শিরোনামঃ-

» ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’ হবে নগরবাসীর বিনোদন ও শরীরচর্চার নতুন ঠিকানা : সিসিক প্রশাসক

Published: ০৫. অক্টো. ২০২৬ | সোমবার

নতুন রূপে আবারও খুলছে জালালাবাদ পার্ক

নিউজ ডেস্কঃ

আবারও খুলছে সিলেট নগরীর জালালাবাদ পার্ক। তবে এবার নতুন রূপে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’ নামে যাত্রা শুরু করবে পার্কটি।

নগরবাসীর জন্য উন্মুক্ত করার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

বয়স্কদের স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা এবং শিশুদের খেলাধুলার উপযোগী করে গড়ে তোলার পাশাপাশি পার্কের সীমানাপ্রাচীরও সংস্কার করা হবে, যাতে বাইরে থেকেও পার্কের ভেতরের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সরেজমিনে পার্কটি পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

এ সময় তিনি পার্কটি দ্রুত জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার ঘোষণা দেন।

সিসিক প্রশাসক বলেন, আমরা এই পার্কটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করছি। তবে তার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হবে।

শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার উপযোগী করে পার্কটি সংস্কার করা হবে।

পাশাপাশি পার্কটিকে দৃষ্টিনন্দন করা হবে, যাতে নগরবাসী এখানে স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন। নতুন নামকরণ করা হবে ‘জালালাবাদ সিটি পার্ক’।

তিনি বলেন, পার্কের গেট ও সীমানাপ্রাচীর এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই, এখানে একটি পার্ক রয়েছে। তাই সীমানাপ্রাচীরও সংস্কার করা হবে, যাতে বাইরে থেকে পার্কের ভেতরের সৌন্দর্য দেখা যায়। একই সঙ্গে পার্কের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা হবে।

সিসিকের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত থাকবে এবং তারা পালাক্রমে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করবেন। খুব দ্রুত পার্কের সংস্কারকাজ শুরু হবে।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সাগরদিঘীর পাড়ে সিসিকের উদ্যোগে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন শত শত মানুষ যান এবং সুন্দর সময় কাটান।

জালালাবাদ সিটি পার্কের সংস্কারকাজ শেষ হলে নগরবাসীকে এখানে এসেও অবসর সময় কাটানো এবং শরীরচর্চা করার আহ্বান জানানো হবে।

তিনি বলেন, সিলেট নগরীতে নগরবাসীর হাঁটাচলার মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। মুক্ত বাতাসে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগও সীমিত। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুরোনো কারাগারের জায়গাতেও পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিসিকের নিজস্ব মালিকানাধীন জালালাবাদ পার্ক ছাড়া পার্ক করার মতো আর তেমন জায়গা নেই। তাই এই পার্কটি নগরবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, জালালাবাদ সিটি পার্কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে অবস্থিত। এর কাছেই রয়েছে সার্কিট হাউস, ক্বিনব্রিজ, সুরমা নদী ও আলী আমজদের ঘড়ি।

ফলে পার্কটি সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে নগরবাসীর পাশাপাশি সিলেটে আসা পর্যটকদের জন্যও আকর্ষণীয় একটি স্থান হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এটি হবে সিলেটের সাংস্কৃতিক হাব।

সরেজমিন পরিদর্শনকালে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) একলিম আবদীন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) রজি উদ্দিন খান, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জয়দেব বিশ্বাস, নির্বাহী প্রকৌশলী (পানি) এনামুল হক তাপাদার সহ সিসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

» এবার সিলেট জেলায় ৬৩৬টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন

Published: ০৫. অক্টো. ২০২৬ | সোমবার

নিউজ ডেস্কঃ
শিউলি ফুটেছে, সাদা কাশবনে সেজেছে প্রকৃতি। চলছে শুভ্র শরতের স্নিগ্ধতা। প্রকৃতির এমন মুগ্ধ নিপুণতা জানান দেয় শারদীয়া দুর্গাপূজার আগমনী বার্তা। আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মন মাতানো কাশফুল আর শিউলি ফুলের মিষ্টি গন্ধে জগৎজননী মহামায়া আসছেন।

উৎসব-আনন্দে মুখর হবে সকলেই। আগামী ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাপঞ্চমী তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

শিশিরভেজা দূর্বাঘাসের ওপর ঝরেপড়া শিউলী ফুল কুড়ানোর সময়টাতে মাতৃবন্দনায় মিলিত হবেন ভক্তকুল।

ইতিমধ্যে শিল্পীদের দক্ষ হাতের ছোঁয়ায় পূর্ণরূপে ফোটে ওঠেছে দৃষ্টিনন্দন অধিকাংশ প্রতিমা।

সারাদেশের মতো সিলেটেও চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ। এ কাজে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা শিল্পীরা।

দেবী দুর্গা আসছেন অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীকে আলোকিত করতে। ঢাক, ঢোল, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেওয়ার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ভক্তরা।

ত্রিনয়নী দশভূজা দেবীর আসার ক্ষণে সনাতন হিন্দু ধর্মের মানুষরা মেতে উঠছেন আনন্দ-উল্লাসে। পূজোর প্রস্তুতির আমেজ বেড়ে গেছে শতগুণ।

আগামী ১৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার মহাপঞ্চমীর মধ্য দিয়ে শারদ উৎসব শুরু হবে। মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দুর্গার বর্ণিল সাজসজ্জার শেষ মুহূর্তের কাজ পুরোদমে চলছে।

প্রতিমায় রঙ-তুলির বর্ণিল আঁচড় দিয়ে চলছেন শিল্পীরা। আপন মনের মাধুরী মিশিয়ে শিল্পীরা অবিরাম কাজ করছেন।

পূজোর যাবতীয় উপকরণ, পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, চণ্ডীপাঠ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আরতী, ভজন কীর্ত্তন, আলোকসজ্জা ও ডেকোরেশনসহ নানা প্রস্তুতি এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। পূজার আয়োজনকারী প্রতিটি কমিটি ও পারিবারিক পূজা উদ্যোক্তারা এখন সর্বশেষ নান্দনিক আয়োজনের জন্য বিরামহীনভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

শারদ উৎসব উপলক্ষে সিলেট নগরের বিপণীবিতানগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে।

সনাতন ধর্মের লোকজন নতুন পোশাক কিনতে এ মার্কেট ও মার্কেট ঘুরে বেড়াচ্ছেন। সর্বত্রই এক সাজ সাজ রব। পূজো আসছে ভেবে সনাতন ধর্মের লোকজন আনন্দ প্লাবনে ভাসছেন।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ সিলেট জেলা ও মহানগর শাখা সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার বার্ষিক প্রতিনিধি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ১৮টি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন সিলেট জেলা ও মহানগর শাখার যৌথ উদ্যোগে ১১ সদস্যের একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। পূজা কমিটিগুলোকে সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং সেলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বছর সিলেট মহানগর এলাকায় সার্বজনীন ১৪৬টি ও পারিবারিক আয়োজনে ১৬টি পূজো অনুষ্ঠিত হবে।

সব মিলিয়ে সিলেট মহানগর এলাকায় সর্বমোট ১৬২টি মণ্ডপে পূজো অনুষ্ঠিত হবে। সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সার্বজনীন পূজো হবে ৪৭৪টি এবং পারিবারিক পূজো হবে ২৬টি।

সিলেট জেলার সার্বজনীন ও পারিবারিক মিলিয়ে সর্বমোট ৪৭৪টি পূজো হবে। সিলেট জেলা এবং সিলেট মহানগর মিলিয়ে সর্বমোট ৬৩৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত হবে।

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৫৮টি ও পারিবারিক ৫টি, বালাগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৩০টি ও পারিবারিক ৩টি, কানাইঘাট উপজেলায় সার্বজনীন ৩৫টি, জৈন্তাপুর উপজেলায় সার্বজনীন ২০টি, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৪০টি ও পারিবারিক ১টি, বিশ্বনাথ উপজেলায় সার্বজনীন ২৩টি ও পারিবারিক ৩টি, গোয়াইনঘাট উপজেলায় সার্বজনীন ৪০টি, জকিগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ৯৩টি ও পারিবারিক ২টি, বিয়ানীবাজার উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ৪২টি ও পারিবারিক ১২টি, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সার্বজনীন ২৮টি এবং ওসমানীনগর উপজেলায় সার্বজনীন পূজা ৩৯টি। সিলেট মহানগরের কোতোয়ালী মডেল থানা এলাকায় সার্বজনীন পূজো হবে ৩১টি ও পারিবারিক ১১টি, জালালাবাদ থানায় সার্বজনীন ১৯টি ও পারিবারিক ২টি, এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় সার্বজনীন ৩৯টি ও পারিবারিক ১টি, শাহপরাণ (র.) থানা এলাকায় সার্বজনীন ২৫টি ও পারিবারিক ১টি, দক্ষিণ সুরমায় সার্বজনীন ১৫টি ও এবং মোগলাবাজারে সার্বজনীন ১৭টি ও পারিবারিক ১টি পূজো অনুষ্ঠিত হবে।

সাধারণত আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষে শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পূজো আয়োজনের মূল ৫টি দিন যথাক্রমে মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী ও বিজয়া দশমী নামে পরিচিত। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষটিকে বলা হয় দেবীপক্ষ। দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যাটির নাম মহালয়া। এই দিন হিন্দুরা তর্পণ করে তাঁদের পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সিলেট নগরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। তার পাশাপাশি নগরের মণ্ডপগুলোকে বর্ণিল সাজে সাজানোর ব্যাপক প্রস্তুতি দেখা যায়। প্রতি বছর এই পূজাতে সিলেট নগরে নতুন নতুন সাজসজ্জা চোখে পড়ে।

সম্প্রীতির নগর সিলেটে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের এই পূজাতে সকল ধর্মের মানুষকেই আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায়।

আগামী ১০ অক্টোবর শনিবার পবিত্র মহালয়া অনুষ্ঠিত হবে। সিলেট নগরের মিরাবাজারস্থ শ্রীশ্রী বলরাম জিউর আখড়ায় ৩ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে মহালয়া উদ্যাপন পরিষদ, শ্রীহট্ট। ৮ অক্টোবর থেকে মহালয়ার অনুষ্ঠান শুরু হবে।

এই বছর দু’দিন মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে। ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মহাষষ্ঠী। পরদিন ১৭ অক্টোবর শনিবার মহাসপ্তমী। ১৮ অক্টোবর রবিবারও মহাসপ্তমীর তিথি।

১৯ অক্টোবর সোমবার মহাঅষ্টমী। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার শুভ বিজয়া দশমী।

বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন বলেন, ‘শারদীয় দুর্গাপূজা এই বছর আনন্দমুখরভাবেই উদ্যাপিত হবে।

শান্তিপূর্ণভাবে এবং উৎসব আনন্দে যাতে ভাটা না পড়ে সেজন্য আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি।

সকল পূজামণ্ডপকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্বক সহযোগিতাও করা হচ্ছে।’ ‘এছাড়া পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে জেনারেটর ও চার্জার লাইট প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।’

দুর্গাপূজার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার দাস বলেন, ‘সিলেট জেলায় শান্তিপূর্ণভাবে পূজা আয়োজনের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা, প্রতিটি পূজামণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা, সার্বক্ষণিক জেনারেটর রাখা এবং সরকারি সকল নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আমরা সকল পূজোর আয়োজকদের সবিনয় অনুরোধ করেছি।

আশা রাখছি, এবারও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শারদ উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপিত হবে।’

এবার দেবী দুর্গা মাতার আগমন ঘটবে ঘোটকে ও গমন হবে নৌকায়। এদিকে, আগামী ২৫ অক্টোবর রবিবার শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা ও ৮ নভেম্বর রবিবার শ্রীশ্রী শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

» সিলেটে বিশ্ব বসতি দিবস পালিত ‘সর্বজনীন বাসস্থান ও পরিকল্পিত নগরায়নের আহ্বান’

Published: ০৫. অক্টো. ২০২৬ | সোমবার

নিউজ ডেস্কঃ

“সর্বজনীন বাসস্থান টেকসই নগরায়ন” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটে আড়ম্বরপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়েছে বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬।

এ উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে দুইদিন ব্যাপি আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও বেলুন উড়িয়ে এবং আলোচনা সভা ও ইসিপিএস এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা সিলেটে পরিবেশবান্ধব ও পরিকল্পিত সুষম নগর উন্নয়নের তাগিদ দিয়েছেন।

সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মফিজুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী ওয়াসিফ আহমদ, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার সায়েম প্রধান শামীম (পিপিএম), গণপূর্ত বিভাগ সিলেট নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর প্রিনঞ্চ, সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. জাবের সাদেক, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক মোঃ বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট উন্নয়ন কতৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো সাদিউর রহিম জাদিদ।

সভাপতির বক্তব্যে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, “স্মার্ট ও টেকসই সিলেট গড়ার প্রত্যয়ে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কয়েস লোদী বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল নগরগুলোতে নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করাই বর্তমান সময়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রতিটি নাগরিকের সর্বজনীন বাসস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও আধুনিক নগর সুবিধার প্রসারে সরকার বদ্ধপরিকর।

সিলেটকে একটি বাসযোগ্য, সবুজ ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে নগর পরিকল্পনায় পরিবেশ সুরক্ষা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং সর্বসাধারণের জন্য আবাসন সুবিধা জোরদার করার ওপর আলোকপাত করেন।

সভা শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয় এবং নগর উন্নয়নের নানা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রদর্শিত হয়।

দিবসটি উদযাপনে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের পাশাপাশি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও লিডিং ইউনিভার্সিটির পুরকৌশল ও স্থাপত্য বিভাগ, ইন্সটিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ, ইন্সটিটিউট অব আর্কিটেক্টস বাংলাদেশ, ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, সিলেট অ্যাপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড আর্কিটেকচারাল কনসালটেন্সি ফার্ম যুক্ত রয়েছে।

এছাড়া নাস হোল্ডিং ভেঞ্চার বিডি লিমিটেড, বার্জার, বিএসআরএম, খাদিম সিরামিক্স ও লাফার্জসহ আবাসন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও এতে অংশ নিয়েছে।

তরুণ প্রজন্মকে পরিকল্পিত নগরায়ণে উৎসাহিত করতে চিত্রাঙ্কন, আবাসনবিষয়ক ভাবনা প্রতিযোগিতা, মডেল ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে নগরায়ণসংশ্লিষ্ট ৩০টিরও বেশি ভাবনা জমা পড়েছে। প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে।

অনুষ্ঠানে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা-কর্মচারী, নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

» এই সরকার নিত্য সামগ্রীর দাম বৃদ্ধির জন্য গদিশীন হয়েছে; গ্যাস বিদ্যুৎ গ্রাহক কল্যাণ পরিষদ

Published: ০৫. অক্টো. ২০২৬ | সোমবার

নিউজ ডেস্কঃ
গ্যাস বিদ্যুৎ গ্রাহক কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক, এডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন চৌধুরী, সদস্য সচিব মকসুদ হোসেন এক বিবৃতিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত তরলকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এলপিজির দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুই সপ্তাহ ধরে বাজারে এলপিজি সরবরাহের ঘাটতি চলছে।

সম্প্রতি কোন আলোচনা না করে রাতের আঁধারে জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির ফলে সর্বক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়েছে মারাত্বক। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এলপিজির দাম বৃদ্ধি মরার উপর খাড়ার গা।

দেশবাসীর জিজ্ঞাসা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে, রক্তাক্ত জুলাই  আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ফলাফল কি-সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক মানসিক অত্যাচার? এই সরকার কি, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির সরকার?

বর্তমানে ১২ কেজি এলপিজির দাম ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে এমনিতে নির্ধারিত দামের চেয়ে গ্রাহকগণ ৫০০/৪০০ টাকা অতিরিক্ত দিয়ে এলপিজি ক্রয় করেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।

বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোদের বিরুদ্ধে কোন একশন নেই। সবই একশন যেন সাধারণ জনগণের উপর।

শিষ্য ঋণখেলাপিদের অবলোপানকৃত লাখ লাখ কোটি টাকা ও পাওয়ারের সুবাদে যে সমস্ত রাজনীতিক, আমলা, ব্যবসায়ীরা অবৈধ সুযোগ-সুবিধা আদায় করে অস্বাভাবিক সম্পদের মালিক বনেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে কোন ডাইরেক্ট একশন নেই।

এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিনাম শুভ হবে না। সেবা খাতে ভর্তুকি বাড়ানো ও রাজস্ব ভান্ডার শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ঋণ খেলাপিদের অবলোপনকৃত লাখ লাখ কোটি টাকা ও বর্তমানে জাতীয় সংসদে ৩০০ জন এমপির মধ্যে যারা অস্বাভাবিক সম্পদের খবর গণমাধ্যমে এসেছে তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে, রাজস্ব ভান্ডার  শক্তিশালী চায় দেশবাসী।

নেতৃবৃন্দ সাধারণ মানুষেরই দুর্গতি বিবেচনায় নিয়ে সিলিন্ডার গ্যাসের বর্ধিত দাম প্রত্যাহার করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানান। অন্যথায় রাজপথে অত্র সংগঠন প্রতিবাদে নামবে।

» কোন ধরনের অপপ্রচার দেশের অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না : নাসিম হোসাইন

Published: ০৫. অক্টো. ২০২৬ | সোমবার

নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি একটি সুশৃঙ্খল ও গণমুখী রাজনৈতিক সংগঠন, যার মূল লক্ষ্যই হলো জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান বিএনপি সরকার ও দল দেশের মানুষের কল্যাণে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। কোন ধরনের অপশক্তি ও ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার দেশের এই অগ্রযাত্রা ও উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না।

তাই দলের সাংগঠনিক ভিত্তি আরও মজবুত করতে এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৃণমূল পর্যায়ের সকল নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে কাজ করতে হবে।

সিলেট মহানগরের অন্তর্ভুক্ত ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির নেতৃবৃন্দের সাথে বিমানবন্দর থানা কমিটি গঠন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রবিবার ৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় নগরীর কাজিরবাজার তোপখানাস্থ মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাসিম হোসাইন আরও বলেন, ওয়ার্ড পর্যায় থেকে যোগ্য, ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের মূল্যায়নের মাধ্যমে বিমানবন্দর থানাকে একটি শক্তিশালী সাংগঠনিক ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

আলোচনা সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

ইমদাদ চৌধুরী বলেন, দল পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় যারা অতীতে দলের দুঃসময়ে রাজপথে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছেন, তাঁদেরকেই নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে।

তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিএনপি সরকারকে বিপদে ফেলতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীরা তৎপর রয়েছে।

এই অপত্যৎপরতা রুখতে আমাদেরকে সাংগঠনিকভাবে আরো গতিশীল শক্তিশালী হতে হবে।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, সিলেট মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সাদিকুর রহমান সাদিক, ১ম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুর্শেদ আহমদ মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ সাফেক মাহবুব ও রফিকুল ইসলাম রফিক।

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ ও হুমায়ুন আহমেদ মাসুক, প্রচার সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মোহন, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল ওয়াদুদ মিলন, প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান আরাফাত চৌধুরী জাকি, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মিজান আহমদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক এবং সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম সায়েম।

বিমানবন্দর থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, বিমানবন্দর থানা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল কাদির সমছু, সদস্য সচিব সৈয়দ সরোয়ার রেজা, সদস্য লুৎফুর রহমান চৌধুরী, জাহেদ আহমদ, নুরুল হক রাজু, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদ এবং ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম রনি মজুমদার প্রমুখ।

» সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি হলেন এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মোমিন

Published: ০৫. অক্টো. ২০২৬ | সোমবার

নিউজ ডেস্কঃ

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, সিলেট জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সলিসিটর অনুবিভাগ (জিপি-পিপি শাখা) থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সিনিয়র সহকারী সচিব (জিপি-পিপি) মো. ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে সিলেট জেলার বিভিন্ন আদালতের আইন কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও অব্যাহতির তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, পূর্বে নিয়োগকৃত সকল সরকারি আইনজীবীর নিয়োগাদেশ বাতিলক্রমে তাঁদেরকে স্ব স্ব পদের দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

একই সাথে ‘Code of Criminal Procedure, 1898’ এর Section 492 এবং ‘Legal Remembrancer’s Manual, 1960’ এর ক্ষমতাবলে এডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম মোমিন (পিতা. মৃত মোহাম্মদ মনির উদ্দিন)-কে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতের নতুন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) পদে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

এডভোকেট মুমিনুল ইসলাম মোমিন ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করেন।

জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক অঙ্গনে ও আইন পেশায় পরিচিত এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সিলেট জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি আদালতের বিচারিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

» শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে : সিসিক প্রশাসক

Published: ০৪. অক্টো. ২০২৬ | রবিবার

রায়ের গ্রামে মন্দিরের উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময়

নিউজ ডেস্কঃ

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাসী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।

সম্প্রীতির নগরী সিলেটেও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে দক্ষিণ সুরমার রায়ের গ্রামে শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ মন্দিরের নির্মাণ ও উন্নয়নমূলক বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মিতালী যুব সংঘের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগরী।

অতীতে যেভাবে সিলেটে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় ছিল, ভবিষ্যতেও সেই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাইকে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্গাপূজাকে আরও উৎসবমুখর করতে এবার সহযোগিতাও বাড়ানো হয়েছে।

কেউ যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা শান্তি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এবার বরাদ্দ বাড়ানোর কথা জানিয়ে সিসিক প্রশাসক বলেন, পূজা উপলক্ষে নগরের ভাঙা সড়কগুলো মেরামত করা হবে।

পূজা মণ্ডপগুলোতে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।

এরপরও কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিলে সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, মন্দির কমিটির সভাপতি অরিন্দম দাস হাবলু। সভা পরিচালনা করেন, শৈলেন কর।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির সহসভাপতি নীহার রঞ্জন দাস বাচ্চু, মোস্তফা কামাল, শাহেদ খান স্বপন, রাসেল মাহমুদ, শ্যামল চন্দ্রনাথ, বীরেন্দ্র কর, রিপন কর, বিদ্যুৎ দাস, বাকুল কর, সীমান্ত চন্দ্র মালাকার, বিমল দে সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এর আগে সিসিক প্রশাসক তোপখানায় মন্দির পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

» সেপ্টেম্বর মাসে সিলেটের সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ২৬ জনের

Published: ০৪. অক্টো. ২০২৬ | রবিবার

নিউজ ডেস্কঃ
আগস্ট মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসে সিলেট বিভাগে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রানহানি কমেছে। সেপ্টেম্বর মাসে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জনের প্রানহানি হয়েছে।

সেপ্টেম্বর মাসে সিলেট বিভাগে ২৬টি সড়ক দূর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে ১১ জনই সিএনজি ও টমটম এর  চালক ও আরোহী।

সেপ্টেম্বর মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রানহানি ঘটেছে মৌলভীবাজার জেলায়। কম সংঘটিত হয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়।

প্রতিবেদনে সেপ্টেম্বর মাসের সড়ক দুর্ঘটনায় প্রধান কারন হিসাবে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, অনুমোদনহীন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি মহাসড়কে চলানো, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীদের মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা, পথচারীদের মধ্যে সচেতনতার অভাব ও সড়কে নির্মান ত্রুটিকে উল্লেখ করা হয়।

রবিবার (৪ অক্টোবর) নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিলেট বিভাগীয় কমিটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে সেপ্টেম্বর  মাসে সিলেট বিভাগে ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৫১ জন আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

সেপ্টেম্বর মাসে সিলেট জেলায় ৮টি  সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।

সুনামগঞ্জ জেলায় ৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন।

মৌলভীবাজার জেলায় ৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছেন ও হবিগঞ্জ জেলায় ৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়েছেন।

নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, সিলেট বিভাগীয় কমিটির সদস্য সচিব ও সিলেট জেলার সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিশু গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে জানান, পাঁচটি স্থানীয় দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পত্রিকার তথ্য, দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার তথ্য, অনুমেয় অনুজ্জ বা অপ্রকাশিত ঘটনা ও নিসচা সিলেটের শাখা সংগঠনগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে নিসচা বিভাগীয় কমিটি এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সেপ্টেম্বর মাসে সিলেট বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে ৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী, ১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১ জন সিএনজি ও টমটম চালক ও আরোহী, ১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জন চালক ও ২টি সড়ক দূর্ঘটনায় ২ জন পথচারী নিহত হয়েছেন।

এছাড়া নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি উল্টে ৮টি দুর্ঘটনায় ৬ জন, মুখোমুখি সংঘর্ষে ৮টি দুর্ঘটনায় ৯ জন, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে আঘাতে ১টি দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়েছেন।

এছাড়া সেপ্টেম্বর মাসে নিহত ২৬ জনের মধ্যে ২২ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

উল্লেখ্য, আগস্ট মাসে সিলেট বিভাগে ৩৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৭ জন নিহত ও ১২২ জন আহত হয়েছেন।

» সিলামের ঘটনায় এমপি এম এ মালিককে জড়িয়ে অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ সিলেট জেলা জিয়া মঞ্চের

Published: ০৪. অক্টো. ২০২৬ | রবিবার

নিউজ ডেস্কঃ

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলামে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত বিরোধের জেরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে, সিলেট জেলা জিয়া মঞ্চ।

একই সাথে, এই দুঃখজনক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেট-৩ আসনের জননন্দিত সংসদ সদস্য ও জাতীয়তাবাদী নেতা এম. এ. মালিকের বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে সিলেট জেলা জিয়া মঞ্চের আহবায়ক ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ দপ্তর সম্পাদক মো. সাহেদ আহমদ ও সদস্য সচিব মো. মস্তাক আহমদ মোস্তাক বলেন, “সিলামে যে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং নিহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।

তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত বিরোধের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।

তাঁরা সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম. এ. মালিকের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পাঁয়তারা করছে।”

জিয়া মঞ্চের নেতৃবৃন্দ আরও উল্লেখ করেন, এম. এ. মালিক সর্বদাই অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার।

একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ।

কোন একটি গোষ্ঠীগত সংঘাতের দায় তাঁর ওপর চাপানো বা তাঁর নাম ভাঙিয়ে ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের চেষ্টা কোনভাবেই বরদাশত করা হবে না।

নেতৃবৃন্দ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কোন নিরপরাধ ব্যক্তি যেন কোনভাবেই হয়রানির শিকার না হন এবং আসল অপরাধী যেন কোন ফাঁক-ফোকর দিয়ে পার পেয়ে না যায়।

ঘটনার নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

যেকোন ধরনের মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সচেতন সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান সিলেট জেলা জিয়া মঞ্চের নেতৃবৃন্দ।

» ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতার বিকল্প নেই : ড. নূরুল ইসলাম বাবুল

Published: ০৪. অক্টো. ২০২৬ | রবিবার

মদীনা মার্কেটে জামায়াতের ডেঙ্গু সচেতনতা কর্মসূচি

নিউজ ডেস্কঃ
সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ও আসন্ন সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী ড. নূরুল ইসলাম বাবুল বলেছেন, সারাদেশের মতো সিলেটেও ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
বাসাবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি অপসারণসহ মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে সম্মিলিতভাবে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, পরিচ্ছন্নতা, মশকনিধন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।

জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিত ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তুলতে তিনি সকলের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
নাগরিকদের কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

তিনি রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে কেন্দ্রঘোষিত কর্মসুচীর অংশ হিসেবে নগরীর মদীনা মার্কেট এলাকায় সিলেট মহানগরীর জালালাবাদ থানা জামায়াত আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।

এসময় স্থানীয়দের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

জালালাবাদ থানা জামায়াতের আমীর ক্বারী আলাউদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি উবায়দুল হক শাহীনের পরিচালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন, ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন, জামায়াত নেতা আশফাক আহমদ চৌধুরী আনাস, মঈনুল ইসলাম চুন্নু, মাওলানা খলীলুর রহমান, ফয়সল আহমদ আব্দুল মজিদ ও শামসুর রহমান প্রমুখ।

এসময় জালালাবাদ থানা জামায়াত ও বিভিন্ন ওয়ার্ড-ইউনিটের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক স্থানীয় জনতা উপস্থিত ছিলেন।

» প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ; মৃত চেলায় দিনরাত ড্রেজার, ৪৮ ঘণ্টায় ২০ কোটি টাকার বালু লুটের অভিযোগ, দেখার কেউ নেই

Published: ০৪. অক্টো. ২০২৬ | রবিবার

পরিবেশ-প্রতিবেশ হুমকিতে, বিলীন কলাবাগান-গেদুর ঢালা; বিএনপি-আওয়ামী লীগ-জামায়াতের সমর্থকদের যোগসাজশের বালু লুটপাট চল‌ছে!

ছাতক প্রতি‌নি‌ধিঃ
সুনামগঞ্জের ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তঘেঁষা চেলা নদীর একটি অংশ এখন বালু উত্তোলনের ভয়াবহ চাপে বিপর্যস্ত।

স্থানীয়ভাবে ‘মৃত চেলা’ নামে পরিচিত নদীর ওই অংশে দিন-রাত চলছে ড্রেজার ও সেভ মেশিন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শতাধিক ড্রেজার ও বালু উত্তোলনকারী যন্ত্র বসিয়ে নির্বিচারে নদীর তলদেশ থেকে বালু তোলা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় অন্তত ২০ কোটি টাকার বালু উত্তোলন করা হয়েছে।

অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। কোথাও তৈরি হচ্ছে গভীর গর্ত, কোথাও ভেঙে পড়ছে নদীর তীর।

এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বসতবাড়ি, কৃষিজমি, সড়ক, মসজিদ, মাদ্রাসা ও কবরস্থানের ওপর। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এখনই বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে আগামী বর্ষা মৌসুমে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দা‌বি,দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের কারণে কলাবাগান ও গেদুর ঢালা নামে পরিচিত দুটি বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একসময় ‘গেদুর ঢালা খাল’ নামে পরিচিত এলাকাটি বর্তমানে বিশাল জলভাগে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কোনো কোনো স্থানে এর বিস্তৃতি মূল চেলা নদীর অংশবিশেষকেও ছাড়িয়ে গেছে।

নদীর তীর ও গতিপথের এমন পরিবর্তনে আশপাশের অন্তত ১০টি গ্রামের মানুষের মধ্যে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেক কৃষক কৃষিজমি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

নদীর কাছাকাছি থাকা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।

রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে একটি শক্তিশালী প্রভাবশালী চক্র গড়ে ওঠার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে ওই চক্র নদী থেকে বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের সমর্থকদের বিভিন্ন অংশের লোকজন পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করে এই বালু উত্তোলন কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করছেন।

তবে এসব অভিযোগের ঘটনা পু‌লিশ প্রশাসনকে ম‌্যা‌নেজ করে এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতা বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের নেতৃ‌ত্বে বালু লুটপা‌টের কর্মকান্ড চল‌ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, শতাধিক ড্রেজার যদি প্রকাশ্যে দিন-রাত নদীতে চলতে পারে, তাহলে এসব যন্ত্রের মালিক কারা, কার অনুমতিতে বা কীভাবে তারা নদীতে অবস্থান করছে এবং উত্তোলিত বালু কোথায় যাচ্ছে-এসব বিষয় খতিয়ে
দে‌খে ও না দেখার বান কর‌ছে।

তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে শ্রমিকদের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন অভিযান হলেও মূল নিয়ন্ত্রকেরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এসব দেখার কেউ নেই।

নৌ পু‌লিশ থানা পু‌লিশ ও উপ‌জেলা প্রশাসন ম‌্যা‌নেজ করে প্রতিরা‌তে বালু উত্তোলন কর‌ছে প্রভাবশালী সি‌ন্ডি‌কেট। সীমানা জটিলতায় সমন্বয়ের ঘাটতি মৃত চেলা নদীর সংশ্লিষ্ট অংশে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক সীমানা নিয়ে জটিলতা রয়েছে।

এসব এলাকাটি প্রশাসনিকভাবে দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংহপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হলেও সংশ্লিষ্ট মৌজা ছাতক উপজেলায় ইসলামপুর ইউপির জ‌নৈক প্রতি‌নি‌ধির নেতৃ‌ত্বে প্রতিরা‌তে লুটপা‌ট অবা‌ধে চল‌ছে।

দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, নদীপথের বিস্তৃতি এবং পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় নিয়মিত নজরদারি করাও কঠিন বলে জানিয়েছে প্রশাসন ও পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রশাসনিক জটিলতার সুযোগেই বালু উত্তোলনকারীরা বারবার নদীতে ফিরে আসছে।

তাঁদের দাবি, দুই উপজেলার প্রশাসন, পুলিশ, নৌ-পুলিশ, আনসার ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

অভিযান হলেও থামছে না বালু তোলা সম্প্রতি রাতে দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসনের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে দুই শ্রমিককে আটক করে।

পরে তাঁদের এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযানে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজারগুলো জব্দ করা হয়নি। অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও নদীতে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে বলে তাঁদের দাবি।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু শ্রমিক আটক করে বা জরিমানা দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব নয়। বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার, সেভ মেশিন ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি জব্দ করার পাশাপাশি অর্থের উৎস এবং মূল নিয়ন্ত্রকদের শনাক্ত করতে হবে।

পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব হাওর এরিয়া আপলিফটমেন্ট সোসাইটির (হাউস) নির্বাহী পরিচালক সালেহীন চৌধুরী শুভ বলেন, মৃত চেলা নদীতে যেভাবে বালু উত্তোলন চলছে, তাতে নদীর পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর প্রভাব আশপাশের জনবসতি ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর পড়তে পারে।

তিনি নদীভাঙন রোধ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত যৌথ টাস্কফোর্সের কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।

ছাতক নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক অরবিন্দ সরকার নদীতে বালু উত্তোলন এবং তীরবর্তী এলাকার ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সীমাহীন বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ও কলাবাগান এলাকার ক্ষতি দৃশ্যমান।

এ ঘটনায় গত সেপ্টেম্বরে ছাতক নৌ-পুলিশের পক্ষ থেকে একা‌ধিক মামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়মিত অভিযান চালানো হলেও পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় ২৪ ঘণ্টা নদী এলাকায় পাহারা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরূপ রতন সিংহ বলেন, এলাকাটি ভৌগোলিকভাবে দুর্গম এবং সেখানে যাতায়াত কঠিন।

এ কারণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে মোবাইল কোর্ট ও টাস্কফোর্সের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ছাতক নৌ-পুলিশের একটি স্থায়ী বা অস্থায়ী ফাঁড়ি স্থাপন করা প্রয়োজন। পুলিশ, নৌ-পুলিশ, আনসার ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

এব‌্যাপা‌রে সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মহাইমিনুল হক বলেন, অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর প্রতিবেশব্যবস্থা ও স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় টাস্কফোর্সের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

নদী বাঁচাতে কঠোর পদক্ষেপের দাবি স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় যারই হোক, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

একই সঙ্গে ড্রেজার ও সেভ মেশিন জব্দ, বালু পরিবহন বন্ধ এবং উত্তোলিত বালুর পরিমাণ ও অর্থনৈতিক লেনদেন খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তাঁদের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মৃত চেলার তীরবর্তী আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। হারিয়ে যেতে পারে কৃষিজমি, বসতভিটা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

প্রশ্ন উঠেছে-শতাধিক ড্রেজার দিয়ে যদি দিন-রাত নদীর বুক চষে বালু তোলা হয়, তাহলে এই বিপুল বালু উত্তোলনের পেছনে কারা? কোথায় যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার বালু?

আর নদী ও জনপদ ধ্বংসের এই দায়ই বা নেবে কে? মৃত চেলা নদী এখন শুধু বালু উত্তোলনের জায়গা নয়; এটি হয়ে উঠেছে নদী, পরিবেশ ও জনপদ রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকারিতা যাচাইয়েরও একটি বড় পরীক্ষা।

» গণমানুষের কবি দিলওয়ার এর ১৪তম মৃত্যৃবার্ষিকী ১০ অক্টোবর

Published: ০৪. অক্টো. ২০২৬ | রবিবার

নিউজ ডেস্কঃ
দেশের বরেণ্য ও বিশিষ্ট কবি অনুবাদক গীতিকার, ছাড়কার বাংলা একাডেমী ও একুশে পদকপ্রাপ্ত গণমানুষের কবি দিলওয়ার এর ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬ইং শনিবার।

এ উপলক্ষ্যে কবি’র দক্ষিন সুরমাস্থ নিজ বাড়িতে দেশ বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কবি’র অগনিত পাঠক, ভক্তবৃন্দ, অনুরাগী সহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সংগঠন ভোর থেকে দিনব্যাপী সম্মিলিত ও সমন্বিতভাবে কবি’র কবরে শ্রদ্ধা স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পন আলোচনা সভা ও এক দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হবে।

সকাল ১১টায় দক্ষিন সুরমা সাহিত্য পরিষদ কবি ভবনে তার জীবন স্মৃতির আলোচনা সভা করবে।

এদিন বিকাল ৩টায় বৈশাখী যুব কল্যাণ পরিষদ নজরুল একাডেমী সিলেটে কবি’র অনুরাগীদের নিয়ে এক আলোচনা সভা করবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিষ্ট আফতাব চৌধুরী।

এসকল অনুষ্ঠান সূচীতে রয়েছেন, কবি দিলওয়ার পরিষদ, কবি’র পরিবার, স্বজন, এলাকাবাসী, দক্ষিণ সুরমা সাহিত্য পরিষদ। মাসিক প্রতিভাত পত্রিকা পরিবার, পাঠক, শুভানুধায়ী, বৈশাখী যুব কল্যাণ পরিষদ, বাংলাদেশ বাউল সমিতি সিলেট জেলা শাখা, অনলাইন চ্যানেল মাই সিলেট টিভি, স্বপ্নছায়া সমাজ কল্যাণ পরিষদ জকিগঞ্জ, অনলাইন মিডিয়া টাচ অব সিলেট, অংকুর সাহিত্য পাঠাগার সিলেট, আমাদের ডাক পত্রিকা পাঠক ও পরিবার, অনুপ্রাণন সাহিত্য পত্রিকা, জকিগঞ্জ সাহিত্য সংসদ (জাসাস), সিলেট ভিউ-ইনু সিটি স্যাটেলাইট স্কুল, একুশে নেট এন্ড প্রিন্টিং, বাংলাদেশ পোয়েট্স ক্লাব, সহ সর্বস্তরের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তি ও সংগঠন সমূহ।

অনুষ্ঠান সমূহে মত ও পথের সমাজের সকলের অংশগ্রহণ করার জন্য সবার পক্ষ থেকে কবি দিলওয়ার পরিষদের আজীবন সদস্য কামাল আহমদ আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।

Callender

October 2026
M T W T F S S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031