা-চেতনা তাঁকে সংগীতের পথে এগিয়ে নেয়। ১৯৪৬ সালে সুরফা বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি।

দুর্বিন শাহের অধিকাংশ গানে সুফিবাদ ও মরমিবাদের গভীর প্রভাব লক্ষ করা যায়। তবে তাঁর সৃষ্টির পরিধি কেবল আধ্যাত্মিক সংগীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

মানুষের সুখ-দুঃখ, প্রেম-বিরহ, সামাজিক বাস্তবতা, গ্রামীণ জীবন, মানবিক সম্পর্ক এবং দেশপ্রেমও তাঁর গানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

তাঁর গানকে বিষয়বৈচিত্র্যের দিক থেকে বাউল, বিচ্ছেদ, আঞ্চলিক, গণসংগীত, মালজোড়া, জারি, সারি, ভাটিয়ালি, গোষ্ঠ, মিলন, রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক পদাবলি, হামদ-নাত, মারফতি, পির-মুর্শিদ স্মরণ, ওলি স্মরণ, ভক্তিগীতি, মনঃশিক্ষা, সুফিতত্ত্ব, দেহতত্ত্ব, কামতত্ত্ব, নিগূঢ়তত্ত্ব, পারঘাটাতত্ত্ব ও দেশের গানসহ বিভিন্ন ধারায় বিন্যস্ত করা যায়।

এ ছাড়া বিবিধ বিষয়েও তিনি অসংখ্য পদ রচনা করেছেন।

১৯৬৭ সালে প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণে ইংল্যান্ড সফর করেন দুর্বিন শাহ। তাঁর অন্যতম সফরসঙ্গী ছিলেন, আরেক কিংবদন্তি বাউলসাধক শাহ আবদুল করিম।

ইংল্যান্ডে তাঁর গানের কথা, সুর ও গভীর ভাবদর্শনে মুগ্ধ হন প্রবাসী বাঙালি ও সংগীতপ্রেমীরা।

তাঁর অসাধারণ জ্ঞান, সাধনা ও সংগীতপ্রতিভার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে ‘জ্ঞানের সাগর’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

দুর্বিন শাহের গানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো সহজ-সরল শব্দের ভেতরে গভীর জীবনদর্শন ও আধ্যাত্মিক তত্ত্বের প্রকাশ।

তাঁর গানে মানুষের অন্তর্জগৎ, আত্মার অনুসন্ধান, মুর্শিদের প্রতি ভালোবাসা এবং পরম সত্তার সন্ধান বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাকে অবলম্বন করে তিনি যে মরমি সাহিত্য রচনা করেছেন, তা বাংলা লোকসংগীতকে দিয়েছে স্বতন্ত্র মর্যাদা।

১৯৭৭ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ৫৭ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি বাউল কবি। তাঁর শারীরিক মৃত্যু ঘটলেও সংগীত ও সাধনার জগতে তিনি আজও অমর।

ছাতকের নোয়ারাইয়ের তারামনি টিলা থেকে উঠে আসা এই সাধক শুধু একটি অঞ্চলের গর্ব নন, তিনি বাংলা লোকসংগীত ও মরমি সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

তাঁর জন্মদিনে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর গান, দর্শন ও জীবনসাধনা তুলে ধরা এবং তাঁর সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ করা সময়ের দাবি।

স্মৃতিচারণায় উঠে আসা দুর্বিন শাহের জীবন ও সাধনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়-প্রকৃত শিল্পীর মৃত্যু হয় না; তাঁর সৃষ্টি ও দর্শনের মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকেন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

Callender

November 2026
M T W T F S S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30